ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৩ মে ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন না বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফার মা

ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১৭ ২:০২:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২০ ১০:৪১:৫৭ পিএম

ভোলা প্রতিনিধি : স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও ছেলের কথা মনে পড়লে কান্নায় ভেঙে পড়েন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের মা মালেকা বেগম। অভাব অনটনের মধ্যে বয়সের ভারে ন্যুব্জ এ বৃদ্ধা এখন মৃত্যুর প্রহর গুণছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মালেকা বেগমের চিকিৎসা করানো তাদের পক্ষে সম্ভব না। তাদের একটাই দাবি, শেষ জীবনে যেন তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। আর বয়সের ভারে ন্যুব্জ এ বৃদ্ধার শেষ ইচ্ছা- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি যেন এমপিওভুক্ত হয়।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা সেনাবাহিনীর হাবিলদার হাবিবুর রহমান ও মালেকা বেগমের সন্তান মোস্তফা কামাল। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সেনা বাহিনীতে যোগ দেন মোস্তফা কামাল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল শহীদ হন।

মেঘনার ভাঙনে হাজীপুর গ্রামের বাড়িটি বিলীন হয়ে গেলে ১৯৮২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের পরিবারকে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপি গ্রামে ৯২ শতাংশ জমি দিয়ে একতলা পাকা বাড়ি বানিয়ে দেন। সেই বাড়িতে ছোট ছেলের নাতিদের সঙ্গে বসবাস করছেন মালেকা বেগম। তবে বাড়িটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এ ব্যাপারে মালেকা বেগমের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি জানান, তার বাবা, শ্বশুর, ভাশুর, ভাশুরের ছেলে এবং নিজের ছেলে মোস্তফা কামাল সবাই সেনাবাহিনীতে চাকরিতে ছিলেন। এখন আর তারা কেউ নেই। তার ছেলের জন্য বহু কেঁদেছেন। এখন আর কাঁদেন না।

তিনি বলেন, আমার দুই নাতিকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। চাকরি পেলে সংসার আর একটু ভালভাবে চলত। অভাব দূের হতো। 

মালেকা বেগম এখন ডায়াবেটিস, হাঁপানিসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। স্বাভাবিক চলাফেরা করতেও তার কষ্ট হয়। কিন্তু উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না বলে জানান তার পুত্রবধূ।

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নামে আলী নগর এলাকায় ২০০৪ সালে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু এক যুগেও কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি।

মালেকা বেগম জানান, ছেলের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি এখনা এমপিওভুক্ত হয়নি। মৃত্যুর আগে তিনি কলেজটির এমপিওভুক্তি দেখে যেতে চান।

ভোলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের মা মালেকা বেগমকে প্রতিবছরের মতো এবারও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হবে।



রাইজিংবিডি/ভোলা/১৭ মার্চ ২০১৭/ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন/বকুল/রুহুল

Walton Laptop