ঢাকা, শনিবার, ২ ভাদ্র ১৪২৫, ১৮ আগস্ট ২০১৮
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

বিশ্বের ভয়ঙ্কর সব বিমান দুর্ঘটনা

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-২৪ ৯:১৭:১১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-২৪ ১:৫৯:৩৯ পিএম

আহমেদ শরীফ : ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশি বিমান ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় মোট ৫১ নিহত হয়। তাদের মধ্যে ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

তবে এককভাবে কোনো একটি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি মারা যায় ১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট। ওই দিন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে বাংলাদেশ বিমানের ফকার এফ টুয়েন্টি সেভেন বিমানটি বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঢাকার তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এসে আছড়ে পড়ে। এতে মোট ৪৫ জন যাত্রী ও ৪ জন ক্রু নিহত হন। যাত্রীদের মধ্যে একজন বৃটিশ, একজন জাপানিজ ছাড়া ৪৩ জনই ছিলেন বাংলাদেশি।

বিশ্বে এ যাবত সবচেয়ে ভয়ংকর সব বিমান দুর্ঘটনাগুলো সম্পর্কে একটু জেনে নেই চলুন।

* টেনেরিফে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় : ১৯৭৭ সালের ২৭ মার্চ স্পেনের টেনেরিফ দ্বীপের লস রোডিউস এয়ারপোর্টে ঘটে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনা। কুয়াশাচ্ছন্ন রানওয়েতে কেএলএম এবং প্যান এম কোম্পানির দুটি বোয়িং সেভেন ফোর সেভেন বিমানের সংঘর্ষে নিহত হয় ৫৮৩ জন যাত্রী।

* জাপান ফ্লাইট ওয়ান টুয়েন্টি থ্রি : ১৯৮৫ সালের ১২ আগস্ট ইতিহাসে একক ভাবে একটি বিমান দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি যাত্রী নিহত হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাপানের বোয়িং সেভেন ফোর সেভেনের একটি বিমান দেশটির মাউন্ট তাকামাঘারার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে আছড়ে পড়লে মোট ৫২০ জন যাত্রী নিহত হন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় ৪ জন নারী যাত্রী।

* আকাশের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা : ভারতের চারকি দাদরি এলাকায় ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ঘটে মধ্য আকাশের সবচেয়ে বড় বিমান দুর্ঘটনা। সৌদি আরবের বোয়িং সেভেন ফোর সেভেন একটি বিমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের ইলুইশিন টু সেভেনটি সিক্সের সংঘর্ষ হয়। এতে সৌদিয়ার ৩১২ জন যাত্রী ও কাজাখস্তানের ৩৭ জন সহ মোট ৩৪৯ জন নিহত হন।

* টার্কিশ বিমান : ১৯৭৪ সালের ৩ মার্চ তুরস্কের ডগলাস ডিসি-টেন বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্যারিসের ইরমেনোনভিল ফরেস্টে মুথ থুবড়ে পড়ে। এতে ৩৩৫ জন যাত্রী ও ১১ জন ক্রু সহ মোট ৩৪৬ জন নিহত হন।

* এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান : শিখ সম্প্রদায়ের চরমপন্থী সংগঠন বাব্বার খালসার লোকেরা ভয়ংকর এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায় ১৯৮৫ সালের ২৩ জুন। এতে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হলে মারা যান ৩২৯ যাত্রী।

* সৌদি অ্যারাবিয়ান বিমান : ১৯৮০ সালের ১৯ আগস্ট সৌদি আরবের লকহিড এল-ওয়ান জিরো ওয়ান ওয়ান বিমানের কার্গো ডিপার্টমেন্টে আগুন লেগে ঘটে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। রিয়াদে বিমানটি জরুরি অবতরণ করলেও ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে বিমানের ৩০১ জন যাত্রী মারা যান।

* মালয়েশিয়ান বিমান : ইউক্রেনের টোরেজে এক ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানকে বিদ্রোহী সন্ত্রাসীরা গুলি করে। এতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ২৯৮ জন নিহত হন।

* ইরান এয়ার ফ্লাইট : ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে ১৯৮৮ সালের ৩ জুলাই আমেরিকান ক্রুজার থেকে ভুলবশত গুলি করা হয় ইরানের একটি যাত্রীবাহী বিমানকে। এতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ২৯০ জন নিহত হন। ১৯৯৬ সালে আমেরিকা ও ইরানের এক সমঝোতায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয় আমেরিকা।

* ইরানি সেনাবাহিনীর বিমান : ২০০৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ইরানের একটি সেনাবাহিনী বিমান কেরমানের সিরাচ পর্বতের কাছে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিধ্বস্ত হয়। এতে রেভলিউশনারি গার্ডের ২৭৫ সদস্য নিহত হন।

* আমেরিকান ফ্লাইট : আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৭৯ সালের ২৫ মে। আকাশে উড়ার আগে ডিসি-টেন বিমানটি শিকাগো ওহারে বিমান বন্দরের রানওয়ের অদূরেই আছড়ে পড়ে। এতে ২৭২ জন নিহত হন।

তথ্যসূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৪ মার্চ ২০১৭/ফিরোজ

Walton Laptop
 
     
Walton