ঢাকা, বুধবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৩, ২৯ মার্চ ২০১৭
Risingbd
মার্চ
সর্বশেষ:

‘কৃষি উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের ব্যবহার প্রয়োজন’

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১০-১৬ ১০:৪৭:৫০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৬-১০-১৬ ১১:০৮:৩৮ এএম

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এখনো প্রান্তিক পর্যায়ে চাষাবাদ এবং কৃষি বিপণন অবহেলিত রয়ে গেছে। কৃষিকে মূলধারার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে সম্পৃক্ত করে ব্যবসা পরিচালনা করার বিষয়টি দেশে প্রথমবারের মতো দেখিয়েছে দেশের অন্যতম স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এসিআই লিমিটেড।

 

বিশাল এই প্রতিষ্ঠানের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এসিআই এগ্রোবিজনেস। এই প্রতিষ্ঠান চাষ থেকে শুরু করে ফসল বাজারজাতকরণ পর্যন্ত যা কিছু প্রয়োজন সব উপকরণই দিচ্ছে। শুধু ফসল নয়- মাছ ও গবাদিপশুর ক্ষেত্রেও একই সেবা রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎএই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। কৃষকের জন্য সমৃদ্ধ কৃষি নিয়েও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। কৃষিপণ্য ব্যবসায় একের পর এক সফলতার গল্পও তৈরি হয়েছে তাদের। আর তাই কৃষি, কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটির অবদান দিন দিন বেড়েই চলছে।

 

কৃষি ব্যবসায় এ প্রতিষ্ঠানের সফলতার গল্পের মূল কারিগর এসিআই লিমিটেডের (এগ্রোবিজনেস) নির্বাহী পরিচালক ড. ফা হ আনসারী। তার কর্মপরিকল্পনা, দূরদর্শিতা এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় পলিসি, সব মিলিয়ে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে এসিআই এগ্রোবিজনেস।  রাইজিংবিডি ডটকমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন এসিআই এগ্রোবিজনেসের শুরুর গল্প, আগামীদিনের পথচলার পরিকল্পনা, কৃষি এবং কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন ইত্যাদি প্রসঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাইজিংবিডির প্রধান প্রতিবেদক হাসান মাহামুদ।

 

রাইজিংবিডি : দেশের বর্তমান কৃষি ব্যবস্থা সর্ম্পকে আপনার মূল্যায়ন?
ড. ফা হ আনসারী : এক সময় বাংলাদেশে জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম ছিল কৃষি। দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ কৃষিকাজের সাথে জড়িত ছিল । কিন্তু বর্তমানে সেই অবস্থা আর নেই। এখন শিল্পায়নের যুগ। তাই বলে কৃষির আবেদন শেষ হয়ে যায়নি, যাবেও না। শুধু কিছুটা প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে বলা যায়।

 

খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, মোট জাতীয় উৎপাদনে বিপুল অবদান এবং সর্বাধিকসংখ্যক কর্মসংস্থানের উৎস হওয়া সত্ত্বেও দেশের সার্বিক চাহিদা ও কৃষির বর্তমান উৎপাদনের মধ্যে এখনো বিপুল পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে। দেশের প্রধান প্রধান আমদানি দ্রব্যের তালিকায় নজর দিলে বিষয়টি আরো সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়। দেশের কৃষি খাতে বেশকিছু সম্ভাবনা রয়েছে, রয়েছে প্রতিবন্ধকতাও। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে পারলেই মূলত আমরা কৃষির প্রকৃত স্বাদ পেতে পারি।

 

কৃষির সম্ভাবনা বলতে, মোট জাতীয় উৎপাদনে একক বৃহত্তম খাত হিসেবে কৃষিই সর্বাধিক অবদান রাখছে, শস্য উৎপাদন পদ্ধতি ব্যাপকভাবে শ্রমঘন এবং কৃষি খাতে বিদ্যমান উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তি, দক্ষ ও অদক্ষ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান কৃষি খাতই বৃহত্তম উৎস, বছরব্যাপী বিদ্যমান অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, জৈব বৈচিত্র্যের ব্যাপক সমাহার, বিভিন্ন প্রজাতির শস্য এবং কৃষিজ উৎপন্ন হলো আমিষ, খনিজ ও ভিটামিনের প্রধান উৎস এবং সর্বোপরি কৃষিজাত উৎপন্নের ক্ষেত্রে অন্যান্য উৎপাদনের চেয়ে অধিকতর মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে।  আবার প্রতিবন্ধকতাও কম নয়। কৃষি ব্যবস্থা প্রকৃতির খেয়াল খুশির ওপর নির্ভরশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ, আবাদযোগ্য ভূমির লভ্যতা ক্রমাগতভাবে কমে যাচ্ছে, কৃষিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান ব্যাপক দারিদ্র্য, কৃষি কাজের অন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব, কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উপযুক্ত আধুনিক প্রযুক্তির স্বল্পতা, অনুন্নত ও দুর্বল বাজার ব্যবস্থার কারণে কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, কৃষিজ উৎপন্নসমূহ দ্রুত পচনশীল এবং ফসল-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যধিক এবং ফল এবং শাক-সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিজ উৎপন্নের পুষ্টিমান সমন্ধে সাধারণ মানুষের সীমাবদ্ধ জ্ঞান।

