ঢাকা, বুধবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৪, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

বেসরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন নিয়ে বাজেটের আগে বসবেন অর্থমন্ত্রী

হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১১ ৫:৫২:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১৪ ১০:০৭:২৭ এএম

বিশেষ প্রতিবেদক : বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের পেনশন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আগেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা যাতে অবসরে যাওয়ার পর পেনশন পান, সে বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। এ বিষয়ে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বসতে হবে। এ কারণে কিছুটা সময় লাগবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা পেনশন শতভাগ উঠিয়েছেন, তারা ডুবেছেন। শতভাগ পেনশন তুলে নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত। পেনশন অবসরকালীন সময়ের নিরাপত্তা। পেনশনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন অনেক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যারা শতভাগ পেনশন পাচ্ছেন তারা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকেই চাকরি শেষে পুরো পেনশন তুলে নিয়ে বিপদে পড়েছেন। এজন্য ভবিষ্যতে যাতে এমন সমস্যা না হয়, সেজন্য কেউ যাতে ৫০ শতাংশের বেশি পেনশন তুলতে না পারেন সেজন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুয়ায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পেনশনের পুরো টাকা আর একবারে তুলে নিতে পারবেন না। তবে অর্ধেক তুলে নিতে পারবেন। বাকি অর্ধেক নিতে হবে মাসে মাসে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বেসামরিক ও সামরিক সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন এ বিধান চালু করেছে। পেনশনধারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার স্বার্থে বিধানটি চালু করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বিধান কার্যকর হবে। অর্থাৎ এ বছরের ৩০ জুন বা তারপর যাদের অবসর-উত্তর ছুটি শেষ হবে, তারাই নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন। তবে পেনশনার বা পারিবারিক পেনশনাররা মাসিক পেনশনের ওপর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাবেন। এটাও কার্যকর হবে আগামী ১ জুলাই থেকে।

বর্তমানে কেউ চাইলে পুরো টাকা তুলে নিয়ে যেতে পারেন, আবার মাসে মাসেও নিতে পারেন। অর্থাৎ দুটি বিকল্পই খোলা আছে। নতুন বিধানে পেনশনের ৫০ শতাংশ মাসিক ভিত্তিতে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের শতভাগ পেনশনের টাকা তুলে নেওয়ার পরিবর্তে ৫০ শতাংশেরই সুপারিশ করা হয়েছিল।

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পেনশন নিয়ে তার নতুন পরিকল্পনা এবং প্রবীণদের জন্য তার অনুভূতির কথা বলেছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এত বয়সে কোথায় হাত পাতবেন প্রবীণরা?’ বাজেট বক্তব্যে প্রবীণদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ চাহিদা পূরণের সহায়ক তহবিল সৃষ্টির কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আরো বলেছিলেন, এতে (নতুন বিধান) দেশের আর্থিক খাতের গভীরতাও নিশ্চিত হবে।

প্রজ্ঞাপনটি হঠাৎ জারি করা হয়নি। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন রাইজিংবিডিকে। সে সময় এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। অর্থ বিভাগ চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই নতুন পেনশন পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করে। এ বিষয়ে একটি ধারণাপত্রও তৈরি করে, যা  গত বছরের আগস্ট মাসে অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়।

 



অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, পেনশনের পুরো টাকা একসঙ্গে তুলে নেওয়ার রেওয়াজ বিশ্বের কোথাও নেই। এমনকি প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানেও নেই। পেনশনের সব টাকা একসঙ্গে তুলে নিয়ে যাওয়াটা পেনশন ধারণার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বেসামরিক সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ব্যবস্থার বর্তমান নিয়ম ১৯৯৪ সালে চালু হয়। আর সামরিক সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থা চালু হয় ২০০৩ সালে।

বেসামরিক কর্মচারীদের জন্য নতুন বিধান কার্যকরের তারিখ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলেও সামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি নতুন প্রজ্ঞাপনে। বলা হয়েছে, ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০০৩ সালের ৪ ডিসেম্বর জারি করা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ পেনশন কম্যুটেশন সুবিধা দেওয়ার স্মারকটি এই প্রজ্ঞাপনের আলোকে সংশোধন করবে।’

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত আছেন। পেনশনধারীদের নিয়ে সম্প্রতি তৈরি করা অর্থ বিভাগের তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী, বর্তমানে অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মচারী আছেন সাড়ে ৫ লাখ। যদিও এখনো অনেকে তথ্যভাণ্ডারের আওতায় আসেননি।

সম্প্রতি কয়েকজন প্রাক্তন সচিব অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে দেখা করে তাদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। এদের প্রায় সবাই পেনশনের পুরো টাকা তুলে নিয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যাদের বয়স ৭০ বছরের বেশি হয়েছে, তাদের পেনশন প্রতিস্থাপনের দাবি জানান তারা। অর্থমন্ত্রী তাদের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ জানুয়ারি ২০১৭/হাসনাত/রফিক

Walton Laptop