ঢাকা, রবিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

এমবিবিএসের রেজাল্টের আগেই হারিয়ে গেলেন পিয়াস

বাদল সাহা : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৩ ২:৪২:১৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-১৩ ৪:৪২:১৭ পিএম
পিয়াস রায়

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ : এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষ, তাই বেড়াতে হিমালয় কন্যা নেপালে গিয়েছিলেন ভ্রমণপিপাসু পিয়াস রায়। কে জানতো, এই যাওয়াই শেষ যাওয়া তার!

চিকিৎসা সেবায় আর নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া হলো না মেডিকেলের মেধাবী ছাত্র পিয়াসের। কাঠমান্ডুর ত্রিভূবনে বিমান দূর্ঘটনায় নিভে গেল এই জীবনপ্রদীপ।

আর মাত্র দেড় মাস পর এমবিবিএস পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ হবে। রেজাল্ট শিটে নিশ্চয়ই তার উত্তীর্ণ হওয়ার খবরও থাকবে কিন্তু থাকবেন না পিয়াস। পিয়াসের মৃত্যুতে শোকের ছায়া তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জুড়ে। তাই বন্ধ রাখা হয়েছে গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম।

বরিশাল নগরীর গফুর সড়কের মধুকাঠি ভবনের সন্তান পিয়াস। বাবার নাম সুখেন্দ্র বিকাশ রায়। দুই ভাই বোনের মধ্যে সে বড়। ছোট বোন শুভ্রা বরিশালে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী প্রথম বর্ষের ছাত্রী।

মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা শেষে ৫ দিনের জন্য নেপাল গিয়েছিলেন পিয়াস। কিন্তু নেপালের মাটি স্পর্শ করার আগেই চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেলেন। দু’চোখ ভরে দেখা হলো না হিমালয়। ঘোরা হলো না হিমালয়ের দেশ।

পিয়াসের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান তার মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কলেজর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কালোব্যাজ ধারণ করে ক্যাম্পাসে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। সেই সাথে কলেজের ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম একদিনের বন্ধ রাখা হয়েছে। সন্ধ্যায় রয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে শোক জানানোর কর্মসূচী।

 

ক্যাম্পাসে পিয়াসের জন্য সহপাঠিদের শোকপ্রকাশ

কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মোঃ নুরুল আফসার বলেন, ‘পিয়াস ছিলেন অসাধারন মানুষ। পড়াশোনার পাশাপশি সব বিষয়ে তার দক্ষতা ছিল। সময় আর সুযোগ পেলেই সে ঘুরতে বের হতেন। কিছু দিন আগেই ভারত থেকে ঘুরে এসেছেন। ভ্রমণের বিভিন্ন কাহিনী সে সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতেন। নেপাল যাওয়ার আগেও সে অনেক সহপাঠীকে বলে গিয়েছিলেন দেশে ফিরে নেপাল ভ্রমনের গল্গ শোনাবেন।’

কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, সংযুক্তাসহ আরো কয়েকজন জানালেন, অনেক ভাল মনের মানুষ ছিলেন পিয়াস। সময় পেলেই সবাইকে নিয়ে মেতে থাকতেন।

শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘পিয়াস ছিল সর্বদাই হাস্যোজ্জ্বল। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সৃজনশীল কাজের সাথেও সম্পৃক্ত ছিল সে।’

তিনি পিয়াসের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে বলেন, ‘বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের ক্ষেত্রে যেন আরো সর্তকতা গ্রহণ করা হয়। যাতে অকালে কাউকে আর জীবন দিতে না হয়।’



রাইজিংবিডি/গোপালগঞ্জ/১৩ মার্চ ২০১৮/বাদল সাহা/টিপু

Walton Laptop
 
     
Walton