ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ চৈত্র ১৪২৩, ২৩ মার্চ ২০১৭
Risingbd
মার্চ
সর্বশেষ:

‘বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র এখনো চলছে’

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১১ ৬:৫৫:১৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১১ ৮:১৪:৫২ পিএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণের জন্য এক-এগারো সৃষ্টি হয়েছিল জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিরাজনীতিকরণের সেই ষড়যন্ত্র এখনো চলছে।’

বুধবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘এক-এগারো গোটা জাতির জন্য কলঙ্কময়। এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকরণ করা। দুর্ভাগ্য যে, আজকে এক-এগারোর ১০ বছর পরেও ভিন্ন আঙ্গিকে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া দেখছি। সেই সময়ে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপিকে কীভাবে নিঃশেষ করে দেওয়া যায় তার প্রক্রিয়া চলেছে। ষড়যন্ত্রের সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।”

গণতন্ত্রকে ‘নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য’ সৃষ্ট এক-এগারোতে বিএনপির ওপর সবচেয়ে বেশি আক্রমণ হয়েছিল বলেও দাবি করেন দলটির এই নেতা।

চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘কচি-কাঁচা মিলনায়তনে’ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট।

বিএনপি অনুমতি না পেলেও রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সমাবেশ করার প্রসঙ্গ টেনে এর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

সেখানে সমাবেশ করতে আমরা অনুমতি চেয়েছিলাম, পাইনি। এটা নতুন কিছু নয়। ৫ জানুয়ারির পর থেকে বিএনপি ৭ বার সমাবেশ করতে অনুমতি চেয়েছে, সরকার দেয়নি। সারাদেশে এখন দুটো আইন। আওয়ামী লীগের জন্য একটি আইন আর অন্য সবার জন্য আরেকটি আইন।’

তিনি বলেন, ‘শুধু বিএনপি নয়, সব বিরোধী দল ও মতকে রাজপথে নামতে দেওয়া হয় না। তেল-গ্যাস-খনিজ-সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির যারা রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রর বিরোধিতা করে আন্দোলন করছে তাদেরও একই অবস্থা। এরা (আওয়ামী লীগ) আবার গণতন্ত্রের কথা বলে।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নিয়ে খালেদা জিয়াকে লক্ষ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।

‘প্রধানমন্ত্রী আপনি সরকারের প্রধান, নির্বাহী বিভাগের প্রধান। একটি মিথ্যা মামলা হয়েছে। সেই মামলায় অনুসন্ধানের পর বিচারের কার্যক্রম চলছে। আপনি ইতিমধ্যে অনুসন্ধানও করে ফেলেছেন, অভিযুক্তও করেছেন, ট্রায়ালে নিয়েছেন, আবার বলেও দিচ্ছেন চুরি করেছে। অর্থাৎ, বিচারকের রায় দেওয়ার আর কি প্রয়োজন আছে? সেই মামলা কোন দিকে যাবে সহজেই বুঝতে পারি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এভাবে সরকার প্রধান হয়ে যদি আরেকজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মামলায় কথা বলতে থাকেন, সেই মামলার রায় কী হবে আমরা জানি।’

মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং মামলাকে প্রভাবিত করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকামী মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল, সেগুলো কোথায়? আর খালেদা জিয়ার নামে পাঁচটি মামলা ছিল। এখন তা ২৯টিতে রূপ নিয়েছে।’

দেশ গভীর সংকটে রয়েছে উল্লেখ করে এ অবস্থা থেকে উত্তরণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

নতুন নির্বাচন কমিশনের গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতির সংলাপ প্রক্রিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি সহায়ক সরকারের অধীনে যদি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন হয়, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংলাপ করছেন এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। শেষ পর্যন্ত উনি কী করবেন তার ওপর নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের ভব্যিষ্যৎ। আর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সত্যিকার অর্থেই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর।’

জঙ্গিবাদের উস্কানিদাতাদের গণআদালতে বিচার করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘আমরাও চাই যারা উস্কানি দিচ্ছে তাদের সঠিকভাবে খুঁজে বের করুন। কিন্তু আপনারা তো সেটি করছেন না। জঙ্গিবাদে যারা অভিযুক্ত হচ্ছে তাদের সঙ্গে সঙ্গে মেরে দিচ্ছেন। কোনো তদন্ত হচ্ছে না। সম্ভবত এই কারণে যে, সুষ্ঠু তদন্ত হলে এবং সত্য উদ্ঘাটিত হলে আপনাদের মুখের চেহারা পাল্টে যাবে, মুখোশ উন্মোচিত হবে? কেন তদন্ত করছেন না? বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না?’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ নেতা রিয়াজুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা সভাপতি এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক মনির খান।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ জানুয়ারি ২০১৭/রেজা/মুশফিক

Walton Laptop