ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৬ মে ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

রাষ্ট্রবিরোধী না হলে চাকরি হারানোর ভয় নেই : আরাস্তু খান

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-১২ ৩:৩৪:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১৫ ৮:৪১:৪৩ এএম

বিশেষ প্রতিবেদক : ইসলামী ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী রাষ্ট্রবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না থাকলে তাদের চাকরি হারানোর ভয় নেই বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আরাস্তু খান। ব্যাংকটির আমানতকারীদের আমানত সুসংহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি। ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল হামিদ মিঞা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

গত ৫ জানুয়ারি ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর আরাস্তু খান প্রথম অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। ব্যাংকের পারফরমেন্স নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

আরাস্তু খান বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। তবে ব্যাংকের বেশ কিছু বিষয় নিয়ে এ সময় আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক সব দিক থেকে ভালো করছে। এ ব্যাংকের কাজের গতি কী করে আরো বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে ব্যাংকের সবাই একযোগে কাজ করবে। অনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত না থাকলে তার চাকরি হারানোর কোনো ভয় নেই।’

ইসলামি ব্যাংকের অগ্রগতি কোনভাবে থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, এক সাংবাদিককের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নো নো, আমাদের শেয়ার মার্কেটের পরিস্থিতি দেখুন খুব ভাল হচ্ছে। দেশে বিদেশে আমাদের যারা বিনিয়োগকারী রয়েছেন, আমরা তাদের আমানত প্রোটেক্ট ও প্রিজার্ভ করবো। এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

ইসলামি ব্যাংক থেকে কাউকে ছাটাই করা হবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে নিশ্চিত করেছি, তাদেরকে বলেছি, খুঁজে খুঁজে কারও চাকরি খাওয়ার কোন ইচ্ছা আমাদের নাই। এটা খুবই ভাল ব্যাংক। পারফরমেন্সও ভাল। তবে কারো কর্মকা- রাষ্ট্র বিরোধী হলে সে বিষয়ে কোন ছাড় নয়।’

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছেন-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি দেখা যায়, পলিটিক্যাল অ্যাসপিরেশন আছে। আমরা এটা চাই না। আপনারা পেশায় আছেন, আপনাদেরকে পেশাদার হিসাবে কাজ করতে হবে।’

ব্যাংকটির সাম্প্রতিক পরিবর্তন ‘রাজনৈতিক কিছু না’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আরাস্তু খান বলেন, ‘আপনি ভোট দেন, আপনি বিএনপিকে ভোট দিতে পারেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে পারেন। সেটা করার অধিকার আপনার আছে। এটা আপনার পেশায় প্রতিফলন করতে পারবেন না। সে যদি প্রোপার কাজ করে, তার কোন ভয় নেই। এই ব্যাংকে যে কর্মকর্তারা আছেন, তাদের একনিষ্ঠতা ও সততা সম্পর্কে তো আমার বলতে হবে না। আপনারা সেটা ভালো জানেন। সেটা ভালো। আমরা আগামী বছরের জন্য আরো ভাল টার্গেটও দিয়েছি।’

‘উইচ হান্টিং আমি পছন্দ করি না। আনলেস আই ফাইন্ড সামথিং রং।’ এই বাক্যটি ইসলামী ব্যাংকের নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান বেশ কয়েকবার উচ্চারন করেন।

তিনি জানান, সরকারের বড় বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বাস্তবায়ন করতে গেলে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। তারা অনেক শর্ত জুড়ে দেয়। কিন্তু দেশের অভ্যন্তর থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘বড় বড় প্রকল্পে ঋণের ক্ষেত্রে সরকার গ্র্যান্টর হলে ঋণ দিতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কারণ, সরকার কখনো খেলাপী হয় না।’ 

আরাস্তু খান বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন ব্যাংকটির অবস্থা কী। আমি বলেছি ব্যাংকটি খুবই ভালো চলছে। এর ফিন্যান্সিয়াল অবস্থা খুবই ভালো। ২ হাজার ৩ কোটি টাকা গত বছর মুনাফা করেছে। তাদের ২৭ শতাংশ রেমিট্যান্স। নন-পারফরম্যান্স লোন সাড়ে ৩ শতাংশ। ডিপোজিট টু ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ৮৮ শতাংশ। ভেরি ইমপ্রেসিভ নাম্বার। খুবই ভালো অবস্থা ব্যাংকের।’

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ জানুয়ারি ২০১৭/হাসনাত/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop