ঢাকা, শুক্রবার, ১০ আষাঢ় ১৪২৪, ২৩ জুন ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

যোগ্যতার মাপকাঠিতে চাকরি খুঁজছেন প্রতিবন্ধী মশিউল

সোহেল মিয়া : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-০৭ ১১:৪৭:০৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-০৭ ১১:৪৭:০৯ এএম

রাজবাড়ী প্রতিনিধি : দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে চাকরি চায় শারিরীক প্রতিবন্ধী এক যুবক।

অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও দৃঢ় মনোবল তাকে স্বপ্ন জুগিয়েছে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার। সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে সে স্বপ্ন দেখতো একটি সোনালী দিনের। তাইতো বিভিন্ন মানুষের ভৎর্সনা আর কটুক্তি শোনার পরও বন্ধ রাখেনি তার লেখাপড়া। এখন সে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের মাষ্টার্স শেষ পর্বের ছাত্র।

অদম্য এই প্রতিবন্ধী যুবকের নাম মশিউল আযম রাজিব। সে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাসপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর মেঝ ছেলে। মশিউলরা তিন ভাই ও এক বোন। মশিউলের বাবা ছিলেন একজন গার্মেন্টস কর্মী। মশিউল যখন ৮ম শ্রেণির ছাত্র তখন তার বাবা মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার সাথে সাথেই স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতে থাকে প্রতিবন্ধী মশিউলের। মশিউলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তার বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া সংসারের অভাব অনটনকে পাশ কাটিয়ে তাকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সাহস যোগান।

মশিউলের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া জানান, আমাদের কোন জায়গা জমি নেই। যেটুকু ছিল সেটুকু গ্রাস করেছে পদ্মা নদী। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে শুধু বসত ভিটা টুকুই রয়েছে।

মশিউল জন্মের মাত্র এক থেকে দেড় বছর বয়সেই পোলিও রোগে আক্রান্ত হন। পোলিও আক্রান্ত হওয়ার পর তার পা চিকন হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

মশিউলের সাথে কথা বলে জানা যায়, সে পাংশার হাবাসপুর কে.রাজ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে এসএসসি, ২০১০ সালে ড. কাজী মোতাহার হোসেন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১৩ সালের পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে গ্রাজুয়েশন করেন। বর্তমান সে ভূগোল বিষয়ে মাস্টার্স শেষ পর্বের শিক্ষার্থী।

শারীরিক প্রতিবন্ধী এই শিক্ষার্থী জানান, স্নাতক পাস করার পর থেকেই সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। এর মধ্যে খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হলেও মৌখিক পরীক্ষায় আমাকে শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে একটি চাকরির জন্য লিখিত পরীক্ষা দিয়ে এসেছি। আশা করছি এবারও লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরিটি হবে কিনা এ বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।

তবে মশিউলের দাবী সে তার যোগ্যতার প্রমাণ করেই পেতে চান একটি সরকারী চাকরি। এ জন্য শুধু প্রয়োজন কর্তৃপক্ষের একটু সহানুভুতি আর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। সে সমাজের বোঝা নয় একজন স্বাভাবিক মানুষের মত বাঁচতে চায়।

মশিউলের পরিবারের চাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে প্রতিবন্ধীদের প্রতি দৃষ্টি দিচ্ছেন সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে মশিউলকে যেন একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয় এবং প্রতিবন্ধীর কোটাটি যথাযথ বাস্তবায়ন করা হয়।

প্রতিবন্ধী মশিউলের একটি চাকরির দাবী তুলে পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল মোর্শেদ আরজ বলেন, ‘প্রতিবন্ধী এই যুবক লজ্জা না করে হামাগুড়ি দিয়ে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। আজ সে শিক্ষিত একটি প্রতিবন্ধী যুবক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদেরকে যেভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছেন তারই ধারাবাহিকতায় মশিউলেরও একটি কর্মসংস্থান হোক। মশিউল একটি চাকরি পেলে আমাদেরও সামাজিক দায়বদ্ধতা কিছুটা পূরণ হবে।’

 

 

 

রাইজিংবিডি/রাজবাড়ী/৭ জানুয়ারি ২০১৬/সোহেল মিয়া/টিপু

Walton Laptop