ঢাকা, রবিবার, ১২ চৈত্র ১৪২৩, ২৬ মার্চ ২০১৭
Risingbd
মার্চ
সর্বশেষ:

পাথেয় হোক মহানবীর (সা.) আদর্শ

এনএ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-১৩ ১:০২:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-১২-১৩ ১:৫৮:২৬ পিএম

পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল আজ। সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ মহানবী মোহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। আবার ৬৩ বছর বয়সে এই দিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে রহমাতুল্লিল আলামিন বা সারা বিশ্বের রহমত হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেদিন পৃথিবীতে এসেছেন সেই দিনটি মুসলমানদের কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দের দিন হিসেবে বিবেচিত।

 

ঈদে মিলাদুন্নবী বা নবী (সা.)-এর জন্মদিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত তাঁর মহিমাগাথা। সম্মিলিত দোয়ার মাধ্যমে  মানবজাতির শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা করে মুসলিম উম্মাহ। তার জন্ম ও নবুয়ত লাভের মধ্য দিয়ে সাম্য, মৈত্রী ও ন্যায্যতার বাণী নিয়ে বিশ্বে এক নতুন ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। রাসুল আমাদের জন্য রেখে গেছেন সুমহান বাণী ও কর্ম। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রেও তার সংস্কার অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। কুসংস্কারে জর্জরিত ও সংঘাতে লিপ্ত আরব জাহানকে অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে তিনি শান্তি ও সৌহার্দ্যের পতাকাতলে যেভাবে সংগঠিত করেছিলেন, তা মানবতার ইতিহাসে এক অনন্য নজির।

 

মহানবীর (সা.) নেতৃত্বেই  পরস্পরবিরোধী আরব গোষ্ঠীগুলো প্রথমবারের মতো অভিন্ন ধর্ম ও সমাজের পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল। জীবনে বহু অন্যায়, অত্যাচার, ও আঘাত সয়েছেন তিনি। প্রাণ রক্ষায় জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে হিজরত করেছেন মদিনায়। কিন্তু কখনও কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ কিংবা প্রতিশোধের চিন্তা করেননি। সবসময় ন্যায় ও সত্যের পথে চলেছেন তিনি। উম্মতদেরও সেভাবে চলার উপদেশ দিয়েছেন। নেহাত বাধ্য না হলে তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ না করার শিক্ষা ও চর্চা রেখে গেছেন।

 

রাসুল (সা.) ছিলেন অত্যন্ত কোমল মনের।  অত্যাচারিত ও উত্পীড়িত মানুষের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন তিনি। অনাথ ও গরিব-দুঃখীর কষ্ট মোচনে তিনি সদা তৎপর থাকতেন। ইসলামপূর্ব সময়েই তিনি সব মানুষের প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন। ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত প্রাপ্তির আগেই সবাই তাঁকে আল আমিন (বিশ্বস্ত) ও আস-সাদিক (সত্যবাদী) উপাধিতে ভূষিত করে।

 

বিশ্বে আজ মানুষের মৌলিক অধিকার ভূলণ্ঠিত হচ্ছে। হানাহানিতে লিপ্ত মানূষ। বাড়ছে সন্ত্রাস ব্যাহত হচ্ছে শান্তি। ক্ষমতার লোভ বা হীন রাজনৈতিক স্বার্থে ইসলাম ধর্মের মনগড়া বা অপব্যাখ্যা দিয়ে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। ইসলাম কখনই যা সমর্থন করে না। সব ধরনের নৈরাজ্য ও ফ্যাসাদ বা সন্ত্রাস দূর করতেই ইসলামের আবির্ভাব। একমাত্র মহানবীর (সা.) দেখানো পথ অনুসরণের মধ্য দিয়ে আমরা এই হানাহানির পথ থেকে সরে আসতে পারি। গড়ে তুলতে পারি এক সুন্দর বিশ্ব।

 

মহানবী মুসলমানদের রাসুল হলেও অন্যান্য ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিও তাঁর ভালোবাসা ছিল। তাঁর সত্য ও ন্যায়ের আদর্শ ছিল সর্বমানবিক। রাসুলের (সা.) জীবনাচরণ ছিল সব অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সেরা উদাহরণ। তাঁর দেখানো শান্তি ও সমঝোতার পথ অনুসরণ করে আমরা বিশ্বজুড়ে চলমান হিংসা-হানাহানির অবসান ঘটাতে পারি। মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই আমাদের যাবতীয় মুক্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ নিহিত। তার জীবনাচরণ ও আদর্শ হোক আমাদের পাথেয়।

 

 

রাইজিংবিডি/১৩ ডিসেম্বর ২০১৬/এনএ

Walton Laptop