ঢাকা, বুধবার, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

দেশের তৃতীয় সরকারি চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ঢল

নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৩ ২:৫০:১৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-০৩ ২:৫০:১৫ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেট শহরতলীর টিলাগড় ইকো পার্কে দেশের তৃতীয় সরকারি চিড়িয়াখানা উদ্বোধনের পর থেকে দর্শনার্থীদের ঢল অব্যাহত রয়েছে।

উদ্বোধনী দিনেই লোকে লোকারণ্য ছিল সিলেটের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র তথা দেশের তৃতীয় সরকারি চিড়িয়াখানা। ঢল নামে হাজার-হাজার মানুষের। শনিবারও এই ভিড় ছিল উপচে পড়া। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

সিলেটের এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি ছুটির দিন শুক্রবার বিকেলে উদ্বোধন করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ সময় সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ ও সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর অতিথিবৃন্দ কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন।

উদ্বোধনের আগেই এখানে আনা হয় দুটি জেব্রা, হরিণসহ ৯ প্রজাতির ৫৮টি প্রাণী। ফলে দর্শনার্থীদের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে এসব প্রাণী।

দেখা গেছে, শুক্রবার বিকেল থেকেই প্রকৃতি ও পশু-পাখিদের কলতান শুনতে সপরিবারে কিংবা বন্ধুদের সাথে চিড়িয়াখানায় আসতে থাকেন দর্শনার্থীরা। সন্ধ্যার দিকেও দর্শনার্থীদের চাপ ছিল খুবই বেশি।

শুধু তাই নয়; মোটরসাইকেল এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়েও অনেকেই ঢুকে পড়েছেন ইকো পার্ক এলাকায়। একই সাথে প্রাণীর খাঁচার কাছ থেকে ছবি তোলাসহ বিভিন্ন ভাবে প্রাণীকে উৎপীড়ন করতেও দেখা যায় অনেক দর্শনার্থীকে।
 


নগরীর উপশহর থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা হাসান আহমদ জানান, ‘সংবাদ মাধ্যম থেকে তিনি চিড়িয়াখানা উদ্বোধনের বিষয়টি জেনেছেন। তাই স্বপরিবারে এখানে ঘুরতে এসেছেন। জেব্রাসহ বিভিন্ন প্রাণী কাছ থেকে দেখতে পেয়ে তার বাচ্চারা অনেক খুশি হয়েছে বলেও জানান তিনি।’

কলেজ ছাত্র আমিনুল জানান, ‘এখানে প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসেন তিনি। তবে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র হওয়ায় এখন আগের মতো আসা যাবে না। টিকিট নিয়েই প্রবেশ করতে হবে। তবে বন্য প্রাণীদের দেখে ভালো লেগেছে। তিনি প্রাণীর সংখ্যা আরও বাড়ানোর দাবি তুলেছেন।’

এদিকে ইকো-পার্ক এলাকায় দর্শনার্থীদের অবাধ বিচরণ বন্ধসহ বনের ভেতরে গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেছেন পরিবেশবাদীরা। একই সাথে প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে স্থায়ী ভেটোরিনারি ডাক্তার নিয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

পরিবেশবাদী সংগঠন প্রাধিকারের সভাপতি আনিসুল রহমান বলেন, ‘উদ্বোধনের পর যেভাবে দর্শনার্থীদের ঢল দেখা যাচ্ছে, তাতে এখানকার জীববৈচিত্রের স্বাভাবিক জীবনযাপন বাধাগ্রস্ত হবে। এ কারণে প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে এখানে দর্শনার্থী প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এছাড়া সড়কে যানবাহন চলাচলও সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে রাখা বেশির ভাগ প্রাণীই বিদেশি। যে কারণে তারা এ দেশের পরিবেশের সাথে সম্পূর্ণ অপরিচিত। তার উপর দর্শনার্থীদের শোরগোলের কারণে তারা ভীতসন্ত্রস্থ থাকছে সারাক্ষণ। তাই এর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, দর্শনার্থীদের ক্যামেরার ফ্লাশ প্রাণীদের ক্ষতি করে, তাই এটিও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এছাড়া এখানে কোন স্থায়ী ডাক্তারও নিয়োগ করা হয়নি, তাই স্থায়ী ভেটোরিনারি ডাক্তার নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।’
 


পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমি সন্তানের সমন্বয়ক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে এখানে প্রাণী সংরক্ষণকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। এটি যেন শুধুমাত্র পর্যটন স্পট কিংবা বিনোদন কেন্দ্র না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মনিরুল ইসলাম জানান, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র চালুর মূল লক্ষ্য হচ্ছে দু’টি। প্রথমত; এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা চিত্ত বিনোদনের সুযোগ পাবেন। দ্বিতীয়ত, সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অনেক সময় নানা কারণে অনেক বন্যপ্রাণী আহত হয়। তাদের চিকিৎসা দেওয়াও এটি প্রতিষ্ঠার আরেকটি লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে দু’টি জেব্রাসহ ৯ প্রজাতির প্রাণী সিলেটের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে আনা হয়। এরমধ্যে এর মধ্যে ২টি হরিণ, ১২টি ময়ূর, ৪টি আফ্রিকান গ্রে পেরট, ১টি গোল্ডেন ফিজেন্ট পাখি, ৩টি সিলভার ফিজেন্ট পাখি, ৩টি ম্যাকাও পাখি, ৪টি সান কানিউর, ১টি অজগর ও ৩০টি ছোট লাভ বার্ডও রয়েছে। আগামী সপ্তাহে এর সাথে সংযুক্ত হবে আরও দু’টি হরিণ। ডিসেম্বরে এখানে বাঘও নিয়ে আসা হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই চিড়িয়াখানায় আগামীতে সিংহ, শ্লথবিয়ার, হনুমান, বেজী, বনরুই, বাঘদাস, বনবিড়াল, শিয়াল, খেকশিয়াল, গন্ডার, এশীয় হাতি, পরিযায়ী পাখি, জলজ পাখি, বনছাগল, বিভিন্ন প্রজাতির বানর, কালো ভাল্লুক, মিঠা পানির কুমির, নীল গাই, জলহস্তী ইত্যাদি প্রাণী আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় জীবজন্তুর আশ্রয়স্থল হিসেবে হলেও এখানে নেপাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও সৌদি আরব থেকে বেশির ভাগ প্রাণী নিয়ে আসা হবে।

এ প্রকল্পের জন্য ৪০ প্রজাতির প্রায় সোয়া চারশ’ প্রাণী কেনা হবে, যার মধ্যে দু’শ প্রাণীই থাকবে বিরল ও নতুন প্রাণী। এছাড়া, এখানে প্রাণীদের স্বাস্থ্য ও নানা ধরণের সেবার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি থেকে চিকিৎসা ও খাদ্যের মান পরীক্ষার জন্য আধুনিকমানের উপকরণ কেনা হবে।

উল্লেখ্য, অক্টোবর থেকে জানুয়ারী পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা এবং ফেব্রুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ সংরক্ষণ কেন্দ্র। তবে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১০টাকা ফি দিতে হবে দর্শনার্থীদের।




রাইজিংবিডি/ সিলেট/ ৩ অক্টোবর ২০১৮/ নোমান/শাহ মতিন টিপু

Walton Laptop
 
     
Marcel