ঢাকা, রবিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

বরিশাল-১ : মহাজোটে একক, ২০ দলে একাধিক প্রার্থী

জে.খান স্বপন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১২ ১১:১৩:২৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-১২ ৫:১৬:২৮ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হবেন বলে নিশ্চিত। তাই এ আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অন্য কোনো দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী নেই।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন একাধিক নেতা। তারা হলেন- দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান, কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা (উত্তর) সাধারণ সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম স্বজল।

বরিশালের গৌরনদী হলো দক্ষিণের ছয় জেলার প্রবেশদ্বার। অন্যদিকে ১২৩নং সংসদীয় আসন এখান থেকেই শুরু। এই দুইয়ের পাশাপাশি গৌরনদী আর আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে বরিশাল-১ আসন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে। বিশেষ করে দেশ স্বাধীনের পর পাঁচবার বরিশাল-১ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলেই ছিল। কেননা এই আসনে বরাবর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন কৃষককুলের নয়নের মনি খ্যাত শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ছেলে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।

তাই শুধু এই আসনে নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে তাকেই আওয়ামী লীগের অভিভাবক বলে দাবি করেন দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।

তবে এই আসনে মহাজোটের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ঢাকা দক্ষিণ শাখার সদস্য অ্যাডভোকেট সেকেন্দার আলী, জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম রহমান পারভেজকে প্রার্থী দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ একাই এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হতে পারেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস তৃণমূলের।

এ ব্যাপারে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ আসন নৌকার। বিপুল ভোটে নৌকা বিজয়ী হবে। কারণ আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখন এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজের ব্যাপক উন্নয়ন করে। উন্নয়নের পাশাপাশি বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কারণে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে। বিএনপির সময় সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয়েছে। এখানকার ভোটাররা বিএনপিকে বয়কট করেছে। বিএনপি জনগণের ভালো চাইবে কখন, দলীয় কর্মসূচি পালনের চেয়ে নিজেদের মধ্যে তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। তাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এই সন্ত্রাসী দলকে জনগণ ভোট দেবে না।’

এদিকে আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী থাকলেও সারা দেশের ন্যায় এই আসনেও বিএনপিতে রয়েছে দ্বিধা-বিভক্তি। এ কারণেই বরিশাল-১ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন।

বিএনপি থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রাক্তন তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক প্রাক্তন সাংসদ এম জহিরউদ্দিন স্বপন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান, কার্যনির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সংস্কারপন্থি বলে একটি পক্ষ দল থেকে আমাকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপির নীতিনির্ধারকরা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশার প্রতি আস্থা রেখে আমাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এ ধারাবাহিকতায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। একইসঙ্গে নেত্রী আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও নির্দেশ দেন।’

বিএনপির অপর সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উত্তর জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান বলেন, ‘বিএনপির দুঃসময় ২০০৮ সালে দলের মনোনয়ন পেয়ে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নামমাত্র কিছু ভোটে হেরেছিলাম। তাও আবার বরিশালের আওয়ামী লীগের অধিপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। আমার কর্মী-সমর্থকদের তখন মাঠে থাকতে দেওয়া হয়নি। এখনো একই অবস্থা বিরজমান এখানে। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। এমনকি ঢাকায় পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পৌর নির্বাচনে এলাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়েছিলাম। তখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রচারণায় বাধা দিয়েছিল। দলের ত্যাগী কর্মী হিসেবে আশা করছি আগামী নির্বাচনে আমাকেই দল মনোনয়ন দেবে।’

উত্তর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল বলেন, ‘আন্দোলনে কারা মাঠে ছিল, তা কেন্দ্রীয় কমিটি অবগত। সর্বদা তৃণমূলে অবস্থান নিয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলীয় সকল কর্মসূচি পালন করেছি। মামলা-হামলার শিকার স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সবসময় পাশে থেকেছি। তাই তাদের সমর্থন রয়েছে। তা ছাড়া বিএনপি চাচ্ছে আগামী নির্বাচনে নতুনদের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে। সেই বিবেচনায় এ আসনে আমি দলীয় মনোনয়ন পেতে আশাবাদী।’

আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘আশির দশকে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতির হাতেখড়ি। সেই থেকে ধারাবাহিকভাবে যুবদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। নাশকতার মামলার আসামি হওয়ায় গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকায় আসতে পারছি না।’

মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকাসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এ ছাড়া সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে নারাজ জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ঢাকা দক্ষিণ শাখার সদস্য অ্যাডভোকেট সেকেন্দার আলী, জাপার কেন্দ্রীয় সদস্য এস এম রহমান পারভেজ।

 

 

রাইজিংবিডি/বরিশাল/১২ মার্চ ২০১৮/জে. খান স্বপন/সাইফুল

Walton Laptop
 
     
Walton