ঢাকা, শুক্রবার, ১০ চৈত্র ১৪২৩, ২৪ মার্চ ২০১৭
Risingbd
মার্চ
সর্বশেষ:

মহান বিজয় দিবস

এনএ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-১৬ ৮:০১:০০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৬-১২-১৬ ৮:০১:০০ এএম

ইতিহাসের পাতায় রক্তিম আখরে লেখা একটি দিন ১৬ ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির জীবনে এক মহা আনন্দের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করে বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ।

 

ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আজকের এই দিনে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বীর বাঙালির কাছে হার মেনে নিয়ে স্বাক্ষর করে পরাজয়ের সনদে। পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। বাঙালি জাতিকে এনে দেয় আত্মপরিচয়ের ঠিকানা।

 

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ বিজয়। তাই এ দিনটিতে আমাদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি বেদনাও কাজ করে। কীর্তিমান যেসব মানুষের আত্মত্যাগে জাতির এই অর্জন সম্ভব হয়েছিল, বিজয়ের এই দিনে জাতির সেসব সূর্যসন্তান ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। আমরা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনে অনন্যসাধারণ নেতৃত্ব দান করেন।

 

ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি খুব বেশি দীর্ঘ সময় না হলেও একটি জাতির উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য একেবারে কম নয়। স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, যে লক্ষ্য ও আদর্শকে সামনে রেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, সেই লক্ষ্য ও আদর্শ কতটা অর্জিত হয়েছে? স্বাধীনতার প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল সব ধরনের অধীনতা থেকে মুক্তি এবং সমাজে গণতন্ত্র, ন্যায় ও সমতা প্রতিষ্ঠা।

 

সব নাগরিকের মৌলিক চাহিদা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বাহাত্তরের সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে মৌলিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমরা সেখানে স্থির থাকতে পারিনি। আমাদের স্বাধীনতার বয়স এখন ৪৫ বছর। স্বাধীনতা যুদ্ধের লক্ষ্য ছিলো একটি সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ পৃথক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা; যেখানে আপামর জনগণ স্বাধীন জীবনযাপন করবে। কিন্তু সে লক্ষ্য অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাও বারবার ব্যাহত হয়েছে। মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকার খর্ব হয়েছে অগণতান্ত্রিক ও অপশক্তির ক্ষমতা দখলে। তবে প্রতিবারই এদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে।

 

তবে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার লড়াইয়ের সেইসব উত্তাল দিনগুলোতে যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে হাত মিলিয়েছিল ঘাতক পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে, দীর্ঘদিন ধরে সেই রাজাকার-আলবদরদের বিচার না করার কলঙ্ক জাতিকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারকাজ শুরু হয় ২০১০ সালের মার্চে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শেষে এ পর্যন্ত মতিউর রহমান নিজামীসহ পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জাতি কিছুটা কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।

 

আজ বিজয়ের এ দিনে আমাদের সবার অঙ্গীকার সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। বিজয় দিবসের শপথ হোক, সব ধরনের হানাহানি ও বৈরিতাকে পেছনে ফেলে, দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবাই এক হয়ে কাজ করব।  

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৬ ডিসেম্বর ২০১৬/এনএ

Walton Laptop