ঢাকা, রবিবার, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

স্টকহোমে হামলার বিরুদ্ধে ১০ হাজার লোকের জমায়েত

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-১১ ৮:৪৬:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-১১ ৯:৫৩:৪৩ পিএম

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, স্টকহল্ম : গত ৭ এপ্রিল শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রোববার বেলা ২টায় রাজধানীর কেন্দ্ৰস্থল সারগেল্স স্কয়ারে এক গণজমায়েতের আয়োজন করা হয়।

মেনিফেস্টেশন অব লাভ নামকরণে এ জমায়েতের আয়োজনে ছিল ইন্টারটেইনমেন্ট এন্ট্রিপ্রেনার। ব্যানারে লেখা হয় ‘স্টকহল্ম ইজ ইউনাইটেড’। জমায়েতের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন ব্লগার ডেমন রাস্টি। এখানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্টকহোম সিটির মেয়র কারিন ভানগুর্ড ও বিরোধীদলীয় নেত্রী আন্না কনিং।

শুক্রবার বেলা ২টা ৫৩ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ও আহতদের প্রতি সম্মান জানাতে রোববারের অনুষ্ঠিত জমায়েতে ১০ হাজারের বেশি লোকের সমাগম হয়। এদিন ঠিক একই সময় অর্থাৎ ২টা ৫৩ মিনিটে এক মিনিটের জন্য নীরবতা পালন করা হয়।

রোববার সকাল থেকেই ঘটনাস্থল সারগেল্স স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হতে থাকে। সবার হাতেই ছিল ফুল। অনেকে মোমবাতি জ্বালিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানটি ফুলে ফুলে ভরে যায়। স্টকহোমে বসবাসরত অনেক বাঙালিও ঘটনাস্থলে ফুল দিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেন।

গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীর সূত্র ধরে পুলিশ এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। তিনজন পুরুষ ও একজন নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে শহরের কেন্দ্রস্থল কুঙ্গসহল্মেন এবং দুজনকে গ্রেফতার হয়েছে সোলেনটুনা কাউন্সিল থেকে। সবশেষে সাউথ স্টকহোমের শহরতলি ভরবাড়ি থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের মতে, ট্রাক নিয়ে আক্রমণ করার পূর্বে সন্ত্রাসীরা এখানে একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিল। পুলিশ স্থানীয় মিডিয়ায় শুক্রবারের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে দুজন সুইডিশ, একজন বেলজিয়ান, একজন ব্রিটিশ। এখন পর্যন্ত ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে দুজন ইনটেনসিভ ক্লিনিকে রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়।

উজবেকিস্তান থেকে আগত এই সন্ত্রাসী সুইডেনে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করলে তার বসবাসের আবেদন নাকচ করা হয়েছিল। অর্থাৎ তিনি সুইডেনে বেআইনিভাবে বসবাস করছিলেন।

 



পুলিশের ধারণা, এই সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে  আরো অনেকের সম্পর্ক রয়েছে। এ ব্যাপারে সুইডিশ পুলিশ ইন্টারপোল ইউরোপোলসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে রীতিমতো যোগাযোগ রাখছে বলে সংবাদ সম্মেলন করে তারা জানায়।

এদিকে ৯ এপ্রিল রোববার ক্ষমতাসীন সুইডিশ লেবার পার্টির জাতীয় কংগ্রেস দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ইউতেবরিতে শুরু হয়েছে। এখানে প্রধান অতিথি হিসেবে দলের প্রেসিডেন্ট সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোফভেন বলেন, জাতীয় সংসদে জোটের বাইরে গিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মোকাবেলার জন্য সব রাজনৈতিক দলকে আমি আহ্বান জানাব। জাতীয় ঐক্যের মধ্যে দিয়ে আমাদের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করতে হবে।

তিনি বলেন, কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হিজাব পরতে বাধ্য করা যাবে না। সব শিশুকে ধর্মীয় উপাদান থেকে মুক্ত থাকার  অধিকার আছে। সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নিরাপত্তা কর্মী, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, দমকল বাহিনীর কর্মচারীদের ওপর আক্রমণ করবে তাদের কঠোর ও কঠিন শাস্তি পেতে হবে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের একত্রিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন,  আপনাদের দেশবাসী হিসেবে  পেয়ে আমি গর্ববোধ করছি।

৩৯ বছর বয়সের সন্ত্রাসী রাখমত আকিলভ ঘটনার এক ঘণ্টা পর স্টকহোম অরলান্ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্স্টা এলাকার একটি পেট্রল পাম্পের দোকানে প্রবেশ করেন। স্টকহোম সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে অরলান্ডা এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি তিনি এখানে আসেন। একজন সাক্ষীর মতে, এ সময় তাকে দেখতে অদ্ভুত লাগছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম দেখা যায়।

রাখমত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি মুসলিম এবং সরাসরি আইএসএর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছেl তিনি বলেন, স্টকহোম ড্রটনিং গাতনের হামলার নির্দেশ সরাসরি সিরিয়ার সন্ত্রাসী সংগঠন থেকে এসেছে। স্টকহোম থেকে প্রকাশিত সান্ধ্য দৈনিক আফতনব্ল্যাডেটের মতে, ৩৯ বছর বয়সী রাখমত আকিলভ বলেন, সিরিয়ায় বোমা হামলা বন্ধ হতে হবে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাখমত আকিলভকে সুইডেন থেকে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ পুলিশের কাছে আসে। তবে তিনি এ সময় গা-ঢাকা দেওয়ায় ধরা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে নভেম্বর মাসে তিনি সুইডেনে বসবাসের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। দুই বছরের মধ্যেই সুইডিশ ইমিগ্রেশন তার আবেদন নাকচ করে দেয়। ২০১৬ ইমিগ্রেশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইমিগ্রেশন কোর্টে আপিল করলে কোর্ট ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ তা নাকচ করে দেয় এবং তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে সুইডেন থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করে। চার সপ্তাহ পর যখন পুলিশ তার ঠিকানায় গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে তখন তিনি গা-ঢাকা দেন। তার ঠিকানা নর্থ স্টকহোমে দেখানো হলেও সেখানে তিনি কখনোই বাস করেননি বলে ঠিকানায় বসবাসরত জনৈক নারী পুলিশকে জানান। তিনি বলেন, আমি তাকে চিনি না, শুধু চিঠিপত্র নেওয়ার জন্য যখন আসত একমাত্র তখনি তার সঙ্গে আমার দেখা হতো। শেষ দেখা হয়েছে কয়েক মাস পূর্বে। তবে আমার মতে, সে এমনি ধরনের একজন ব্যাক্তি যে শুধু কাজ করতে চায়। সে চার সন্তানের জনক। কাজ করে দেশে পরিবারের জন্য অর্থ প্রেরণ করত। ওই নারী আরো বলেন,  আকিলভ থাকেন সাউথ স্টকহোমের একটি ঠিকানায়। পুলিশ শনিবার সাউথ স্টকহোমের এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অনুসন্ধান চালায়। আকিলভ এখানেই বসবাস করতেন বলে জানা যায়।

পুলিশের মতে, সন্ত্রাসী হামলা চালানোর এক ঘণ্টা পূর্বে তিনি এখানেই অবস্থান করছিলেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ এপ্রিল ২০১৭/ডাবলু/মুশফিক

Walton Laptop