ঢাকা, রবিবার, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির অভিষেক

তোফাজ্জল লিটন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৫-০৪ ১০:৩৮:১১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৫-০৪ ১০:৩৮:১১ পিএম

নিউইয়র্ক থেকে তোফাজ্জল লিটন : আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির অভিষেক হয়েছে।

এ উপলক্ষে ‘কমিউনিটি সাংবাদিকতা ও দায়িত্ববোধ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পত্রিকার সম্পাদক ও মিডিয়া কর্মীরা বলেছেন, নিউইয়র্কে বাংলা সংবাদপত্র এখনো শিল্পে পরিণত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির গোড়াপত্তনে ভূমিকা রাখলেও এখানে সংবাদপত্রগুলো নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। বক্তারা সংবাদপত্রগুলোকে সহযোগিতার জন্য কমিউনিটির ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, মূলধারার সংবাদপত্র নয়, কমিউনিটি সাংবাকিতাই টিকে থাকবে। দিনে দিনে সাধারণ পাঠক কমিউনিটি সাংবাকিতার প্রতি সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে ৬০ মিলিয়ন লোক কমিউনিটি সংবাদপত্র নিয়মিত পড়ছেন।

তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিসর বাড়ছে। ফলে এই কমিউনিটিতে সাংবাদিকতার দায়িত্বশীলতাও বাড়ছে।

গত ৩০ এপ্রিল রাতে সিটির জ্যাকসন হাইটসে বেলোজিনা পার্টি হলে  আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির নেতাদের এই অভিষেক, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ১০টি সাপ্তাহিকের সম্পাদক বক্তব্য রাখেন, যা অতীতে দেখা যায়নি।

এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি দর্পণ কবীর এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান রচি। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সামসুন্নাহার নিম্মি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাপ্তাহিক পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক আজকাল পত্রিকার সম্পাদক মনজুর আহমদ, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক দেশবাংলা ও বাংলা টাইমসের সম্পাদক ডা. চৌধুরী সারোয়ার হাসান, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আজকাল পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সাপ্তাহিক বর্ণমালা পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ ও জনতার কণ্ঠের সম্পাদক শামসুল আলম।



অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ এটর্নি মঈন চৌধুরী, খানস টিউটোরিয়ালের চেয়ারপার্সন নাঈমা খান, সিনিয়র সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরে এলাহী মিনা, ঠিকানা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক জাভেদ খসরু।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত আবৃত্তি শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফ, কবি সাজজাদ কাদির ও সাংবাদিক ওমর ফারুকের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে নাজমুল আহসান বলেন, সংবাদ প্রকাশে কতটুকু স্বচ্ছতা রক্ষা করা হচ্ছে, সেটাই আমার কাছে বড় বিষয়। কমিউনিটির প্রতি দায়িত্ববোদের কারণে এখনো আমি সাংবাদিকতায় আছি। তিনি আরো বলেন, এখানে প্রেসক্লাবে বিভাজনের সঙ্গে সাংবাদিকতার বিভাজনের কোনো সম্পর্ক নেই। সাংবাদিকদের বিবেকবান হওয়াটা জরুরি।

মনজুর আহমদ বলেন, কমিউনিটির প্রয়োজনেই এখানে পত্রিকা প্রকাশ হয় এবং তা চলে। এখানেও বিজ্ঞাপনদাতাদের চাপ রয়েছে। প্রবাসে পত্রিকাগুলো পাঠক তৈরি করেছে। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, কমিউনিটিতে বাংলা সংবাদপত্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ডা. ওয়াজেদ এ খান বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সব কিছুতেই বিভক্তি। এর ভালো এবং খারাপ দুটি দিকই আছে। তিনি দেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে এখানকার সংবাদপত্রগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করার আহ্বান জানান। 

ডা. চৌধুরী সারোয়ার হাসান বলেন, নিউইয়র্কে ফ্রি পত্রিকা আমি শুরু করেছিলাম। এখানকার বিজ্ঞাপনদাতারা বিল পরিশোধ করতে গড়িমসি করেন। এই মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।

মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা কমিউনিটিকে অনেক সেবা দেই, কিন্তু কমিউনিটি আমাদের কিছু দিতে পারে না। এখানকার অনেক বিত্তশালী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী আছেন, তারা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেন না। তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকদের মধ্যে কোনা বিভাজন নেই। আজকের মঞ্চ-ই এর প্রমাণ।

রতন তালুকদার বলেন, মুক্ত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এখানে কোনো বাধা নেই, যেমন বাংলাদেশে আছে। কিন্তু এখানে আমাদের কণ্ঠ চেপে ধরেন এখানকার বিজ্ঞাপনদাতারা।

আবু তাহের বলেন, প্রবাসে ঘর ঝাড়ু দেওয়া থেকে শুরু করে লেখালেখি এবং বিলি সমস্ত কাজ করতে হয় একজন সাংবাদিককে। সাংবাদিকরা অনেক কষ্ট-ত্যাগ স্বীকার করে এখানে এই পেশায় রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, অনেকে হাজার হাজার ডলার খরচ করেন অনুষ্ঠান করতে। কিন্তু পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে চান না। এ কারণে বাংলা সংবদপত্র ধুঁকছে।

জাকারিয়া মাসুদ জিকো বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে থ্যাংকসলেস জব। সাংবাদিকদের  কেউ ধন্যবাদ দেয় না। সবাই সমালোচনা করে। তিনি আরো বলেন- এখানে কিছু লিখলে দেশেও এর জবাব দিতে হতে পারে। তাই চাইলেই আমরা যা ইচ্ছা তা সরকারের সমালোচনা করতে পারি না।

মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, আমি বিভাজন চাই না বলে একত্রে থাকার চেষ্টা করেছিলাম। পারিনি নানা কারণে। আজ আমাদের মধ্যে বিভাজন হলেও ভালো কাজে সবাই একত্রিত হয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। শেষ কথা হলো সবাই কমিউনিটির জন্য কাজ করছি।

এটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, প্রবাসে যারা সংবাদিকতা করেন তাদের স্যালুট জানাই। তারা নিজে পরিশ্রম করে আমাদের সংবাদ পরিবেশন করেন। তাদের কষ্টের কথা আমরা অনেকে বিবেচনা করি না। অথচ তারা সমাজ গঠনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে এখানকার সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়ার অনুরোধ জানান।

ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নিউইয়র্কে সাংবাদিকতার যে সংজ্ঞা দেওয়া হয় তা মূল সাংবাদিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এখানে একা সম্পাদককেই সমস্ত কাজ করতে হয়। এ জন্য তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের কমিউনিটির প্রচার ও প্রসারের জন্য তারা যে কাজ করছেন তা অনবদ্য।

নাঈমা খান বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকলে আমাদের ভালো লাগবে।

মঈনুদ্দিন নাসের বলেন, কমিউনিটি সংবাদপত্র ছাড়া অন্যান্য মিডিয়া টিকবে বলে আমি মনে করি না। অগ্রবর্তী ধারার সাথে সম্পৃক্ততার জন্য সাধারণ মানুষ একমাত্র কমিউনিটি সংবাদপত্রের উপর নির্ভশীল। তাই তাদের দায়িত্ববোধ আরো বাড়ানোর অনুরোধ জানাই।

সভাপতি দর্পণ কবীর উপস্থিত সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে এবং ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা কামনা করে অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বের সমাপ্তি টানেন।

এরপর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় সংগীত পরিবেশন করেন কৃষ্ণা তিথি, শাহ মাহবুব ও বিউটি দাস। নিউইয়র্ক বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, সুধীজন, পেশাজীবী ও সংস্কৃতি কর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘বাতিঘর’ নামে একটি সমৃদ্ধ ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়েছে।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/৪ মে ২০১৭/তোফাজ্জল লিটন/রাসেল পারভেজ

Walton Laptop