ঢাকা, রবিবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

রাজনৈতিক অস্থিরতার বলি হতে পারে চামড়া শিল্প: হাজী বেলাল হোসেইন

: রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৩-০৬-২৭ ১২:৩০:৩০ এএম     ||     আপডেট: ২০১৩-০৭-০৪ ৩:৫৫:২৬ পিএম

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতালে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের চামড়া শিল্প। ব্যাহত হচ্ছে রফতানিা। সময় মতো সরবরাহ করতে না পারায় বাতিল হচ্ছে বিদেশী অর্ডার। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিদেশীরা। ভারত এবং পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে তারা।

কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ ফিনিস লেদার, লেদার গুডস্ এন্ড ফ্যুটওয়্যার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হাজী মো. বেলাল হোসেইন। রাইজিংবিডি’র সঙ্গে আলাপচারিতায় উঠে আসে চামড়া শিল্পের অনেক সম্ভবনার কথাও। তাঁর সাক্ষাতকার নিয়েছেন ইমরুল কায়সার।

প্রশ্ন: চামড়া শিল্পের বর্তমান অবস্থা কী?
উত্তর: বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম মোটামুটি ভাল, সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের দরের সঙ্গে সংগতি রয়েছে। বাজারে চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আমরা অর্ডার অনেক কম পাচ্ছি।

প্রশ্ন: একটু বুঝিয়ে বলবেন?
উত্তর: আসলে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। এ সেক্টরের প্রতিটি শিরায় উপশিরায় হরতালের বিরূপ প্রভাব পড়ছে। আমরা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি না। পিছিয়ে পড়ছি। সঠিক সময়ে রফতানি করতে পারছি না। বিদেশী কাস্টমাররা এলসি ফেরত নিচ্ছে। আমরা ব্যাংক ঋণও সময় মতো পরিশোধ করতে পারছি না। দিন দিন অর্ডার কমে যাচ্ছে। সময় মতো দেশের ভিন্ন স্থান থেকে চামড়াগুলো ফ্যক্টরিতে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রক্রিয়াজাত করার পর চামড়া নষ্ট হচ্ছে। বিপুল পরিমান চামড়া নষ্ট হওয়ারও আশংকা থাকছে। আর চামড়ায় লবন দেয়ার পর সঠিক সময়ে তার প্রক্রিয়াকরণ না হলে ওই চামড়ার গ্রেডিং কমে যায়। মান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বেশি দর দিয়ে চামড়া কিনে কম দরে বিক্রি করতে হয়। উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। এই সব কিছুর পেছনে দায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা।   

প্রশ্ন: গত অর্থবছর এবং চলতি অর্থবছরের রফতানি আয়ে কতটুকু ফারাক?
উত্তর: গত বছর রাজনৈতি অস্থিরতা বর্তমান সময়ের মতো ছিল না। কিন্তু এ বছর অবস্থা ভয়াবহ। রাজারে চাহিদা আছে ঠিকই কিন্তু আমরা সরবরাহ করতে পারছি না। এরইমধ্যে ইতালি, হংকং, চায়না, কোরিয়া, জাপান, স্পেন, তাইওয়ান, ভিয়েতনামসহ আরো কয়েকটি দেশে অর্ডার একেবারেই কমে গেছে। তারা বলছে-‘তোমরা সময় মতো চামড়া সরবরাহ করতে পারছ না। আমরা তোমাদের কাছে আর চামড়া নেব না।’ তবে আশংকার বিষয় হলো আমাদের এখান থেকে ইতালি, চায়না, জাপানসহ যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চমড়া নিতো তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। গত বছর চামড়া থেকে রফতানি আয়ের টার্গেট ছিল প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। আয় হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। এবারো আমাদের টার্গেট সাত হাজার কোটি টাকা। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা যদি অব্যাহত থাকে কোনো ভাবেই এই টার্গেট পূরণ করা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার বলি হতে যাচ্ছে চামড়া শিল্প।

প্রশ্ন: এ সেক্টরকে রক্ষা করতে কী কী প্রয়োজন?  
উত্তর: কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি করা একটি জটিল প্রত্রিয়া। এখানে প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি মিনিট খুবই গুরুত্বপূর্ন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে হয়। একটু হেরফের হলে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বড় ধরনের লোকসান হতে পারে। ব্যবসায়ী হিসেবে আমরা এটা চাই না। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে যেন, হরতাল ছাড়া অন্য কোনো কর্মসূচি তারা গ্রহণ করে। আর যদি হরতাল দেয় তাহলে চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট কাজগুলোকে যেন হরতালের আওয়তা মুক্ত রাখা হয়।



রাইজিংবিডি/২৭ জুন, ২০১৩ /সম্পাদনা: উদয়