ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

কেবলই আত্মগ্লানিময় এই সীমান্ত পদ্ধতি || ওবায়েদ আকাশ

ওবায়েদ আকাশ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১১-২৭ ৭:৪৫:১৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-০৯ ৫:৩৬:১৮ পিএম

বাংলাদেশ এবং একই সঙ্গে মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণের সুবাদে আমার কাছে প্রাক-যৌবনেও সীমান্ত বলতে বুঝেছি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। পত্রপত্রিকায় ছবি দেখে এবং নাটক-সিনেমায় দৃশ্য দেখে সবসময় সীমান্ত মনে হতো এক রহস্যসরণি। অজানা ব্যাখ্যায় ভরপুর দুটি দেশের প্রারম্ভ এবং সমাপ্তি। সীমান্ত মানে কখনো শীত ঋতুর গোধূলিআলোয় তারকাঁটার বেড়ার দুপারে কুয়াশাঢাকা সর্ষেফুলে হলুদ হলুদ চাদর বিছানো মায়ার হাতছানি। সীমান্ত মানে মেহন্তের পাকা ধানের সোনালি আবহে দুটি দেশের নিষিদ্ধ সঙ্গম। সীমান্ত মানে নির্ভয়ে মাত্র কয়েকহাত উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখিদের যত্রতত্র সাহসী বিচরণ। আবার সীমান্ত মানে অখণ্ড জল বা অবিভাজ্য রোদ্দুরের পেটে ধারালো চাকু চালিয়ে রক্তাক্ত করার নষ্ট প্রয়াস। সীমান্ত মানে গুলি, কারাগার, অবশ্যম্ভাবী কূটনৈতিক বিবাদ।

 

আরো পরে ব্যক্তিগতভাবে সীমান্ত পেরুতে গিয়ে বা সীমান্ত ঘিরে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার সন্ধান জেনে আজো অব্দি সীমান্ত ঘিরে ইতিবাচক তেমন কিছু ভেবে ওঠার সুযোগ হয়নি। ক্ষুধানিবৃত্তি কিংবা উন্নত জীবনের ডাকে দেশ পেরুতে গিয়ে, আজকের দিনে বিশেষ করে ইউরোপ সীমান্ত দিয়ে আরব-আফ্রিকানদের অভিবাস গ্রহণের প্রয়াস যে সব অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রায়শ উত্তপ্ত থাকে গণমাধ্যম। আশ্রয় নেই, খাদ্য নেই, নারী-শিশু-দুস্থদের নিরাপত্তা নেই অবস্থায়ও কোনোভাবেই তা দমানো যাচ্ছে না। এবং স্বভাবতই কাঙ্ক্ষিত দেশটি তার নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোনো ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নিতে কুণ্ঠিত হচ্ছে না। আর ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে পরস্পর দুটি দেশের সীমান্ত ঘিরে যেমন; তেমনি দুটি দেশের অর্থনৈতিক বৈরিতা ঘিরে।

 

কত যে অপ্রীতিকর-অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্মদাতা দেশে দেশে সীমান্ত এলাকাগুলো, তার শেষ যেমন কখনো ছিল না; তেমনি মানুষের বাউল বা পাখিস্বভাবপ্রাপ্তি না ঘটলে, পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত বুঝি তার সমাপ্তি কখনো ঘটবে না।

বিষয়গুলো আজকাল উঠে আসছে কলাম, জার্নাল, গল্প, উপন্যাস এমনকি নানা প্রবন্ধ-নিবন্ধে। ১৯৯৯ সালে ইউএসএ পেঙ্গুইন বুকস থেকে প্রকাশিত এডউইজ ডান্টিক্যাটের (Edwidge Danticat) ‘দ্য ফার্মিং অব বনস’ (The Farming of Bones) উপন্যাসটি রচিত হয়েছে ক্যারিবিয়ান দীপপুঞ্জের দুটি দেশ হাইতি এবং ডোমিনিকান রিপাবলিক ঘিরে। একই দ্বীপে এরকম দুটি দেশের অবস্থান ধারণা করি আর নেই। দুটি দেশই পশ্চিমা সংস্কৃতির ধারক। এদের মধ্যে হাইতির অর্থনৈতিক অবস্থা ডোমিনিকান রিপাবলিকের চেয়ে যথেষ্টই করুণ। তাই হাইতি থেকে দলে দলে লোকজন অসৎ উপায়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ডোমিনিকান রিপাবলিকে গিয়ে আখক্ষেতে চাকরি নিয়ে খেয়েপরে জীবনযাপন করে স্বচ্ছন্দে।

