ঢাকা, সোমবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

স্বীকৃতি চান হৌদের মা

আমিনুর রহমান হৃদয় : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১২-২২ ৮:৩৭:৪৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-২২ ১১:৩৬:৫১ এএম
হৌদের মা

আমিনুর রহমান হৃদয়: বয়স ৮৫ বছর। এই বয়সে এসেও তিনি উপায়হীন। বেঁচে থাকার জন্য দুবেলা খাবারের টাকা যোগাড় করতে হয় ভিক্ষা করে। নেই কোনো স্থায়ী বাসস্থান।

মানুষের বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে রাত পার করেন। শীতকালে গরম কাপড় বা কম্বল তার কপালে জোটে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি রান্না করে খাইয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। সেই কাজের স্বীকৃতি চাইতে গেলে স্থানীয় কমান্ডার তাকে শুধু আশ্বাসই দিয়েছেন। কিন্তু তার আশা পূরণ হয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি কষ্টের কথাগুলো জানাতে চান। বলতে চান জীবন যুদ্ধে তার সংগ্রামের কথা। এলাকায় ‘হৌদের মা’ নামে তিনি পরিচিত। সম্প্রতি তার সঙ্গে নেত্রকোনা রেলস্টেশনে কথা হয়।

তিনি জানালেন, নেত্রকোনার জামতলা বাড়ি। বর্তমানে নেত্রকোনা স্টেশনের পাশে কুলুনিহারা এলাকায় থাকেন। দুই ছেলেমেয়ে। চার মাস আগে ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। স্বামী ওমর আলী মারা গেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময়, অসুস্থ হয়ে।

৮৫ বছর বয়সেও ভিক্ষা করার কারণ জানাতে গিয়ে হৌদের মা বলেন, ‘বাজান, এই বয়সে কি কেউ এমনি ভিক্ষা করে? ভিক্ষা না করলে তো খাবার জোটে না। একজনের বাড়ির বারান্দায় রাতে ঘুমানোর জায়গা মিলেছে কিন্তু খাবার দেয় না তারা। ভিক্ষা করেই খাবারের টাকা যোগাড় করতে হয়। বয়স্ক ভাতার টাকা মেলে ৭ মাস পরপর ৩ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে কি চলে?’
 


প্রতিদিন নেত্রকোনা রেলস্টেশনে সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ভিক্ষা করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ দেয় ৫ টাকা, কেউ দেয় ১০ টাকা। কিন্তু চেয়ারম্যানের কাছে ১০ টাকাও পাওয়া যায় না।’

ভিক্ষে করে ৬০ হাজার টাকা জমিয়ে এক দোকানদারকে দিয়েছিলেন জমি কেনার জন্য। সেই দোকানদারও তাকে ঘোরাচ্ছেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে ঠান্ডার জন্য রাতে ঘুমাতে খুব কষ্ট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসিনা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কম্বল দেয় আমার মতো মানুষের জন্য কিন্তু সেই কম্বল নেতারা নিয়ে নেয়। আমি এখন পর্যন্ত একটা কম্বলও পাইলাম না।’

হৌদের মা দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোনার পূর্বধলায় প্রায় ২০০জন মুক্তিযোদ্ধাকে ২ মাস রান্না করে খাইয়েছেন তিনি। কিন্তু এই কাজের কোনো সরকারি স্বীকৃতি পাননি। তবে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা আর্থিক সাহায্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় কমান্ডার আমাকে মুক্তিযোদ্ধা কার্ড করে দেবে বলেছে। কিন্তু এখনও দেয়নি। আমি মরার পর কার্ড দেবে মনে হয়।’ মৃত্যুর আগে এই বৃদ্ধার একমাত্র চওয়া, একটি স্থায়ী বাড়ি আর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২২ ডিসেম্বর ২০১৭/ফিরোজ/তারা

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC