ঢাকা, শনিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

‘ভোটের আগে কতই দয়া-দরদের কথা, আজ কুন্টি গেল’

একে আজাদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৭-১৭ ৩:২১:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-২০ ৭:০৮:৪৪ পিএম
মথুরাপাড়া বাজারের সন্নিকটে পরিত্যক্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিতরা

বগুড়া প্রতিনিধি: বাড়ি ঘরের মধে কারো কুমুর পানি, আবার কারো গলা পরিমান পানি। এই পানি মধে থাকতে থাকতে হাত, পাও, গাঁও গতরে চুলকেনি হলো। পানির ঠেলায় বাড়ি ঘর ছাড়ে বান্দের উপর কোন হালে ছাপড়া তুলে আছি। না খাইয়া চুলকানি আলা শরীল নিয়ে ক্যাংকা করে আছি, ইলিপ দেওয়া তো দুরের কথা এক বারের জন্যও খোঁজ খবর নিবারও আইলা না। ভোটের আগে কতই দয়া-দরদের কথা, আজ সেগলে কতা কুন্টি গেল।

কথাগুলো বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের আয়শা বেগমের (৬০)। এ গ্রামের পানিবন্দি আয়শা বেগমই নয়,  জাহানারা (৩৮), মালেকা (৪৫), তারা বেগম (৪০), পাশের কাশিয়াহাটা গ্রামের আব্দুল আজিজ (৭০), আমেনা বেগম (৫৫), নান্দিয়ারপাড়া চরের হামিদা বেগম (৬০) সবার মনে একই ক্ষোভ।

এরা সবাই মথুরাপাড়া বাজারের সন্নিকটে পরিত্যক্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিত।গতকাল বিকেলে কর্ণিবাড়ী ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আশ্রিতদের খোঁজ নিতে এলে বন্যার্তরা তাকে নানা বাক্যবান ছুড়ছিলেন।

জবাবে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার ইচ্ছা আছে আপনাদের কিছু দেওয়ার। কিন্তু আমরা যদি বরাদ্দ না পাই, তা হলে আপনাদের কোথা থেকে রিলিফ দিবো। দিবো বিশুদ্ধ পানি, টিউবওয়েল, ল্যাট্রিন ও রোগের ওষুধপথ্য।’

তিনি বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে ১ হাজার ৪৩ টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ পরিবার নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সবারই এই মুহুর্তে রিলিফের দরকার।’

এ সময় তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমি বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ২৫ জনের জন্য ২৫ কেজি করে গম। যা যৎসামান্য রিলিফ। সবাইকে দেওয়া তো আর সম্ভব না।’

সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, কেবল এক ইউনিয়নের এক ওয়ার্ডেই নয়, সারিয়াকান্দির বন্যা আক্রান্ত ৯টি ইউয়িনের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের একই অবস্থা। উপজেলা প্রশাসন থেকে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা দেওয়া হচ্ছে বলা হলেও, বাস্তবে তা একেবারেই অপ্রতুল। তাই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে হাহাকার চলছে ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বললেন, ‘যথেষ্ট ত্রাণ রয়েছে আমাদের হাতে। আমরা দিচ্ছিও। আরও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা খুব শীঘ্রই তা বিতরণ করবো। বিতরণ করবো নগদ টাকা, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান রিলিফ সামগ্রী।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ত্রাণের জন্য কোথাও হাহাকার নেই। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্যার্তদের জন্য সবই ঠিক মতো আছে।’

 

 

রাইজিংবিডি/বগুড়া/১৭ জুলাই ২০১৭/একে আজাদ/টিপু

Walton Laptop