উপন্যাসের চরিত্র আমাবেল তখন আট বছরের বালিকা, বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করে হাইতিতে। চরম দারিদ্র্যের শিকার বাবা-মায়ের সঙ্গে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে সে তার বাবা-মা দুজনকে হারিয়ে চিরতরে এতিম হয়ে যায়। সীমান্তবর্তী নদী পাড়ি দেবার তাদের কোনো বৈধ উপায় ছিল না। আমাবেলের বাবা প্রথমে আমাবেলকে ঘাড়ে করে নদীর ওপারে রেখে আসে এবং পরবর্তীতে তার মাকে নিয়ে নদী সাঁতরে পার হবার সময় দুজনেই ডুবে মারা যায়। নদীপার থেকে নিঃসঙ্গ আমাবেলের বসবাসের স্থান হয় ডোমিনিকান রিপাবলিকের এক ধনাঢ্য পরিবারে। সেই পরিবারে আশ্রিতা হিসেবে সে অনেক সমাদর পায় এবং প্রণয়ে জড়িয়ে পড়ে হাইতি থেকে আসা আর এক তরুণ সেবাস্তিয়ানের সঙ্গে, যে আখক্ষেতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে রচিত এ উপন্যাসে দেখানো হয়েছে ১৯৩৭ সালে জরুরি আইন জারি করে সেনাবাহিনী ডোমিনিকান রিপাবলিকের ক্ষমতা দখল করে। এবং সেনাপ্রধান সিদ্ধান্ত নেয় যে, দেশকে হাইতির অভিবাসীমুক্ত করতে না পারলে দেশে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। তখন আমাবেল কোনোভাবে হাইতিতে ফিরে আসতে পারলেও তার প্রেমিক সেবাস্তিয়ান মারা যায় আর্মির হাতে। সেসময় অগণিত হাইতিবাসীকে হত্যা করেছিল সামরিক শাসক; যেমন একাত্তরে বর্বর পাকিস্তানীরা নির্বিচারে হত্যা করেছিল বাঙালিকে। এমন দুরবস্থায় দেশে ফিরেও আমাবেল আশায় বুক বেঁধে ছিল যে, সেবাস্তিয়ান ঠিকই একদিন ফিরে আসবে; এবং প্রতিশ্রুতিমতো একত্রে ঘর বেঁধে তারা সুখের সংসার পাতবে নিজ দেশ হাইতিতেই। কিন্তু বাবা-মা, বাস্তুভিটাহীন সন্তান আমাবেল যখন আর্মির হাতে সেবাস্তিয়ানের মৃত্যুর বিষয়টা নিশ্চিত হয়; মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায়। ভেঙে পড়ে সে। তখন আর কোনো পথ না পেয়ে সীমান্তের সেই খরস্রোতা নদীর পারে যায় আমাবেল। শরীর থেকে একে একে খুলে ফেলে তার পরিধেয়। সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় নদীর তীব্র খরস্রোতে সঁপে দেয় সমস্ত সত্তা। জলের ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে সে। স্রোত তাকে সেইদিকে টেনে নিয়ে যায়, যেদিকে তার বাবা-মা দুজনকেই টেনে নিয়েছিল। এভাবে উপন্যাসেরও পরিসমাপ্তি ঘটে।
সেই একই খরস্রোতা সীমান্ত আমাবেলের বাবা-মাকে হারানোর ভিতর দিয়ে যে তার মনে আতঙ্ক ঢুকিয়ে দিয়েছিল; ওই একই খরস্রোতে মিলিয়ে গেল তরুণী আমাবেলের স্বপ্ন-সাধ সবকিছু।

ইসরায়েলি লেখক ডরিট রাবিনইয়ানের লেখা উপন্যাস ‘বর্ডার লাইফ’ একটি প্রেমকাহিনিমূলক উপন্যাস হলেও দুই দেশের বিবাদমান সমস্যা প্রেমিক-প্রেমিকার জীবনে অন্তরায় হয়ে দেখা দেয়। ইসরায়েলি নারী দোভাষী লিয়াট এবং ফিলিস্তিনী চিত্রশিল্পী হিলমির প্রেমের কাহিনিতে সজ্জিত এ উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ। দুইজনের পরিচয় নিউইয়র্কে কর্মসূত্রে। সেই সূত্রে প্রেম। এবং তাদের সম্পর্কের ভেতর ভাষা পায় ইসরাইল-ফিলিস্তিনের সম্পর্কেরও টানাপোড়েন। অবশেষে হিলমির রামাল্লায় ফিরে যাওয়া ও লিয়াটের পশ্চিম তীরে ফিরে যাওয়ার ভেতর দিয়ে শুরু হয় তাদের প্রেমের বিচ্ছেদ পর্ব। তারা আর পরে বর্ডার পেরিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পারে না। বর্ডার তাদের মিলনের অন্যতম অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ‘বর্ডার লাইফ’ উপন্যাসটি ইসরায়েলি শিক্ষকদের অনুরোধে তাদের পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বইটি পাঠ্যতালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সম্পর্কে ইসরায়েলি মন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, এর ফলে দুই জাতির মধ্যে মেলামেশা বাড়বে এবং ইহুদিদের জাতিগত শুদ্ধতা নষ্ট হবে।


বর্ডার বা সীমান্ত যুগে যুগে কালে কালে এভাবে অনাবশ্যক অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রুদ্ধ করেছে মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা ও অবাধ বিচরণ।

আজ অবধি পৃথিবীর বিভিন্ন সীমান্তে যে পরিমাণ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, রক্ত ঝরেছে; তাকে শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার দোহাই দিয়ে সর্বত্র গেলানো যাবে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ করেছে দুই দেশের বৈরি সম্পর্ক, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শত্রুভাবাপন্নতা। আজ এই একুশ শতকে বসেও মাৎস্যন্যায়ের পদ্ধতি পরিবর্তিত হলো না। অপেক্ষাকৃত বেশি ক্ষমতাধর দেশটি তার প্রতিবেশী অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশটির নাগরিকের প্রতি সীমান্ত আক্রমণে উদ্যত হয়। এবং দুর্বল দেশটির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে তারাও প্রতিরোধ থেকে প্রতিশোধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এবং যা থেকে রক্তপাত কিংবা হত্যার মতো দুর্ঘটনা নিয়ত ঘটে চলেছে।

আজকের নতুন শতকে আশা করেছিলাম যে, কাঁটাতার বা প্রাচীর তৈরি করে সেকেলে সীমান্ত ব্যবস্থার অবসান হবে। আজকের সভ্য শিক্ষিত আধুনিক মানুষেরা নিয়ন্ত্রিত হবেন তাদের মনের বর্ডার দিয়ে। নতুন শতকে মানুষ ভুলে যাবে পারমাণবিক বোমা উৎপাদন পদ্ধতি। বুলেট, বারুদ, গোলা, কামান এই পৃথিবী থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন হবে। নদীদের কোনো সীমান্ত নেই, তবু সেখানে কোনো রক্তারক্তি নেই। পাখিদের কোনো সীমান্ত নেই, তবু আকাশে কোনো রক্তারক্তি নেই। আজ যদি নদীতে প্রাচীর দিয়ে সীমানা তৈরি করে দেওয়া হতো, এক দেশের স্রোত যদি অন্য দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া না হতো তাহলে কী হতো? সেটি কি কখনো ভেবে দেখি না আমরা? তখন নদী মরে খালে পরিণত হতো। যেমন দেহ থেকে প্রাণ উড়ে গেলে নিথর দেহ পড়ে থাকে। যদি আকাশের শেষ চূড়া বরাবর প্রাচীর তুলে দেওয়া হতো তাহলে পাখিরা সীমাবদ্ধ আকাশে আর না উড়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে মরে যেত। সৌর মণ্ডলের এত রহস্য নক্ষত্র, চন্দ্র, সূর্য- সবকিছুর দান ও সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হয়ে চিরঅন্ধকারে ডুবে যেতাম আমরা।
 
এমনকি বিশাল একটি অরণ্যের কথাই ধরা যাক: হাজারো পশুপাখি মিলেমিশে বসবাস করছে সেখানে; তাদের কোনো সীমান্ত নেই। তাদের কোনো প্রাচীর নেই; কাঁটাতার নেই। সেখানে সীমান্তবাঁধ নেই বলে কি প্রতিদিন রক্তপাত ঘটছে? তারা পরস্পর হানাহানি করে নিজেরাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে? না তা যাচ্ছে না। বরং মানুষই বন্যপশু শিকার করে তাদের নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টায় ব্যাপৃত হচ্ছে। কিংবা সমুদ্রতলের কথাই যদি বলি: সেখানে কি মাছ কিংবা বিবিধ সামুদ্রিক প্রাণিরা কাঁটাতার বা প্রাচীর দিয়ে তাদের পরস্পরের নিরাপত্তা রক্ষা করছে? না করছে না। তাই বলে কি তারা পরস্পর খুনোখুনি করে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে? না যাচ্ছে না। তারা নির্বিঘ্ন নিরাপদে বহাল তবিয়তেই আছে। উল্টো মানুষই তাদের জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের মেরে নিজেদের উদর পূর্তি করছে।

অথচ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণি মানুষ পশুপাখি জলজ প্রাণিদের কাছে হার মেনে নিজেরা সীমান্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছে। এর নাম দিয়েছে ‘সভ্যতা’। নিজেদের তারা সভ্য বলে দাবি করছে। সীমান্ত বাঁধ ছাড়া মানুষ নিজের দেশ রক্ষা করার কথা ভাবতেই পারে না। এক দেশের মানুষ অন্য দেশের মানুষকে আক্রমণের জন্য মুখিয়ে থাকে। সুযোগ পেলেই গুলি করে, বোমা মেরে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখায়। তাহলে আর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব কোথায়? প্রাচীর দিয়েই যদি এক দেশের মানুষ অন্য দেশের মানুষের হাত থেকে বাঁচার পথ বেছে নেয়, তাহলে মানবতা বা মানবিকতা কিংবা সভ্যতার অর্থটা কী দাঁড়াল? তাহলে মানুষকে সভ্য কেন বলা হচ্ছে? তাহলে তার শিক্ষার কী মূল্য থাকল? আজ বনের পশুরা, জলের প্রাণিরা যদি নিজেরা কোনো প্রকার প্রাচীর তৈরি না করেই নিরাপদ থাকতে পারে অন্যের হাত থেকে; তাহলে মানুষ কেন তা পারছে না? আজ যদি পশুরা মানুষের এই অযোগ্যতা স্বীকার করে নিজেদের মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করে, মানুষ কী জবাব দেবে তার? বর্ডারবিহীন সমগ্র পৃথিবী এক দেশ মনে করে নিরাপদে বসবাস করতে মানুষের অযোগ্যতা কোথায়? এত বড় ব্যর্থতা নিয়ে মানুষ কেন নিজেকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসাতে চায়? যে প্রাণিরা বর্ডার না রেখেই নিজেদের জীবন এবং আবাসন নিরাপদ রেখেছে তাদের কাছে কি মানুষের শিখবার কিছু নেই? মানুষ একদিকে সভ্য-শিক্ষিত-উন্নত হচ্ছে আর অন্য দিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা করছে; সেই বিশ্বের বর্ডার বা সীমান্ত প্রাচীরের প্রয়োজনীয়তা কি শেষ হতে পারে? কিংবা একটি দেশের সীমান্ত পার হতে গেলে অতিক্রমকারী মানুষটির প্রতি সীমান্তরক্ষী প্রহরীটির চোখেমুখে যে অবিশ্বাস আর অনির্ভরতার আভা ফুটে ওঠে- তা দেখেশুনেও যখন আমাদের সব সয়ে যেতে হয়; মানুষ হিসেবে এর চেয়ে বড় আত্মগ্লানি আর কী হতে পারে? প্রতিবেশী দুটি দেশের মানুষ যেখানে পরস্পর নিজেদের প্রতিবেশী ভাইবোন মনে করবে- সীমান্ত পারি দিতে গেলেই সেখানে তারা হয়ে উঠছে পরস্পর শত্রুর মতো- সহজ কথায়, এতটুকুই ভাবতে পারি সীমান্ত প্রহরা বা সীমান্ত ব্যবস্থার করুণ ফলাফল।







রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ নভেম্বর ২০১৬/তারা

Walton Laptop