 

এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। কৃষিকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। শুধুমাত্র ব্যক্তি পর্যায়ের বা কৃষক পর্যায়ের খাত বললে একে, ভুল বলা হবে। কৃষির উন্নয়নে এখন প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ব্যবহার করা করতে হবে। বৈচিত্র্য আনতে হবে কৃষিতে। তাহলেই কেবল কৃষির সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া সম্ভব।

 

রাইজিংবিডি : এসিআই কৃষি ও কৃষকদের নিয়ে কাজ করছে। আপনার প্রতিষ্ঠান এ পর্যন্ত কৃষিতে কী ধরনের বৈচিত্র্য এনেছে?
ড. ফা হ আনসারী : এসিআইর ভিশন কৃষকদের সম্পদ বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে আমরা কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।  ২০০১ সালে বাংলাদেশে ‘হাইব্রিড ধান’ প্রথম আমরাই এনেছি। হাইব্রিড ধানের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই ধানের ফলন অনেক বেশি, কৃষক বেশি লাভবান হয়। কম দামে বিক্রি করলেও পোষায়।

 

তিন থেকে চার বছর আগে বার্ড ফ্লুর জন্য মুরগির মাংসের দাম বেড়ে গিয়েছিল। হাজার হাজার খামারীর মাথায় হাত পড়েছিল।  পোল্ট্রি খাতে বলা চলে, একপ্রকার ধস নেমেছিল। ২০১২-১৩ সালে আমরাই প্রথম দেশে কার্যকরী বার্ডফ্লুর ভ্যাকসিন এনেছি।  আজ সেই হাহাকার আর নেই।

 

গত বছরও শ্রমিকের মজুরি বেশি বলে কৃষক জমির ধান না কেটে ফেলে রেখে ছিল। আমরা ধান কাটার মেশিন এনেছি। তুলনামূলক ভালো মানের ভ্যারাইটি টমেটোসহ ফুলকপি, লাউ উদ্ভাবন করেছি। কৃষকের মূল সমস্যা হলো- ভালো বীজ, সারসহ উন্নত কৃষি উপকরণ ঠিকমতো না পাওয়া। ফসল হার্ভেস্ট করতে গিয়েও সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। প্রাকৃতিক নানা প্রতিকূলতা তো আছেই। সর্বশেষে কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এ কারণে আমরা বললাম, এসব সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান দেব। যা বাস্তবে এখন কৃষকরা পাচ্ছেন।

 

রাইজিংবিডি : কৃষিখাতে প্রতিবন্ধকতার কথা বলছিলেন।  প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এ খাতে আর কি কি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে?
ড. ফা হ আনসারী : কৃষিখাতে শুরু থেকেই কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, আমরা শিখে ফেলেছি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে কিভাবে তা মোকাবেলা করতে হয়। রাজনৈতিক সমস্যা থাকতে পারে। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় এটাও মোকাবেলা করা শিখে গেছি। আমরা দেখেছি অনেক সময় ধানের দাম কমে যায়। এতে কৃষকের লাভ কম হয়। আমরা উৎপাদন বাড়িয়ে চেষ্টা করেছি ভারসাম্য আনার। প্রতিবন্ধকতা অনেক বেশি। সবকিছুর হিসাব কষে আমরা প্রতিবন্ধকতা জয় করতে শিখেছি। সমুদ্রে যারা যাত্রা করেন তারা জানেন বিপদ আসতে পারে, ঝড় উঠতে পারে, দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবুও প্রয়োজনে তারা যাচ্ছেন। আমাদের অনেক শঙ্কা আছে, ঝুঁকি আছে। তবুও কৃষির জন্য, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য, দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি নিতে প্রস্তত আমরা।

