ঢাকা, বুধবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৪ মে ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ভূমিকম্প : বিপর্যয় এড়াতে দরকার যথাযথ প্রস্তুতি

এনএ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৫ ২:৩৪:০২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-০৭ ১০:০৯:৩৫ এএম
ভূমিকম্পের পর কমলগঞ্জে ভূমিতে তৈরি হওয়া ফাটল

আবারো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশ। ৩ জানুয়ারি বেলা ৩টার দিকে এই কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ভারতের ত্রিপুরার আম্বাসা এলাকায়, ভূপৃষ্ঠের ৩৬ কিলোমিটার গভীরে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই প্রায় ১০ ঘণ্টা পর ওই দিন দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে আবারও ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার। এতে দেশজুড়ে মানুষের মনে শঙ্কার সৃষ্টি হয়।

 

মঙ্গলবার বিকেলের ভুমিকম্পে রাজধানীর ভবনগুলো কেঁপে উঠলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভবন থেকে তড়িঘড়ি রাস্তায় নেমে আসেন। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে সুনামগঞ্জে দুজনের মৃত্যু হয়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ভূমিতে ফাটল তৈরি হয় এবং ওই ফাটল দিয়ে বালি ও পানি বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আহত হয় কয়েকজন।

 

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আর এটি এমন একটি দুর্যোগ যার পূর্বাভাস দেওয়ার উপায় এখনো বের করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। ঢাকা মহানগরীতে মানুষের পাশাপাশি আবাসিক-অনাবাসিক স্থাপনা বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। কিন্তু সেসব স্থাপনা কতটা মান সম্পন্ন, বড় ধরনের ভূমিকম্পে সেগুলো টিকে থাকবে কি না এই আশঙ্কা প্রবল। ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গাও নেই ঢাকা শহরে।

 

অভিযোগ রয়েছে, দেশে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড মানা হয় না। ফলে মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পও মারাত্মক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে। আর বড় ধরনের ভূমিকম্প ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। তাই ভূমিকম্পের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের স্থাপনা এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

 

ভূমিকম্প একই সঙ্গে জীবন, সম্পদ, নগর ও সভ্যতা বিনাশী। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় ভূমিকম্পের পর উদ্ধার প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি যতটুকু থাকা দরকার, তার প্রায় কিছুই নেই বললেই চলে। উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনশক্তির যেমন অভাব রয়েছে, তেমনি প্রযুক্তিগত দিক থেকেও পিছিয়ে আছি আমরা। এসব দিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

 

এবারের ভূমিকম্পে দেশে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এটি একটি সতর্ক বার্তা দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাটি ফেটে বালি ও পানি বের হয়ে যাবার ব্যাপারটিকে হাল্কাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

বিশ্বে সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার একটি চিলি। সেখানে ১৯৬০ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী (রিখটার স্কেলে ৯.৫ মাত্রা) ভূমিকম্প হয়। তাই চিলি ধীরে ধীরে তাদের সব বিল্ডিং ভূমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তুলেছে। সে কারণে বড় ভূমিকম্পতেও সেখানে ক্ষয়ক্ষতি খুব কম হয়। এই যেমন ২০১৫ সালে চিলিতে আট মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। যাতে মানুষ মারা যায় মাত্র তেরোজন। অথচ হাইতিতে ২০১০ সালে সাত মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় তিন লাখ মানুষ মারা যায়। এর প্রধান কারণ দুর্বল স্থাপনা। হাইতিতে বলতে গেলে ভূমিকম্প সহনীয় বিল্ডিং নেই, তাই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা হয় ব্যাপক।

 

বাংলাদেশের স্থাপনাসমূহ নিয়েও এরকম শঙ্কা রয়েছে। তাই ক্ষয়ক্ষতি যাতে কম হয় সে জন্য সরকার প্রণীত বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন। ভবনকে ভূমিকম্প সহনীয় করে নির্মাণ করা হলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব। এছাড়া বিপদ মোকাবেলায় সাধারণ মানুষকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা এবং নিয়মিত মহড়া ও স্বেচ্ছাসেবক তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ জানুয়ারি ২০১৭/এনএ/টিআর

Walton Laptop