ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ ফাল্গুন ১৪২৩, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

দেশেই ভাগ্যবদল করেছেন বিদেশে প্রতারিত হেলাল

আলী আকবর টুটুল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-২৪ ৩:৫৭:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-০৬ ২:৫৩:৪৫ পিএম
নিজের মাছের প্রকল্পে হেলাল উজ্জামান ফকির

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট : মাছ ও সবজি চাষ করেই ভাগ্যবদল করেছেন বিদেশ থেকে প্রতারিত হয়ে ফিরে আসা বাগেরহাটের হেলাল উজ্জামান ফকির।

 

শিক্ষিত বেকার যুবক হেলাল উজ্জামান ফকির। দেশে চাকুরি খুঁজে ব্যর্থ হওয়ার পর পাড়ি জমান বিদেশে। সেখানেও প্রতারিত হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরে আসেন। হতাশা ঝেড়ে ফেলে দেশের মাটিতেই ভাগ্য গড়ার উদ্যোগ নেন। শুরু  করেন মাছ ও সবজি চাষ। রাসায়নিক সার মুক্ত সবজি ও গ্রোথ হরমোন ছাড়াই মাছ চাষ করে হেলাল উজ্জামান বদলে ফেলেছেন তার ভাগ্য।

 

হেলাল উজ্জামান বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা । পিতা মো. মজিবর রহমান ফকির। হেলাল উজ্জামান তার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে বারইখালী ইউনিয়নের চৌধুরি কাছারিবাড়ি এলাকায় ২০১৪ সালে ২ একর এবং ২০১৫ সালে সাড়ে ৪ একর জমি লিজ নেন। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি ও মাছ চাষে শুরু করেন ‘ঝিদনি মৎস্য চাষ প্রকল্প-১ ও ২ নামে দু’টি প্রকল্প।

 

দুই প্রকল্পের দুই পুকুর পাড়ের জমিতে পেঁপে, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, সিম, বরবটি, বেগুন, শসা, খিরাই, টমেটো, বাঙ্গি, মরিচ, ঢেড়স, পালং শাক, করলা, মালঞ্চ, লালশাক, ডাটা শাখ, চাষ কলমিসহ নানা প্রজাতির সবজির চাষ করেন। এসব চাষে জৈব সার প্রয়োগ করেন। তিনি কোন কীটনাশক কিংবা রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন না।

 

টাটকা ও বিষমুক্ত হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা গ্রাহকরা এসব কেনাকাটায় প্রকল্পে চলে আসেন।

 

সবজির উৎপাদন দেখছেন হেলাল উজ্জামান ফকির

 

পার্শ্ববর্তী পুকুরে চাষ করা হয়েছে মাছ লাখ দেশি শিং, ১ লাখ ২০ হাজার মনোসেক্স তেলাপিয়া সহ মিশ্র কার্প জাতীয় মাছ্ । হেলাল উজ্জামান জানান, এ বছর ইতিমধ্যেই  তিনি ৫ মেট্রিক টন তেলাপিয়া, ২ মেট্রিক টন রুই, ৫০০ কেজি পাঙ্গাস মাছ বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা এবং সবজি বিক্রি করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পেয়েছেন। এখনো ২টি প্রকল্পে বিক্রির অপেক্ষায় ১৫ মেট্রিক টন মাছ মজুদ আছে। ফাল্গুন মাসে এসব মাছ বিক্রি হবে।

 

উপজেলা কৃষি অফিস হেলাল উজ্জামানের এই প্রকল্পে সোলার সিষ্টেমে পোকা দমনের আলোর ফাঁদ প্রদান করেছে। হেলাল উজ্জামান পোকা দমনে সেক্স ফেরেমন ফাঁদও ব্যবহার করেন।

 

৪ জন কর্মচারী মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে তার প্রকল্পে সার্বক্ষনিক তদারকি করেন। এ প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় ইয়ন এগ্রো গ্রুপের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ মো. খায়রুল ইসলাম ও সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার নেপাল হালদার প্রতি মাসে ২বার পর্যবেক্ষণ করেন।

 

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জমি চাষের জন্য তাকে বিনামূল্যে ইরি বীজও ধান প্রদান করেছে। বর্তমানে পতিত জমিতে ইরি চাষের কার্যক্রম চলছে।

 

হেলাল উজজামান জানান, প্রতি বছর তার এই প্রকল্প থেকে অনায়াসে খরচ বাদে  থেকে ৮ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

 

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপম রায় বলেন, ‘আন্তরিকতা থাকলে যে কোন কাজে সফলতা পাওয়া যায়। তারই উদাহরণ যুবক হেলাল উজ্জামান ফকির।’
 

 

রাইজিংবিডি/বাগেরহাট/২৪ ডিসেম্বর ২০১৬/টুটুল/টিপু