ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

বেদনা বিধুর ১৫ আগস্ট

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১৫ ৮:১৯:০২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১৫ ২:০৭:২২ পিএম

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। বাংলাদেশ ও বাঙালির সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী শোকের দিন আজ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এইদিনে সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সৈনিকের হাতে সপরিবারে প্রাণ দিয়েছিলেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা এবং সবার আত্মার শান্তি কামনা করি।

স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে হারানোর ক্ষতি ছিল অপূরণীয়। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট আরো যারা শহীদ হয়েছিলেন তারা হলেন- বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে।

সেদিন ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাসভবনে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হলেও সেদিন আল্লাহর অসীম রহমতে প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। তখন স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিটি মানুষ যেমন আস্থা রেখেছিলেন, তিনিও তেমনি মানুষের সে আস্থার মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন। দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ অতুলনীয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পুনর্গঠনে যখন তিনি পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেছিলেন তখন এক দল বিপথগামী সেনাসদস্য ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে থামিয়ে দেয় বাঙালির অগ্রযাত্রাকে। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ করে খুনীচক্র হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেয়।

তবে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং ইনডেমনিটি আইন নামের সেই কলঙ্কিত আইন বাতিল করে। এরপর প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হয়। সে বিচারের রায়ের পর কয়েক খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। আর কয়েকজন বিদেশে পালিয়ে আছে। তাদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার মাধ্যমে জাতিকে সম্পূর্ণরূপে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি আদর্শ সংবিধান প্রণয়ন এবং অর্থনীতি, শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য, পররাষ্ট্র প্রভৃতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু কুচক্রীরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দিল না। তাকে হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যেমন আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তেমনি পরিত্যক্ত হয় ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিতরা জাতির মধ্যে অনেক বিভেদ সৃষ্টি করেছেন।

তাই বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ও রাষ্ট্রীয়  আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের সেই জাতীয় ঐক্য যতদূর সম্ভব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রকৃত গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। জাতীয় শোক দিবস পালন তখনই তাত্পর্যপূর্ণ হবে, যখন আমরা বঙ্গবন্ধুর জীবনসংগ্রামকে উপলব্ধি করব, তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন সোনার বাংলা গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করব। এর মধ্য দিয়েই বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন সম্ভব হবে।

 

 

রাইজিংবিডি/১৫ আগস্ট ২০১৭/আলী নওশের

Walton
 
   
Marcel