ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ৩০ মার্চ ২০১৭
Risingbd
মার্চ
সর্বশেষ:

ইসি পুনর্গঠনে আ.লীগের ১৫ প্রস্তাব ও সুপারিশ

এনআর : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১১ ১০:০৮:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১৬ ৫:৩২:২৯ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে চারটি প্রস্তাব ও ১১টি সুপারিশ তুলে ধরেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বুধবার বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপকালে এসব প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

বুধবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব ও সুপারিশের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের প্রস্তাবনাগুলো হলো- ১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দান করা, ২. প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যেরূপ উপয্ক্তু বিবেচনা করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন, ৩. প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। সময়স্বল্পতার কারণে ইসি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং ৪. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে বিরাজমান সব বিধিবিধানের সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং চালু করা।

এ ছাড়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইসি পুনর্গঠনে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরে। সুপারিশগুলো হলো- ১. একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন, ২. নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা, ৩. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষ আচরণ, ৪. ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা, ৫. নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ করা, ৬. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ, ৭. দেশি/বিদেশি পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ/নির্লোভ তৎপরতা, ৮. নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা, ৯. নির্বাচনের পূর্বে ও পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্ব সাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ১০. নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা, ১১. নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবলমাত্র আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ইস্যুতে এ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করলেন রাষ্ট্রপতি।

বুধবার বিকেলে ইসি পুনর্গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে যায়।

আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সদস্য এইচ টি ইমাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, আহমদ হোসেন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দেলোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুকুল বোস, রিয়াজুল কবির কাওছার, মারুফা আকতার পপি, আমিরুল আলম মিলন, ইকবাল হোসেন অপু, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ জানুয়ারি ২০১৭/এনআর/রফিক

Walton Laptop