 

 

রাইজিংবিডি : কৃষিকে সামনে রেখে এসিআইর ব্যবসা সম্প্রসারণে কি কি পরিকল্পনা রয়েছে?
ড. ফা হ আনসারী : এসিআই একমাত্র কোম্পানি যা কৃষি ও কৃষকের সবগুলো বিষয় নিয়ে কাজ করে।  দেশের আরো কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তবে তারা করছে বিচ্ছিন্ন ভাবে। অর্থ্যাৎ আমরা এককভাবে যে মিশন ও ভিশন নিয়ে কৃষিব্যবসা করছি তা অন্যরা হয় কীটনাশক, না হয় সার অথবা ট্রাক্টর নিয়ে কাজ করছে। 

 

বিভিন্ন এনজিও থেকে শুরু করে সরকার পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলে আসছে। আমরা শুধু খাদ্য নিরাপত্তার কথা ভাবি না, কৃষকদের সমৃদ্ধি নিয়েও চিন্তা করি। কৃষক কিভাবে তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাবেন, কিভাবে বাড়িঘর সুন্দর করবেন সে বিষয়েও আমরা ভাবি। আমরা মনে করি জাপানের লোকরা যদি গাড়ি বানিয়ে সম্পদশালী হয়, আমাদের কৃষি দিয়েই সম্পদশালী হতে হবে। ভালোভাবে বুঝতে পারলে কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। সেজন্য লাগবে টেকনোলজি, যন্ত্রপাতি, উন্নত পণ্যে রূপান্তর করার কৌশল। এসব আমরা শুরু করেছি ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছি।

 

বীজের জন্য আমরা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে মলিকুলার ল্যাবরেটরি করেছি, যেখানে ডিএনএ মার্কার দিয়ে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করছি। সারের ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের সার সরবরাহ করি। সাধারণ সারে শুধু গাছের বৃদ্ধিই হয়। কিন্তু গাছের ফলন বৃদ্ধি করতে, ফল মিষ্টি করতে ও তাড়াতাড়ি পাকাতে নিউট্রিশন লাগে। নিউট্রিশন বলতে অন্তসার, যেমন- জিংক, বোরন, ম্যাগনেশিয়াম ইত্যাদি। এসব উপাদান যুক্ত করে আমাদের তৈরি বিশেষ ধরনের সার বাজারজাত করছি। পশুর জন্য ওষুধ তৈরি করছি। পশুর পুষ্টির জন্য খাবার দিচ্ছি। মাছের জন্য পুকুর পরিষ্কার থেকে শুরু করে মাছের স্বাস্থ্য ভালো রাখাকে প্রাধান্য দিচ্ছি।

 

আমাদের ফ্যাক্টরিতে মুরগি, গরু এবং মাছের তিন ধরনের উন্নতমানের খাবার তৈরি হচ্ছে। প্রত্যেকটি ব্যবসায় আমরা মূলধন বিনিয়োগে দেখতে পাচ্ছি এর ভবিষ্যৎ আছে। এসিআই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৃষিভিত্তিক কোম্পানি। এটা সম্ভব করেছি আমরা গত কয়েক বছরে।

 

রাইজিংবিডি : ‘ব্যবসায়িকভাবে কৃষি খাতের সম্ভাবনা’ কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ড. ফা হ আনসারী : এসিআইর সবচেয়ে বড় ব্যবসা কৃষি। আমরা মনে করি কৃষিতেই সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কৃষিতে এখনো অনেক বড় প্রতিষ্ঠান আসেনি। এটা এমন একটা ব্যবসা যেখানে বাইরের ইন্ডাস্ট্রি থেকে লোক এনে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। এখানে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের তৈরি মেধা ব্যবহার করতে হবে, যেটা আমরা করি। সবমিলিয়ে কৃষিতে সম্ভাবনা বেশি দেখছি, এটাকেই সম্প্রসারিত করব।

 

রাইজিংবিডি : সমৃদ্ধ কৃষকের কথা বলছেন। কিন্তু আমরা দেখছি কৃষক পণ্য উৎপাদন করে এখনো ন্যায্যমূল্য পায় না। এক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম কি?
ড. ফা হ আনসারী : ধানের কথাই বলি। এখন কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। প্রথমত আমরা যে কাজটা করি- কৃষকদের যে বীজ দেই তা অধিক উৎপাদনশীল। ভিয়েতনামের কথাই বলি। ভিয়েতনামে গড়ে প্রতি হেক্টরে ধান উৎপাদন হয় ছয় টন। সেখানে আমাদের দেশে প্রতি হেক্টরে হয় মাত্র ৩ দশমকি ৫ থেকে ৪ টন। এই পার্থক্য জাত বৈচিত্র্যতার জন্য। এখন এক কেজি ধান উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ২০ টাকা। উৎপাদন বাড়লে কেজিপ্রতি খরচ পড়বে ১৩ থেকে ১৪ টাকা। এবার যদি কৃষক ২০ টাকাও বিক্রি করে তাতেও তার ছয় থেকে সাত টাকা লাভ হবে।

