ঢাকা, শুক্রবার, ৫ শ্রাবণ ১৪২৪, ২১ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

রোবট-মানব বিয়ে সামাজিক স্বীকৃতি পাবে!

মনিরুল হক ফিরোজ : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০১-০২ ২:০৭:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-১৪ ৫:৪৩:০৪ পিএম
প্রতীকী ছবি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : রোবটের সঙ্গে প্রেম ও যৌনসম্পর্ক বিশ্বে এখনো বিরল ঘটনা হলেও, অনেক বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যদ্বাণী করে রেখেছেন যে, রোবটের সঙ্গে মানুষের প্রেম ও যৌন সম্পর্ক স্থাপন কয়েক বছরের মধ্যে রীতিতে পরিণত হবে।

 

কামজনিত প্রযুক্তির উন্নতির ফলে সেক্স ডল ও সেক্স রোবটগুলো জীবন্ত মানুষের মতো স্পন্দন, ত্বক ও অন্যান্য অনুকরণীয় শারীরিক বৈশিষ্ট্যেগুলো পাবে।

 

সুতরাং যে প্রশ্নটা উদয় হয়েছে তা হচ্ছে, রোবটের সঙ্গে সম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতি কী মিলবে? অর্থাৎ বিয়ে বৈধ হবে? এই প্রশ্নটা হাস্যকর শোনালেও, অনেক শিক্ষাবিদ রোবটের এই অধিকারের ব্যাপারটি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন। 

 

অনেক প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, এক দশক আগে হয়তো এই প্রশ্নটা হাস্যকর মনে হতো কিন্তু রোবট ভবিষ্যতে কথোপকথনে যথেষ্ট বাস্তবধর্মী হবে, আবেগ থাকবে এবং নিজেদের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

 

মানব-রোবট বিবাহ তাহলে কী বৈধ্যতা পাবে? এই বিষয়টি নিয়েই সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের গোল্ডস্মিথ, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে আয়োজিত প্রেম ও যৌনতা বিষয়ক রোবট সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ড. ডেভিড লেভি।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ ডেভিড লেভি বলেন, ‘কৃত্রিম পা নিয়ে একজন মানুষ, এখনো একজন মানুষ। অনেকে দুইটি, তিনটি বা চারটি কৃত্রিম অঙ্গ নিয়েও। তাছাড়া কৃত্রিম হার্ট এর ব্যক্তিও মানুষ হিসেবে কোনো অংশে কম নয়। সুতরাং পুরোপুরি কৃত্রিম মস্তিষ্ক কারো সম্পর্কে কী বলা যেতে পারে?’

 

‘আইনশাস্ত্র কিছু মেশিন স্থাপন করতে পারে একজন স্বশাসিত ব্যক্তির অধিকার হিসেবে।’

 

ড. লেভি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ‘মানব-রোবট বিবাহ ভবিষ্যতে আইনের সম্মতি পাবে। বৈধ হবে এ সম্পর্ক।’

 

তিনি এ ঘটনাটিকে বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হিসেবে পরিচিত আমেরিকার অসম বিয়ে এবং সমকামী বিয়ের বৈধতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

 

তিনি বলেন, ‘১৯৬৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যে অসম বিয়ে নিষিদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে গে এবং লেসবিয়ান সম্পর্ক যুক্তরাষ্টে বৈধ হয়ে ওঠে এবং বিস্ময়কর ছিল না, গে এবং লেসবিয়ান মানুষদের সম্পর্ক আরো বেশি কিছুর দাবি।’

 

ড. লেভি বলেন, মানব-রোবট বিবাহ ধারণায় ধর্মীয় বিরোধীতা থাকবে। ‘আমি মনে করি রোবটের বিয়ে প্রসঙ্গে বিতর্কে যারা থাকবে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ মত দেবে যে, বিয়ে কেবলমাত্র দুজন মানুষের মধ্যে হতে পারে। কিন্তু আমি যতদূর জানি যে, বাইবেলে কোথাও লেখা নাই যে, বিয়ে অবশ্যই দুটো মানুষের মধ্যে হতে হবে।’

 

‘আমি কোনো কারণ দেখছি না যে, আগামী দশকে কেন একজন বুদ্ধিমান রোবট একটি শিশুর প্রতিপালনের অংশ হতে পারবে না। যদি একটি রোবট তার ভদ্র শক্তি কর্মদক্ষতার দ্বারা বিয়ে করতে ইচ্ছুক হয় তাহলে আমাদের কেন অনুমান করা উচিত নয় যে, তা সম্মতি পাবে।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে এটা অস্বীকার করা যাবে না যে, রোবট বিয়েতে ইচ্ছুক কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমর্থ হবে না।’

 

‘প্রযুক্তির দ্রুত গতিতে উন্নত হচ্ছে। যা ভাবাতে বাধ্য করছে যে, এখনকার প্রজন্মের মতোই একটি প্রজন্ম হবে রোবট-মানব সম্পর্কের। রোবটের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক অনেকটাই দ্বারপ্রান্তে। রোবটের সঙ্গে প্রেম এবং সেক্স অনেকটাই সাধারণ হচ্ছে। যা একসময় রোবটের সঙ্গে বিয়ের বাস্তব ঘটনার মুখোমুখি করবে।’

 

‘তারা যখন আমাদের সঙ্গী হিসেবে কাজ করতে পারবে, তখন বিয়ের সম্পর্কে তা প্রসারিত হলে তা কেন ধারণা বিরুদ্ধ হবে?’

 

তথ্যসূত্র: মিরর

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ জানুয়ারি ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop