ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখবে যে খাবার

আফরিনা ফেরদৌস : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৬-১২-০২ ৯:১০:৩১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-২২ ৫:১৯:১০ পিএম

আফরিনা ফেরদৌস : আমরা সবাই কমবেশি সতেজ বাতাসের শ্বাস নিতে চাই। কারণ এটি আমাদের শরীরের ভেতর একটি অকৃতিম অনুভূতির সৃষ্টি করে।

 

তবে ঠান্ডা লাগলে বেশিরভাগ মানুষেরই শ্বাস-প্রশ্বাসজনীত সমস্যা দেখা দেয়। আর এর জন্য আমরা ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। কিন্তু আপনি জানেন কি যে, এমন অনেক খাবার আছে যা খেলে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসজনীত সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

 

আসুন জেনে নেওয়া যাক এই খাবারগুলো সম্পর্কে, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসকে সুস্থ ও সতেজ রাখে।

 

আপেল

একটি ব্রিটিশ গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা নিয়মিত আপেল বা আপেলের জুস পান করেন তাদের শ্বাসজনীত সমস্যা কম। আরো বলা হয় যে, যেসব মায়েরা গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন আপেল খান তাদের বাচ্চাদের অ্যাজমা বা শ্বাসজনীত সমস্যা হয় না। আপেলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফেনোলিক এসিড থাকে যা শ্বাসনালীর ইনফেকশনকে রোধ করে।

 

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল এবং ক্যানোলা অয়েলে প্রচুর পরিমাণ মোনো এবং পলি আনস্যাটুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। যা শুধু আপনার ত্বক, চুল ও হার্টের জন্য নয় বরং ফুসফুসের জন্যও বেশ ভালো। ডাক্তার নরমান বলেন, অলিভ অয়েল শরীরের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কার্যক্রম উন্নত করে। সাধারণভাবে আপনি অলিভ অয়েল দিয়ে সবজি রান্না করে অথবা সালাদে অলিভ অয়েল মিশিয়ে খেতে পারেন।

 

কফি

আপনার যদি অ্যাজমার সমস্যা থেকে থাকে সেক্ষেত্রে কফি আপনাকে সাহায্য করতে পারে। কফি বন্ধ নাক খোলার কাজে বেশ বড় ভুমিকা পালন করে। ডাক্তার মেঞ্চ বলেন, কফি এক ধরনের হালকা ব্রোঙ্কোডিলেটর হিসেবে কাজ করে তাই বলে এটাকে ইনহিলারের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না।

 

মাছ

ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবারের মুল উৎস হল মাছ। যা আমাদের শরীরে ইনফেকশন হওয়া রোধ করে। ডাক্তার ইডেলমান বলেন, ইনফেকশন বর্তমান জীববিজ্ঞানের সব থেকে খারাপ রোগ। রোচেস্টার ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা থেকে বলা হয়, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তা প্রদাহ হওয়া রোধ করে।

 

গ্রীন টি

এক মগ সম্পূর্ণ গ্রীন টি ভালো অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস, যা শরীরকে শান্ত করে তোলে। এছাড়া এটি প্রদাহ কমাতে এবং শরীরের হিলিং পাওয়ার বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

 

শস্য দানা

শস্য দানা দেখতে বেশ ছোট হলেও এর খাদ্য গুণ অনেক বেশি। এটি ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষায় কাজ করে। শস্য দানায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম এবং মিনারেল থাকে যা একজন অ্যাজমা রোগীর জন্য বেশ ভালো। তাই শ্বাস-প্রশ্বাসকে সুস্থ রাখতে চাইলে প্রতিদিন অন্তত এক মুঠ শস্য দানা খেতে ভুলবেন না।

 

কমলা রঙের ফল ও সবজি

কমলা রঙের ফল এবং সবজি যেমন মিষ্টি কুমড়া, কমলা লেবু এবং পেঁপে আমাদের ফুসফুসের জন্য বেশ উপযোগী খাবার। এই খাবারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন রয়েছে, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

 

রসুন

মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও রসুনের রয়েছে অনেক গুণ। এটি ফুসফুসের জন্য বেশ ভালো। একটি চাইনিজ গবেষণা থেকে বলা হয়, যারা নিয়মিত শুধু তিনটি রসুনের কোয়া খান, তাদের ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪৪ শতাংশ কম। এছাড়া এটি প্রায় ৩০ শতাংশ ধূমপান রোধ করে। ডাক্তার ইডিলমান বলেন, আপনি যদি ধূমপান সাময়িক বন্ধ করতে চান তাহলে নয় বরং পুরোপুরি ছাড়তে চাইলে প্রতিদিন কাঁচা রসুন খান।

 

তথ্যসূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ ডিসেম্বর ২০১৬/ফিরোজ

Walton
 
   
Marcel