ঢাকা, রবিবার, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ২১ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ঘরোয়া কিছু চিকিৎসার নতুন উপকারিতা (শেষ পর্ব)

এস এম গল্প ইকবাল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-১২ ৯:৩৭:৪৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০১-১৩ ৮:০৮:১৫ এএম
প্রতীকী ছবি

এস এম গল্প ইকবাল : বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া চিকিৎসা প্রয়োগ করে থাকি। অনেক ঘরোয়া চিকিৎসার প্রচলন দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। এসব ঘরোয়া চিকিৎসা স্বাস্থ্য সমস্যা উপশমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যেমন- ক্র্যানবেরি জুস মূত্রনালীর সংক্রমণের জ্বালাপোড়া হ্রাস করে, মধু গলাব্যথা কিংবা কাশি প্রশমন করে এবং ওটমিল একজিমার তীব্রতা কমায়।

প্রচলিত উপকারিতা ছাড়াও কিছু ঘরোয়া চিকিৎসায় নতুন উপকারিতা পাওয়া গেছে। নতুন উপকারিতা পাওয়া গেছে এমন ১৪টি ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে দুই পর্বের প্রতিবেদনের আজ থাকছে শেষ পর্ব।

* কমলা
প্রচলিত ব্যবহার : ঠান্ডা উপশম করে।
নতুন ব্যবহার : কোলেস্টেরল কমায়। ঠান্ডা প্রতিরোধের অন্যতম সর্বোত্তম ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে কমলার ভিটামিন সি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত আছে (যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ দাবি বিতর্কিত হয়েছে)। নতুন একটি গবেষণায় জানা গেছে, কমলা কোলেস্টেরল হ্রাসে উপকারী। ২ ডে ডায়াবেটিস ডায়েটের লেখক ডায়েটিশিয়ান ইরিন পালিনস্কি-ওয়েড বলেন, ‘কমলাতে প্রচুর পেক্টিন থাকে; পেক্টিন হচ্ছে একটি দ্রবণীয় ফাইবার যা শরীরের ভেতর জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে খারাপ কোলেস্টেরলের সঙ্গে লেগে থেকে খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীরের বাইরে নিয়ে আসে। দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খেলে অস্বাস্থ্যকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা তথা টোটাল কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায়।’

* ক্যামোমিল চা
প্রচলিত ব্যবহার : ঘুমে সহায়ক।
নতুন ব্যবহার : উদ্বেগ হ্রাস করতে পারে। এতদিন ধরে ভালো ঘুম আনতে ক্যামোমাইল চা পানের প্রচলন হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি গবেষকরা পেয়েছেন যে, এই ওষধির প্রশান্তিদায়ক উপাদান এর চেয়েও বেশি কিছু করতে পারে- এটি জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার (জিএডি) নিরাময় করতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, ক্যামোমাইল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে গবেষণায় অংশগ্রহণকারী যেসব লোকের পরিমিত থেকে তীব্র জিএডি ছিল তাদের উপসর্গ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু উদ্বেগ কমাতে চেষ্টা করে দেখার জন্য এটি একটি নিরাপদ চিকিৎসা।

* পুদিনা পাতা
প্রচলিত ব্যবহার : হজমে সাহায্য করে এবং শ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করে।
নতুন ব্যবহার : স্মৃতিশক্তি ও জ্ঞানীয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হাজার বছর ধরে শ্বাসের দুর্গন্ধের ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে পুদিনার ব্যবহার হয়ে আসছে এবং এটি হজমেও সহায়ক। পুদিনার ঘ্রাণ আপনাকে তৎক্ষণাৎ অধিক সতর্ক করতে পারে। গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, পুদিনার চা পান জ্ঞানার্জনের ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে পারে। যুক্তরাজ্যে অবস্থিত নর্থামব্রিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী মার্ক মস বলেন, ‘আমরা পেয়েছি যে যেসব লোক পুদিনার চা পান করেছিল তাদের তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিশক্তি ছিল- তারা বেশি শব্দ ও ছবি স্মরণ করতে পেরেছিল যা তারা দেখেছিল।’

* আদা
প্রচলিত ব্যবহার : বমিবমি ভাব দূর করে।
নতুন ব্যবহার : রক্ত শর্করা কমায়। সিসিকনেস বা সমুদ্রপীড়া ও গর্ভাবস্থার জন্য ব্যবহৃত এই সুগন্ধি মসলাটি ডায়াবেটিস রোগী অথবা যারা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছে তাদেরও সাহায্য করতে পারে। ইরানের একটি গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব লোক ১২ সপ্তাহ ধরে দৈনিক দুই গ্রাম আদার গুড়ার সাপ্লিমেন্ট খেয়েছিল তাদের রক্ত শর্করা ও প্রদাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত রক্ত চর্বি যারা প্ল্যাসেবো গ্রহণ করেছিল তাদের তুলনায় বেশি হ্রাস পেয়েছিল। আদা রক্ত শর্করা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এনজাইমকে বাধা দেয়।

