ঢাকা, শুক্রবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৪, ২৩ জুন ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রতিহিংসা থেকে জিয়ানগরের নাম পরিবর্তন : বিএনপি

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১০ ১২:৫০:১৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১০ ১২:৫০:১৮ পিএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : পিরোজপুরের ‘জিয়ানগর’ উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্দুরকানি’ নামকরণকে সরকারের প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে বিএনপি।

দলটির দাবি, শুধু প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম থাকার কারণেই এটি ‘সরকারি আক্রমণের’শিকার হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

পিরোজপুরের ‘জিয়ানগর’ উপজেলার নাম পরিবর্তন করেছে সরকার। এর নতুন নাম করা হয়েছে ‘ইন্দুরকানি’। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার নাম পরিবর্তনের এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই দিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভা হয়। সভায় নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

২০০২ সালের ১৭ এপ্রিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের আমলে জিয়ানগর উপজেলা সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে এর মূল থানার নাম এখনও ইন্দুরকানি।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি সরকারের আগ্রাসী প্রতিহিংসার আরেকটি শিকারের ঘটনা।’

তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত বীর সন্তানরা মাতৃভূমির জন্য লড়াই করেছেন তাদের নামে পৃথিবীর বিভন্ন দেশে সড়ক, মহাসড়ক, স্থান, ভবন ইত্যাদির নামকরণ করা হয়েছে। শুধু বর্তমান বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীতে একটি ব্যতিক্রমী দেশ, যেখানে সরকারের দিন-রাত্রি কাটে হিংসা-বিদ্বেষ, আক্রোশ আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমনে। জিয়ানগর নামটি বাদ দেওয়া আমাদের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ ও সকল মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার আমলে জিয়ানগরে জলথানা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং পরবর্তীতে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করেন। ২০০২ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে এটিকে উপজেলায় উন্নীত করেন, তখন এটি জিয়ানগর নামকরণ করা হয়।’

উপজেলার নতুন নামকরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে জিয়ানগর নাম বদলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘ডিএমপির কাজ হচ্ছে অপরাধ দমন, গণতন্ত্রে বিরোধী দলের অধিকার দমন নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য যদি সঠিক হয় তাহলে বুঝতে হবে গণতন্ত্রের পায়ে পুলিশ বেড়ি দিয়ে রেখেছে।’বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কাদের ইঙ্গিতে ডিএমপি বিএনপিকে ৭ জানুয়ারি সমাবেশ করতে দেয়নি সেটি আওয়ামী নেতারা না বুঝলেও জনগণ ঠিকই বোঝে। কয়েক দিন আগে এরশাদের জাতীয় পার্টি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাতি-ঘোড়া নিয়ে সমাবেশ করেছে। আওয়ামী লীগ রাজধানীতে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অহরহ সমাবেশ করছে।’

গণতন্ত্র পদদলিত করে উন্নয়নের মেলা করা হচ্ছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘সারাদেশের জেলা উপজেলায় সরকারের দলবাজ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকদের বাধ্য করে পালন করা হচ্ছে উন্নয়নের গণতন্ত্র মেলা। গণতন্ত্রকে পদদলিত করে আয়োজিত এসব মেলায় সাধারণ মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের নামে নাটকই বেশি হয়। যার কারণে উন্নয়নের কোন ছিঁটেফোটাও মানুষের চেহারার মধ্যে প্রতিফলিত হয় না। দেশের উন্নয়ন শুধু প্রধানমন্ত্রীর মুখে, সারা দেশে শুধু লবডঙ্কা।’

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১০ জানুয়ারি ২০১৭/রেজা/ইভা

Walton Laptop