ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ চৈত্র ১৪২৩, ৩০ মার্চ ২০১৭
Risingbd
মার্চ
সর্বশেষ:

বারি-১৪ ও ১৫ সরিষার আবাদে মাগুরায় বাম্পার ফলন

শাহীন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৫ ১০:৫৩:১৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-৩১ ১১:০০:৩১ এএম

মো. আনোয়ার হোসেন শাহীন, মাগুরা : মাগুরার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠে চোখজুড়ানো হলুদ সরিষা খেতের ফুলগুলো এখন পরিপক্ক দানায় পরিণত হয়েছে। জেলায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠ থেকে সরিষা তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

 

মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে সরিষা তোলার ধুম। রবি শস্যের মধ্যে সবার আগে ঘরে ওঠে এই ফসল। বাজারেও উঠতে শুরু করেছে সরিষা। ভালো দাম পেয়ে কৃষক খুশি। উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন স্বল্পমেয়াদি হওয়ায় চাষিরা দিন দিন সরিষা চাষের দিকে ঝুঁকছেন। চাষিরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার ভালো ফলন পেয়েছেন তারা।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া থাকায় আর যথাযথ পরিচর্যার কারণে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। পৌষের প্রথম সপ্তাহ থেকে তৈলবীজ সরিষা পাকতে শুরু করেছে। এখন চলছে সরিষা কাটার পুরো মৌসুম। চলবে সারা মাস জুড়ে।

 

চলতি রবি মৌসুমে জেলার চারটি উপজেলায় ৯,৩৫৫ হেক্টর জমিতে  সরিষার আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫,০২০ হেক্টর, মহম্মদপুরে ৫০০ হেক্টর, শালিখায় ৩,৭৬০ হেক্টর ও  শ্রীপুর উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি দেড় মেট্রিক টন হিসেবে ১৪ হাজার মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
জেলায় উচ্চ ফলনশীল বারি-১৪ ও বারি-১৫ জাতের সরিষার আবাদ কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষি বিভাগ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এ দুটি অধিক ফলনশীল সরিষা আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। নতুন উচ্চফলনশীল সরিষা আবাদে আশানুরুপ ফল পাওয়া গেছে।

 

সূত্র জানায়, ফলন কমে যাওয়া, উৎপাদনের জন্য বেশি সময় লাগার কারণে দিন দিন এ এলাকার কৃষকেরা সরিষা চাষে উৎসাহ হারাচ্ছিলেন। সাধারণত কৃষকেরা  স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারি-৯ ও টোরি-৭ জাতের সরিষার আবাদই বেশি করতেন। কম ফলন ও সময় বেশি লাগায় কৃষকরা  সরিষার আবাদ মাত্রারিক্ত কমিয়ে দেন। চলতি মৌসুমের শুরুতে কৃষি বিভাগ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত অধিক ফলনশীল জাতের বারি-১৪ ও বারি-১৫  সরিষা আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। পাশাপাশি কৃষক বারি ৫ ও ৮ জাতেরও সরিষার আবাদ করছেন।

 

নতুন উচ্চফলনশীল এই সরিষা আবাদে কৃষকের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ফিরে আসবে বলে আশা  করছে কৃষি বিভাগ। নতুন এ দুটি জাতের সরিষা মাত্র ৭৫-৮০ দিনে ঘরে তোলা যায়। হেক্টরে ফলন হয় দেড় হাজার কেজি। সরিষা কেটে ঐ জমিতেই আবার বোরোর আবাদ করা যায়।  এতে কৃষি জমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

 

মাঠে গেলে দেখা যায়, মাঠে মাঠে কৃষক সরিষা পরিপক্ক হয়ে আসছে। অনেক মাঠে কৃষকেরা আগাম জাতের সরিষা কর্তন করতে শুরু করেছেন। জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নতুন সরিষা উঠতে শুরু করেছে। ভোজ্যতেলের ব্যাপক চাহিদা ও বাজার চড়া থাকায় সরিষার ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষক। প্রতি মণ ভেজা  সরিষা ১৩০০ টাকা থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  

 

সদরের বেলনগর  গ্রামের আক্কাস হোসেন মোল্যা জানান, তিনি ১৫ শতক জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। কেবল সরিষার শাক বিক্রি করে ৫ হাজার টাকার বেশি আয় হয়েছে তার। সরিষা বিক্রি করে আরও ১০ হাজার টাকার মতো আয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।  

 

শালিখা উপজেলা সদরের আড়পাড়া বাজারের একটি তেল কল রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক আইয়ুব আলী বলেন, সরিষার মৌসুমে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তার কারখানার যন্ত্রচালিত ঘানিতে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত সরিষার তেল উৎপাদিত হয়। এই তেল ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন তিনি।

 

মম্মদপুর  সদরের কৃষক নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি এবার ৫০ শতক জমিতে সরিষার চাষ করেছি। খরচ হয়েছিল ১০ হাজার টাকা। সরিষা বিক্রি করে পেয়েছি ৩৫ হাজার টাকা।’

 

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক  পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, এ অঞ্চলের মাটি সরিষা চাষের উপযোগী হওয়ায় দিন দিন আবাদ বাড়ছে। এ বছর সরিষার উৎপাদন আরও বাড়বে।
 

 

 

 

রাইজিংবিডি/মাগুরা/ ৫ জানুয়ারি ২০১৭/ শাহীন/টিপু

Walton Laptop