ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ কার্তিক ১৪২৫, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

জাপানে পাটের বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে বিটুবি নেটওয়ার্কিং

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৫-২৯ ২:৫৭:৫২ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৫-২৯ ২:৫৭:৫২ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাপানে পাটের বাজার সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে পাটের পরিবেশবান্ধব ব্যবহার ও এর অপার সম্ভাবনা সক্রান্ত  এক আলোচনা এবং বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) নেটওয়ার্কিং  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরি ফসল পাট দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বজয় করতে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার সকালে পরিবেশবান্ধব পাট ও জাপানে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে এক গোলটেবিল আলোচনা ও বিটুবি নেটওয়ার্কিং সেশনের আয়োজন করে বাংলাদেশ দূতাবাস, টোকিও। দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, বাংলাদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদলের সদস্য ও ব্যবসায়ীরা এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জাপানি ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্যে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল ও বিশাল বাজার বিদ্যমান। এছাড়া জাপানি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে নিয়ে যে জরিপ করেছে তাতেও বাংলাদেশকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেছে।

দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান উল্লেখ করে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পাটশিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগকারীদের অধিকহারে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এখন অনেক পরিবর্তিত, অনেক উন্নত, নতুন এক বাংলাদেশ যা বিশ্বের দ্রুত অগ্রসরমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।



তিনি আরো বলেন বাংলাদেশের শ্রমিক শুধু সহজ লব্ধই না কর্মঠ ও উন্নয়নশীলও।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নির্দেশনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের মৃতপ্রায় পাট শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি।

তিনি জাপানে পাটের নানাবিধ ব্যবহারের সুযোগের কথা উল্লেখ করে পরিবশেবান্ধব পাট শিল্পে জাপানি বিনিয়োগ করার আহ্বান  জানান।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে পাটের অতীত ছিল  ঐতিহ্যবাহী কিন্তু তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পাটের ভবিষ্যৎ হবে উজ্জ্বল সোনালী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য। বাংলাদেশের পাটশিল্প নিয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের পক্ষে উপস্থাপনা করেন উপসচিব সাদিয়া শারমিন এবং জাপান এক্সারটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) তাকাশি সুজুকি।  আইডিই জেট্রোর পিএইচডি গবেষক কেন্মেই সুবোতা পাট সংক্রান্ত তার  গবেষণালব্ধ ফলাফল ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী পাট কোম্পানি মারসান সাঙ্গিও’র প্রেসিডেন্ট কিয়োনরি নাকাজিমা বাংলাদেশের পাট ও ব্যবসার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশের শ্রমিকরা অত্যন্ত কর্মঠ এবং সৎ।



পরে আলোচনা ও প্রশ্ন-উত্তর পর্ব এবং বিজনেস টু বিজনেস নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। ছোট পরিসরে বিভিন্ন রকমের ও বৈচিত্র্যময় পাটজাত পণ্যের একটি প্রদর্শনীও করা হয়।

আগামীকাল থেকে টোকিওর বিগসাইটে শুরু হবে ইন্টেরিয়র লাইফ-স্টাইল মেলা। যেখানে বাংলাদেশ থেকে আগত পাট শিল্প উদ্যোক্তারা তাদের উন্নত ও আধুনিক দ্রব্যাদির প্রদর্শন করবেন।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ মে ২০১৮/হাসান/সাইফ

Walton Laptop
 
     
Walton