ঢাকা, বুধবার, ১২ চৈত্র ১৪২৫, ২৭ মার্চ ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠছে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ আইনের খসড়া

আসাদ আল মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৭-১১-২৬ ১০:২২:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১১-২৬ ১০:২২:২৪ পিএম

আসাদ আল মাহমুদ : বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৭ এর খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হতে যাচ্ছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উত্থাপন করার কথা এবং চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বরেন্দ্র অঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকাসমূহে উন্নয়নের জন্য ১৯৯২ সালের ১৫ জানুয়ারি রেজুলেশন জারির মাধ্যমে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। গঠিত হওয়ার পর থেকে বরেন্দ্র এলাকায় সেচের ব্যাপক উন্নয়ন, সেচযন্ত্র বৈদ্যুতিকরণ, মৎস উৎপাদন, ফসলের বৈচিত্রায়ন প্রভৃতি কার্যক্রমের পরিধি ও ব্যাপকতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নতি সাধিত হয়। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কৃর্তপক্ষ পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আইনি কাঠামোভুক্তকরণের লক্ষ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষ আইন-২০১৭ প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কৃর্তপক্ষ আইনের খসড়া প্রণয়নের পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে/বিভাগে প্রেরণ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত আহ্বান করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ভূমি মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থানা মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে লিখিত মতামত দেওয়া হয়।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ হতে প্রাপ্ত মতামত নিয়ে ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে উক্ত খসড়া আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হয়। গত ২০ জুন, ৪ অক্টোবর ও ১১ অক্টোবর (২০১৭) অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নযন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৭ এর খসড়া পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা পূর্বক প্রস্তাবিত আইনের একটি পরিমার্জিত খসড়া প্রস্তুত করে এবং মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করা যেতে পারে বলে সুপারিশ করে। পরে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। এর পরিপেক্ষিতে সোমবার মন্ত্রিসভায় আইনটির খসড়ার নীতিগত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, এ আইনে ২৫টি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-বরেন্দ্র বহুমুখী আইন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি আইনি কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পাবে। যা একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে। এই আইনের মাধ্যমে বরেন্দ্র এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আইনে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ভূপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানিসম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবহার, কৃষি যান্ত্রিকরণ, বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ, শস্যের বহুমুখীকরণ, পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার্থে বৃক্ষরোপন ও সংরক্ষণ।

উপদেষ্টা পর্ষদ ও পরিচালনা পর্ষদ গঠন, দায়িত্ব ও কার্যাবলি আইনে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আইনের আওতায় বিধি ও প্রবিধান রাখা হয়েছে।

আইনে আরো বলা হয়েছে-গভীর নলকূপ স্থাপন করে স্বল্প খরচে কৃষকদের সেচ প্রদানসহ গভীর নলকূপ রক্ষণাবেক্ষন, মেরামত ও সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে সেবা প্রদান করা। সেচের গভীর নলকূপ হতে খাবার পানি সরবরাহ স্থাপনা নির্মাণ করে প্রত্যন্ত গ্রামে সুপেয় খাবার পানি সরবরাহ করে সেবা প্রদান করা। পুকুর ও খাল পুনঃখন ও খননকৃত খালে ক্রসড্যাম নির্মাণ পূর্বক সঞ্চিত পানি দ্বারা সম্পূরক সেচ প্রদানসহ মাছ চাষ ও হাঁস পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তা করা। কৃষকদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধন করা। প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে সল্প খরচে দক্ষতার সাথে কৃষকদেরকে সেচ প্রদান করা। বরেন্দ্র এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য কৃষক পর্যায়ে উন্নত বীজ উৎপাদনের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও কৃষক পর্যায়ে উন্নত বীজ উৎপাদন করা। কৃষিপণ্য বাজারজাতের জন্য গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও নির্মিত সড়ক মেরামত এবং বনায়ন করা।

সূত্র আরো জানায়, বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত। এর উত্তরে ভারতের পুর্নিয়া, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলাসমূহ, পশ্চিমে ভারতের পুর্নিয়া, ভারতের দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুর জেলা দুটি ও মালদহ জেলা, দক্ষিণে পদ্মা নদীর ওপারে অবস্থিত ভারতের মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলাদ্বয় এবং বাংলাদেশের কুষ্টিয়া ও রাজজন। বাড়ি জেলাদ্বয় এবং পূর্বে ভারতের ধুবড়ি জেলা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপারে অবস্থিত ভারতের তরা জেলা ও যমুনা নদীর ওপারে অবস্থিত বাংলাদেশের জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা দুটি। বৃহত্তর দিনাজপুর, রংপুর, ও বগুড়া, পাবনা ও রাজশাহী এই পাঁচটি জেলা নিয়ে গঠিত বরেন্দ্রভূমি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ নভেম্বর ২০১৭/আসাদ/সাইফ

Walton Laptop
 
     
Walton AC