ঢাকা, বুধবার, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২২ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

রাজশাহী জেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশে সংঘর্ষ

তানজিমুল হক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৫-১৬ ৩:২৬:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৫-১৬ ৮:১৮:৫২ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী জেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পাঠানপাড়া এলাকায় উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে প্রতিনিধি সম্মেলনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জেলার সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা ও জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপুর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় নেতা-কর্মীরা মঞ্চ লক্ষ্য করে জুতা-স্যান্ডেল ও পানির বোতল ছুড়ে মারেন। মঞ্চের ব্যানার টেনে-হিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়। ভাঙচুর করা হয় চেয়ারটেবিল।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তাদের সামনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দলের নেতা-কর্মীরা। পরে এ তিন নেতা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে প্রতিনিধি সম্মেলন শেষ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রতিনিধি সম্মেলনে জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপুকে সভাপতি ঘোষণা করার পর সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফার সমর্থকেরা সমাবেশ স্থলে হৈচৈ শুরু করেন। এ সময় হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারপর আবার সমাবেশ শুরু হয়।

এরপর মঞ্চে ডাকা ও নাম ঘোষণা নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হৈচৈ এবং হাতাহাতি ও ভাঙচুর করে নাদিম মোস্তফা সমর্থকেরা। এ সময় নাদিম সমর্থকেরা মঞ্চে উঠে ব্যানার টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পর নাদিম সমর্থক জেলার সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন ও যুগ্মসম্পাদক সৈয়দ মহাসিনের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে গিয়ে সমাবেশ স্থলে প্রবেশ করে আরেক দফা ভাঙচুর শুরু করেন।

এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উঠে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে এ ঘটনার সময় কমিউনিটি সেন্টার থেকে নেতা-কর্মীরা বের হয়ে যান। পরে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার মাইক নিয়ে নেতা-কর্মীদের ভেতরে প্রবেশ করতে বলেন এবং তিনি বক্তব্য দেন। এরপর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মিজানুর রহমান মিনু বক্তব্য রেখে সমাবেশ শেষ করে দেন।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, পুলিশ সমাবেশ স্থলের বাইরে নিরাপত্তায় ছিল। সমাবেশ স্থলের ভেতরে নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার টেবিল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাই সেটি নিয়ন্ত্রণ করেন। এ ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়নি।

এর আগে সোমবার বিকেলে একই স্থানে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কর্মী সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় নিজ দলের নেতা-কর্মীদের বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে জখম করতে দেখা যায়। এতে আহতদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

 

রাইজিংবিডি/রাজশাহী/১৬ মে ২০১৭/তানজিমুল হক/এসএন 

Walton