ঢাকা, শনিবার, ৭ শ্রাবণ ১৪২৪, ২২ জুলাই ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

স্ত্রীর চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার

নজরুল মৃধা : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৭-১৭ ৬:০৪:৩০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৭-১৭ ৬:০৪:৩০ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর : রংপুরে যৌতুকের দাবিতে রোকসানা  বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগে রোববার রাতে নগরীর নজিরের হাট এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী হাসানুজ্জামান মনুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কোতোয়ালি থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করেন নির্যাতিত গৃহবধূর বাবা রফিকুল ইসলাম। তবে এ ঘটনায় পরস্পরবিরোধী অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের পানবাজার গ্রামে রোকসানার চুল কেটে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। রোকসানা রংপুর সদর উপজেলার পানবাজার এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তার শ্বশুরবাড়ি একই উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের কশাইপাড়া গ্রামে।

রোকসানার বাবার অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে মনুর সঙ্গে  রোকসানার  বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মনুকে জমি বিক্রি করে এক লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। বছর না  যেতেই আরো এক লাখ টাকা  যৌতুক দাবি করেন মনু। এতে অপারগতা দেখালে  রোকসানার ওপর নেমে আসে অমানষিক নির্যাতন।

মেয়েকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে জমি বিক্রি করে  ফের  মনুকে ৫০ হাজার টাকা  দেন বাবা। দুইমাস পর আবারো সে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৪ জুলাই রাতে মারপিট করে রোকসানার মাথার চুল কেটে নেওয়া হয়। এতে  রোকসানা জ্ঞান হারিয়ে  ফেলেন। আশপাশের  লোকজন  আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে রংপুর  মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখন তিনি হাসপাতালের ১৬ নম্বর সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোকসানা চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিকদের জানান, বিয়ের সময় তার স্বামীকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সংসার ভালই চলছিল। কন্যা সন্তান জন্ম হওয়ার পর থেকে বাবার কাছ  থেকে টাকা এনে  দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে স্বামী ও শাশুড়ি। টাকা এনে না দেওয়ার কারণে তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো।  ১৪ জুলাই শুক্রবার রাতে স্বামী, শাশুড়ি, ননদ মিলে  হাত-পা  বেঁধে নির্যাতন করে  মাথার চুল  কেটে  দেন।

তবে অভিযুক্ত হাসানুজ্জামান মনুর মামি মনোয়ারা বেগমের অভিযোগ করে বলেন, রোকসানা নিজেই নিজের চুল কেটে আমাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর  দোষ চাপাচ্ছে।

কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় পরস্পরবিরোধী অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



রাইজিংবিডি/রংপুর/১৭ জুলাই ২০১৭/নজরুল মৃধা/রুহুল

Walton Laptop