ঢাকা, শুক্রবার, ৭ মাঘ ১৪২৩, ২০ জানুয়ারি ২০১৭
Risingbd
 
সর্বশেষ:

কেডিএ’র আয়তন বাড়ল ৩৭৩ বর্গ কিলোমিটার

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১০ ৮:০৪:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১০ ৮:০৪:৫৮ পিএম

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা : খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-কেডিএ মোংলা মাস্টার প্লানের আওতায় ৩৭৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বাড়িয়েছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ পরিধি বাড়ানোর অনুমোদন দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে। এসব এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, পাঁচ তারা হোটেল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কেডিএ’র বর্তমান আয়তন ৮২৪ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৬১ সালে যাত্রা শুরুর সময় মাস্টার প্লানে আয়তন ছিল ১৮১ বর্গ কিলোমিটার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোংলা মাস্টার প্লানের আওতায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থিত ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়ন থেকে মোংলাপোর্ট পৌরসভা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের জন্য উন্নয়ন প্লান প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা, মোংলা ইপিজেড ও ব্যাপক ভিত্তিতে রপ্তানিমুখী চিংড়ি চাষের কেন্দ্র হিসেবে এলাকাটি দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরিত হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিবেশী দেশগুলোর বহিঃবাণিজ্যের  ট্রানজিট রুটের ভূমিকা পালনের সম্ভাবনার আলোকে এ অঞ্চলকে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনের জন্য এখনই প্রস্তুত করা হয়েছে। ভৌত মহাপরিকল্পনা প্রক্রিয়াবিহীন এই অঞ্চলের পরিকল্পিত বিকাশ নিশ্চিতকরণের জন্য একে উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনার লক্ষ্যে কেডিএ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

মোংলা মাস্টার প্লানের অন্তর্ভুক্ত এলাকার মধ্যে উত্তরে ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি, দক্ষিণে মোংলাপোর্ট পৌরসভা পর্যন্ত খুলনা-মোংলা মহাসড়কের উভয় পাশ, পশ্চিমে কাজীবাছা নদীর সীমানা, পূর্বে ফকিরহাট উপজেলার নোয়াপাড়া, পিলজং, বড়পাইকপাড়া, দরিরসুলপুর, সৈয়দপুর, হাকিমপুর, রঞ্জিতপুর, গোবিন্দপুর, পিত্যে, খেজুরমহল, কিসমত কুমলাউ, তালবুনিয়া, শ্রীফলতলা, কামরাঙ্গা এবং আড়াজি মাকরতন মৌজা পর্যন্ত।

এর ফলে কেডিএ’র নতুন নিয়ন্ত্রণ সীমানা হল-উত্তরে যশোরের নওয়াপাড়া পৌরসভা, দক্ষিণে মোংলাপোর্ট পৌরসভা, পূর্বে রূপসা, ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা উপজেলা এবং পশ্চিমে বটিয়াঘাটা উপজেলার কৈয়া বাজার। প্রকল্প এলাকার নদীগুলোর ভেতরে রয়েছে রূপসা, পশুর ও কাজীবাছা।

কেডিএর এক প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এখানকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নি¤œগামী। বসতি এলাকায় খাবার পানি ও স্বাস্থ্যসেবা খুবই সংকটাপূর্ণ। জন উপযোগী সেবা কার্যক্রম খুবই দুর্বল। পীর খানজাহান আলী বিমানবন্দর, রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং লোনাপানি অনুপ্রবেশজনিত কারণে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে হুরকা, রাজনগর, বুড়িরডাঙা ও রামপালের বিভিন্ন ইউনিয়নে সুপেয় পানি সরবরাহ বিশেষ সমস্যা বিরাজমান।

নতুন বিস্তৃত এলাকার মধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলার ৫টি, বাগেরহাট জেলা সদরের দুটি, ফকিরহাট উপজেলার ৪টি, রামপাল উপজেলার ৭টি, মোংলা উপজেলার একটি এবং মোংলা পৌরসভার একটি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

কেডিএ’র প্লানিং অফিসার কাজী এনায়েত হোসেন জানান, মোংলা মাস্টার প্লান এলাকায় গ্রামীণ বসতি, বন্দর সুবিধা, পর্যটন সুবিধা, নগর আবাসিক, বাণিজ্যিক জোন, শিল্প ও কলকারখানা জোন, লোনা পানির মৎস্য চাষ এবং চিত্ত বিনোদনের জন্য নানাবিধ সুবিধা থাকবে।

তিনি জানান, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানকে এসব এলাকায় উন্নয়নের জন্য অবহিত করা হয়েছে। পদ্মা সেতু চলাচলযোগ্য হলে মোংলা ইপিজেড, রপ্তানিভিত্তিক চিংড়ি চাষ, নেপাল এবং ভুটানের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের প্রয়োজনে মোংলা বন্দর ব্যবহারের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। পদ্মা সেতুর কারণে দেশের কেন্দ্রীয় এলাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের তুলনায় মোংলা বন্দরের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার কমবে। এ এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার হবে।

কেডিএ’র অ্যাসিসটেন্ট টাউন প্লানার আবু সাঈদ জানান, এ পরিকল্পনায় দারিদ্র্যবিমোচন কৌশল, বাংলাদেশ ভিশন-২০২১, সুন্দরবনভিত্তিক পর্যটন, কন্টেইনার ডিপো, শস্য সাইলো মোংলা ইপিজেড, ট্রানজিটভিত্তিক লেনদেন এসবই পরিকল্পনা প্রণয়নের নিয়ামক হিসেবে বিবেচ্য হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।



রাইজিংবিডি/খুলনা/১০ জানুয়ারি ২০১৭/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/রিশিত