ঢাকা, শনিবার, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

জনবল সংকটে রামেক হাসপাতাল

তানজিমুল হক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৯ ৪:২৭:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-০৯ ৪:২৭:৪০ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল জনবল সংকটে পড়েছে। এই হাসপাতালে শয্যা ও ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো হলেও বাড়েনি জনবল। জনবল কম থাকায় ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বেশি রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

 

এজন্য সেবার মান ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রায়শই রোগীর স্বজনদের সঙ্গে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। জনবল সংকট থাকলেও নতুন নিয়োগ বিধি বাস্তবায়ন না করায় নিয়োগ দিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫৫০ শয্যা থেকে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২০০। ৩০টি ওয়ার্ড থেকে বেড়ে বর্তমানে হাসপাতালের ওয়ার্ড সংখ্যা হয়েছে ৫৭টি। শয্যা ও ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো হলেও বাড়ানো হয়নি জনবল। ৫৫০ শয্যার অনুমোদিত জনবল দিয়েই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যেও রয়েছে শূন্যপদ। বর্তমানে ওই হাসপাতালে সরকার অনুমোদিত ১৭৬টি পদশূন্য রয়েছে।

 

সূত্র জানায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার (চিকিৎসক) পদ রয়েছে ২৩৩টি। এর মধ্যে ৩০টি পদশূন্য রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৬০টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে তিনটি, তৃতীয় শ্রেণির ১১৮টি পদের মধ্যে ১৭টি ও চতুর্থ শ্রেণির ৪৩৩টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১২৬টি। এসব পদ ছাড়াও দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন ১১১ জন শ্রমিক।

 

এর মধ্যে দুই দফায় এমএলএসএসসহ বিভিন্ন পদে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হলেও বাড়ানো হয়নি অন্যান্য পদের সংখ্যা। তারপরও ওয়ার্ড বাড়ানোর পর যে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে বেশির ভাগই বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। এর ফলে আগের ৫৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে ১২০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি।

 

২০০৮ সালে সরকারিভাবে রাজস্ব খাতে বিভিন্ন পদে ১৩০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। অথচ নিয়োগ পাওয়ার পরই মাত্র এক মাসের ব্যবধানে যে যার মত বদলি নিয়ে চলে গেছেন অন্যত্র। বর্তমানে ১৩০ জনের মধ্যে হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন ৩০ জন কর্মচারী।

 

সূত্র জানায়, রামেক হাসপাতালে বর্তমানে ওয়ার্ড রয়েছে ৫৭টি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে দুটি অপারেশন থিয়েটার, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), আইসিইউ, এইচবিইউ, রন্ধনশালা, ব্লাড ব্যাংক, এক্সরে বিভাগ ও বহিঃবিভাগ। এসব গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে প্রতি শিফটে কর্মরত রয়েছেন এক থেকে দুজন করে।

 

বিশেষ করে অপারেশন থিয়েটারের মত জায়গায় এমএলএসএস পদে দুইজন করেও পাওয়া যায় না। ওয়ার্ড মাস্টার অফিসের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে তারা প্রতি শিফটে একজনের বেশি লোক নিয়োগ দিতে পারেন না। এর মধ্যে অনেকেই থাকেন ছুটিতে। এতে প্রতিদিন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে লোকবল দিতে হিমশিম খেতে হয় ওয়ার্ড মাস্টারদের।

 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত রোগীর চাপে বেহালদশা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। কাগজ-কলমে ১২০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও হাসপাতালে সবসময় রোগী ভর্তি থাকে ১৮০০ মতো। অনেক সময় রোগীর চাপ সামাল দিতে না পেরে ওয়ার্ডে থাকা কর্মচারীরা রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। প্রায় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি লেগেই আছে। রোগীর অনুপাতে চিকিৎসক সংকট থাকায় চিকিৎসার জন্য নির্ভর করতে হয় শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ওপর।

 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সময় বিরক্তবোধ করেন। অনেক সময় ইন্টার্নি চিকিৎসকরা বিরক্ত হয়ে তাদের জন্য নির্ধারিত রুমের দরজা বন্ধ করে বসে থাকেন। তবে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় থেকে ৬৯৬ জন সিনিয়র নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র নার্স নিয়োগ দেওয়ায় চিকিৎসকের ঘাটতি তারাই মেটাচ্ছেন। বেশিরভাগ সময়ই হাসপাতালে অধ্যাপকদের নির্দেশনা মেনে ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেন এই নার্সরা।

 

সোমবার সকালে হাসপাতালেও গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী রয়েছে।   বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই বেডে আসন না পাওয়ায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে যারা টেকনোলজিস্ট তাদের নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকিদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দেয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন নিয়োগবিধি প্রণয়নের পরই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা হবে।

 

 

রাইজিংবিডি/রাজশাহী/৯ জানুয়ারি ২০১৭/তানজিমুল হক/রিশিত

Walton
 
   
Marcel