* শসা
প্রচলিত ব্যবহার : চোখের ফোলা প্রশমন করে।
নতুন ব্যবহার : ডায়াবেটিস হ্রাস করে। চোখের ফোলা কমাতে অন্যতম প্রধান স্পা ট্রিটমেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শীতল শসার ব্যবহার হয়ে আসছে। কিন্তু এই স্বাস্থ্যকর সবজিটি খেতে ভুলবেন না: কারণ এতে রয়েছে ফাইবার কনটেন্ট এবং খুব কম ক্যালরি/কার্ব- শসা ডায়াবেটিস রোগীদের রক্ত শর্করার মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে, বলেন পালিনস্কি-ওয়েড। তিনি যোগ করেন, ‘প্রাণীদের ওপর চালিত গবেষণায় পাওয়া যায়, নিয়মিত শসা ভোজনে ডায়াবেটিস ইঁদুরদের রক্ত শর্করা কমে গিয়েছিল।’ এছাড়া যেহেতু শসা পেট ভরা রাখে, তাই এটি আপনার ডায়েটে সংযোজন করলে আপনার খাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে- যার ফলে আপনি স্বাস্থ্যসম্মত ওজন বজায় রাখতে পারবেন এবং ডায়াবেটিস বিকাশের ঝুঁকি কমে যাবে।

* হলুদ
প্রচলিত ব্যবহার : প্রদাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
নতুন ব্যবহার : স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে ও মেজাজ উন্নত করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, আর্থ্রাইটিসের মতো প্রদাহ জনিত অবস্থার অন্যতম সর্বোত্তম ঘরোয়া চিকিৎসা হচ্ছে হলুদ। কিন্তু এই ঐতিহ্যবাহী মসলার প্রদাহ-বিরোধী উপাদান জ্ঞানীয় ক্ষয় হ্রাসেও সাহায্য করতে পারে: এটি অ্যালঝেইমার’স রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া যায় যে, যেসব লোক কারকামিন (হলুদের একটি অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট) খেয়েছিল তারা স্মৃতিশক্তি ও মেজাজের টেস্টে তুলনামূলক ভালো স্কোর করেছিল। এই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী লোকদের হালকা স্মৃতিশক্তি সমস্যা ছিল; ১৮ মাস ধরে কারকামিন সাপ্লিমেন্ট সেবনের পর তারা স্মৃতিশক্তির টেস্টে ২৮ শতাংশ ভালো স্কোর করেছিল। এই গবেষণার লেখক এবং ইউসিএলএ’র লংজিভিটি সেন্টারের অন্তর্গত জিরিয়াট্রিক সাইকিয়াট্রির পরিচালক গ্যারি স্মল বলেন, ‘ঠিক কিভাবে কারকামিন প্রতিক্রিয়া দেখায় তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কিন্তু এটির মস্তিষ্কের প্রদাহ হ্রাসের ক্ষমতার কারণে এমনটা হতে পারে- মস্তিষ্কের প্রদাহের সঙ্গে অ্যালঝেইমার’স রোগ এবং মেজর ডিপ্রেশন উভয়েরই সংযোগ পাওয়া গেছে।’ এসব ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নিরাপদ উপায়ে কারকামিন গ্রহণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞানীয় উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে।

* আলুবোখারা
প্রচলিত ব্যবহার : কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
নতুন ব্যবহার : হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে খাদ্যতালিকায় আলুবোখারা রাখুন। পালিনস্কি-ওয়েড বলেন, ‘গবেষণায় পাওয়া গেছে, প্রতিদিন শুধু পাঁচ থেকে ছয়টি আলুবোখারা খেলে হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।’ আলুবোখারায় রয়েছে উচ্চমাত্রায় হাড়-সহায়ক পুষ্টি ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা হাড়কে ক্ষয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। আলুবোখারার বহুমুখী উপকারিতা রয়েছে এবং আপনি প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি আলুবোখারা স্ন্যাক হিসেবে খেতে পারেন অথবা রান্নায় আলুবোখারা ব্যবহার করতে পারেন কিংবা স্মুদি ও সসে আলুবোখারা যোগ করেও খেতে পারেন, বলেন পালিনস্কি-ওয়েড।

তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট

পড়ুন : ঘরোয়া কিছু চিকিৎসার নতুন স্বাস্থ্য উপকারিতা (প্রথম পর্ব)



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ জানুয়ারি ২০১৯/ফিরোজ

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge