ঢাকা, শুক্রবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৬ মে ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

হাওরে বিলীন হচ্ছে ভিটে-বাড়ি

ইকবাল হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৫-১৪ ৯:২৫:১১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৫-১৪ ১২:০১:২২ পিএম

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার হাওরদ্বীপ খালিয়াজুরীতে অকাল বন্যার পানিতে ধান, মাছ ও হাঁস ধংসের পর এখন কৃষকের শেষ সম্বল ভিটে-মাটিটুকুও গ্রাস করছে।

ঢেউয়ের আঘাতে ভেঙে পড়ছে বাড়ি-ঘর। হঠাৎ দুর্যোগে কৃষকের হাতে টাকা না থাকায় কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারছেন না।

জেলার হাওর এলাকায় সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও ভারী বর্ষণের ফলে অকাল বন্যা দেখা দেয়। হাওর এলাকা খালিয়াজুরীতে প্রায় ৮৯টি ছোট বড় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় বোরো ফসল। বন্যায় খালিয়াজুরীর প্রায় শতভাগ বোরো ফসল তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। দেখা দেয় মাছ ও হাঁসের মড়ক। এসব ধ্বংসলীলা শেষ হতে না হতেই এখন ঢেউয়ের আঘাতে প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর ভেঙে যেতে শুরু করেছে। ভাঙন ঠেকানোর প্রস্তুতি আর অর্থ না থাকায় নিশ্চিহ্ন হচ্ছে অসংখ্য ভিটে-বাড়ি।

স্থানীয়রা জানান, অন্যান্য বছর হাওরে পানি আসত আষাঢ় মাসে। তাই হাওর পাড়ে ঢেউয়ের কবল থেকে বাড়ি বাচাঁতে প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়া হতো জ্যৈষ্ঠের শেষ দিকে। বৈশাখী ফসলের আয়ে বাঁশ, প্লাস্টিক বস্তা কিংবা বাঁশের বেড়াসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে এনে আগের বছরগুলোতে বাড়ির প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে পারলেও এবার তা অনেকের হয়ে ওঠেনি। এ বছর চৈত্রের শুরুতেই হঠাৎ বন্যার পানি এসে হাওরের ফসলসহ ঘর-বাড়িতে হানা দিয়েছে। এতে ফসল হারিয়ে এলাকাবাসী অর্থ সংকটে পড়েছেন এবং ঘর-বাড়ি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে পারছেন না বলে এখন এখানে ঢেউ হচ্ছে অপ্রতিরোধ্য।       

কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের সুরঞ্জিত দাস বলেন, ‘ইবার বানের পানির ঢেউয়ে আমার বসত-ঘরের আধা শতাংশ জায়গা ভাইঙা নিছে। অহন আর আধা শতাংশ জায়গা আছে হেইডা বাইনদা রাকমু কেমনে এই চিন্তায় দিশা পাইতাচিনা। ইবার সব ফসল তলাইয়া যাওয়ায় হাতে টাকাও নাই। এর লাইগ্যা অহন বউ-পুলাপানের খাওন ঠিকমত যোগাইতে পারতাচিনা, মহাজনের ঋন পরিশোধ করতে পারতাচিনা, বাড়িও বাইনদা রাখতে পারতাচিনা।’

ওই গ্রামে সুরঞ্জিত দাসের মতো দিশেহারা রনধির সরকার, সিবাশ সরকার, অলক সরকার, বাবলু সরকার, প্রসেন সরকার, সুবিরসরকারসহ আরো ৩০-৪০টি পরিবার বাড়ি ভাঙনের দুরাবস্থার মধ্যে পড়েছে। টাকার অভাবে বাড়ির প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত করতে পারছেন না।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার চরপাড়া, নুরালীপুর, কৃষ্ণপুর, জগন্নাথপুর, রোয়ালী, গছিখাই, কাদিরপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। সহায় সম্বলহীন মানুষ নীরবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে তাদের বসত-ভিটে ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য। নদী পাড়ের ওপরের মাটি ভেঙে পড়ছে পানিতে।কিন্তু কিছুই করার নেই।

খালিয়াজুরী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান তালুকদার সুয়েবসহ স্থানীয় ইউপির কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, নগর ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি নতুন পাড়া, তাতিয়া উত্তর পাড়া, পাচঁগাছিয়া, তাতিয়া, হায়াৎপুর, চাকুয়া ইউনিয়নের দাউদপুর, মুকিমপুর, গোবিন্দপুর, পাতরা, সুলতানপুর, বাগনবাড়ি, মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নথপুর, ইসলামপুর, রসুলপুর, বানোয়ারি, খালিয়জুরী সদর ইউনিয়নের গছিখাই, কাদিরপুর, যুগিমারা, মমিননগর, গাজীপুর ইউনিয়নের চড়পাড়া, পাচহাট, বয়রা, বাতুয়াই, পাচহাট বাজার, দাউদপুর, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর, কুতুবপুর, কৃষ্ণপুর নামাপাড়া গ্রামগুলো ব্যাপকভাবে ভাঙলেও অর্থের অভাবে তা ঠেকানো যাচ্ছে না।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ জানান, ভাঙন কবলিত কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন এবং দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের ঘর-বাড়ি রক্ষার্থে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা চেয়েছেন।

নেত্রকোনা-৪ আসনের এমপি এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রেবেকা মমিন বলেন, অকাল বন্যায় হাওর এলাকার মানুষ দুরাবস্থার মধ্যে কাটাচ্ছে। দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হচ্ছে।




রাইজিংবিডি/নেত্রকোনা/১৪ মে ২০১৭/ইকবাল হাসান/এসএন

Walton Laptop