ঢাকা, সোমবার, ৭ কার্তিক ১৪২৫, ২২ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

রাগীব আলী ও ছেলে আব্দুল হাই-এর জামিন

নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৮ ৭:১২:১৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-০৮ ৭:১২:১৭ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট : সিলেটের তারাপুর চা বাগান লিজের ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের জামিন পেয়েছেন সিলেটের শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই।

রিভিশন পিটিশনের প্রেক্ষিতে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি শওকত হোসাইনের একক বেঞ্চ তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।

রাগীব আলীর আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম কাফি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ০৯ আগস্ট সিলেট বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক তাদের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন দাখিল করেন রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই। রিভিশনের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন। 

তিনি ছাড়াও রাগীব আলীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক।

গত ০৯ আগস্ট শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই-এর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখেন সিলেট বিশেষ দায়রা জজ আদালত। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের জামিনে থাকায় আসামিদের ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

নির্ধারিত সময়ের ৫ দিন আগে ১২ সেপ্টেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত শুনানির পর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠান।

তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে এ বাগান দখল করেন রাগীব আলী। ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি এবং সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করেন।

২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ওই মামলা দুটি পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দেন সুপ্রিমকোর্ট। পরে একই বছরের ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দিনই রাগীব আলী তার ছেলে আবদুল হাইকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। পরে ১২ নভেম্বর জকিগঞ্জ সীমান্তে গ্রেপ্তার হন আবদুল হাই। আর রাগীব আলী ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জে গ্রেপ্তার হন।

সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের তৎকালীন মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো পাঁচটি ধারায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

একই বছরের ৬ এপ্রিল প্রতারণা করে তারাপুর চা বাগানের ভূমি আত্মসাতের মামলায় রাগীব আলী ও তার পরিবারের ৫ সদস্যের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়।

পলাতক থেকে ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’ প্রকাশের অভিযোগে ছেলেসহ রাগীব আলীর আরো এক বছরের কারাদণ্ড হয়। এ তিনটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন রাগীব আলী।




রাইজিংবিডি/সিলেট/০৮ অক্টোবর ২০১৮/নোমান/বকুল

Walton Laptop
 
     
Walton