 

এরপর আরেকটা বিষয়। কৃষক কেন মৌসুমেই ধান বিক্রি করে। কারণ তাদের পূর্বের ঋণ থাকে। আমরা এখানে যে কাজটা করছি- আগেই তাদের ক্রেডিটে সমস্ত ইনপুট দিচ্ছি। যাতে করে তারা সুবিধাজনক সময়ে ফসল বিক্রি করে টাকা ফেরত দিতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি ব্যাংকারদের অনুরোধ করে মৌসুমে তাদের ঋণ পেতে। এতে কৃষক চাষ করল, ফসল উৎপাদন করে ঘরে তুলল। এরপর সুবিধামতো বিক্রি করে ঋণ শোধ করল। এতে দুটো উপকার হয়। একদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন খরচ কমলো, আরেক দিকে বিক্রি করার তাড়াহুড়ো থাকলো না। তাতে নায্যমূল্যও পেলো এবং লাভবানও হলো। এইভাবেই তো কৃষক সমৃদ্ধশালী হবে।

 

রাইজিংবিডি : এখনো কৃষির বড় চ্যালেঞ্জ বাজার ব্যবস্থাপনা। এক্ষেত্রে সরকারের কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত?
ড. ফা হ আনসারী : মুক্তবাজার ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা সরকারকে জড়াই। সরকারের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করি। আমার মনে হয়, যেসব পণ্য দেশে উৎপাদন করা সম্ভব তা দেশেই উৎপাদন করা উচিত। এ কারণে সরকারের নীতিনির্ধারণ এমন ভাবে করা দরকার যাতে স্থানীয় কোম্পানিগুলো উদ্বুদ্ধ হয়। ভ্যাটসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাক্স নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশীয় শিল্পগুলো যেন দাঁড়াতে পারে সেদিকে সরকারের মনোযোগী হওয়া উচিত।

 

রাইজিংবিডি : এসিআইর মতো অন্য আরও কোম্পানি আসুক, আপনারা কি তা চান?
ড. ফা হ আনসারী : সত্যিকারে কৃষিতে উন্নয়ন ঘটাতে অনেক কলাকৌশল থেকে শুরু করে সম্পদ প্রয়োজন। সেখানে যদি আমাদের প্রতিযোগী কিংবা সহযোগী এসে প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে বাজার সম্প্রসারণ করে এতে কৃষকরা উৎসাহিত হবেন। প্রয়োজনের তুলনায় আমরা মাত্র ২০-২৫ ভাগ সরবরাহ করি। এটুকু যথেষ্ট নয়। তাই নতুন কেউ আসতে চাইলে তাদের স্বাগত জানাই। আমরা বীজ উৎপাদন করি এবং আমাদের প্রতিযোগিদের দেই। তারা প্যাকেট করে তাদের নামে বাজারজাত করে। আমরা অনেক কিছুই উৎপাদন করি তারা আমাদের কাছ থেকে নেয়। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে।

 

রাইজিংবিডি : নতুন যারা আসতে চায় তাদের জন্য কি পরামর্শ দিবেন?
ড. ফা হ আনসারী : যারা আসতে চায় তাদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসা উচিত। প্রথমত, দক্ষ লোক সংগ্রহ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত কোনো একটি সেক্টরকে ফোকাস করে এগুতে হবে। চতুর্থত, উন্নত প্রযুক্তি দেশে নেই খুব একটা। যেসব প্রযুক্তি আছে তা অনেক ক্ষেত্রে ভালো ফল দেয় না। ভালো কিছু করার ক্ষেত্রে বাহির থেকে এসব নিয়ে আসতে হবে।

 

রাইজিংবিডি : অনলাইন নিউজপোর্টাল রাইজিংবিডিকে আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ড. ফা হ আনসারী : রাইজিংবিডি ডটকমকেও অনেক ধন্যবাদ।  

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ অক্টোবর ২০১৬/হাসান মাহামুদ/এনএ

Walton Laptop