ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২১ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

সৈয়দ হকের স্মৃতি ও সৃষ্টির সঙ্গে || আনোয়ারা সৈয়দ হক

আনোয়ারা সৈয়দ হক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-২৬ ৯:১২:০৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-২১ ৫:১০:২৮ পিএম

আমাদের সাহিত্যাকাশের নক্ষত্রপতনের বছর বোধ করি ২০১৬। একের পর এক সব নিভিল দেউটি। সৈয়দ শামসুল হক, শহীদ কাদরী ও রফিক আজাদ; তিনজনের মধ্যে কনিষ্ঠ রফিক আজাদ গেলেন সবার শুরুতে। তারপর শহীদ কাদরী আর নিজের আশিতম জন্মবার্ষিকীর ঠিক ন’মাস পর সৈয়দ শামসুল হক। এঁদের নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই পাঠকের কাছে কিন্তু এঁদের জীবন ও কৃতি উদ্যাপনের কারণ আছে অনেক। আর তাঁদের জীবনসাথী যদি হন আনোয়ারা সৈয়দ হক, নীরা কাদরী কিংবা দিলারা হাফিজ তবে তাঁদের কথা থেকে জানার ও বোঝার আছে- কোন রসায়নে তাঁরা এক হয়েছিলেন বাংলা সাহিত্যের এই বরপুত্রদের সঙ্গে, বিচ্ছেদেই বা কতটা বিদীর্ণ আছেন তাঁরা আর বর্তমানে কী ভাবছেন প্রয়াত জীবনসাথীদের স্মৃতিরক্ষা ও চর্যায়। বিভিন্ন সময়ের বিক্ষিপ্ত আলাপন ও শ্রবণের ফল এই রচনা।

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা ছিলেন তিনি। স্বপ্ন বিক্রি করতেন হাটে হাটে। সে হাট মানুষের মনের হাট, মননের হাট, আশার হাট, প্রজ্ঞার হাট। কাজটা কঠিন কিন্তু এই কঠিন কাজেই তিনি প্রায় তাঁর শৈশব থেকে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। এই স্বপ্ন ফেরি করতে গিয়ে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি। নিজেকে জাগতিক উচ্চাশার ভূমিতে স্থাপন করতে পারেননি। কিন্তু যা করতে পেরেছেন তাতে স্বপ্ন যাঁরা দেখতে ভালোবাসেন তাদের সফরের সঙ্গী হতে পেরেছেন।

যখন তিনি ‘খেলারাম খেলে যা’ লেখেন, সেই বইটি আমি তাঁকে আমার নামে উৎসর্গ করতে বলেছিলাম ইচ্ছে করেই, কারণ আমি জানতাম এই বই হচ্ছে টাইম অ্যাডভান্সড্ একটি উপন্যাস। আমাদের দেশ, সমাজ, বাস্তবতা, মানুষ, সেইসব মানুষের মন ও মনন তখনও ততখানি উন্মুক্ত হয়নি বা হলেও তাকে স্বীকার করে চলার মতো মনের অবস্থা হয়নি। তখনকার দিনের উপন্যাসগুলো হতো কৈশোর-প্রেমের উপন্যাস, শুধুমাত্র হাতধরাধরি বা বড়জোর চুমো খাবার উপন্যাস। মানব-মানবীর প্রেমের ভেতরে দেহ যে একটি বিরাট ভূমিকা পালন করে সে ইতিহাস বিদেশের সাহিত্যে হরদম লেখা হলেও আমাদের দেশের সাহিত্যিকরা আনতে সাহস করেননি, কারণ সমাজ বা মানুষ এতদূর মনের কর্ষণে তখনও হয়তো প্রস্তুত ছিলেন না। যার ফলে উপন্যাসটি ছাপা হয়ে বেরোবার পরে তাঁকে প্রচুর অপমান, গালি এবং কটূক্তি হজম করতে হয়। কিন্তু তিনি তাতে দমে যাননি। তবে উপন্যাসটি হয়তো আদতেই ছাপা হয়ে বেরোত না যদি-না আমি প্রকাশকের ক্রমাগত তাগাদায় নিজে বিদেশে গিয়ে উপন্যাসটি প্রায় জোর করেই তাঁর কাছ থেকে সম্পূর্ণ করে লিখিয়ে এনে প্রকাশকের হাতে দিই।

সৈয়দ শামসুল হক নামের একজন পরিশ্রমী মানুষের সাথে ছিল আমার বসবাস। এই মানুষটি শুধু পরিশ্রমী নয়, সেই সাথে ছিল প্রতিভাবানও! কারণ শুধু পরিশ্রমে একজন মানুষ হয়তো জীবনে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সৃজনীপ্রতিভা না থাকলে সাহিত্যজগতে নিজের মেধার ছাপ ফেলা যায় না। এই বাক্যটি আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকেই অবশ্য বলছি।

জীবনে চলার পথে তাঁর সাথে আমার কাকতালীয়ভাবে আলাপ এবং পরবর্তীকালে তাঁর সাথে সংসারের গাঁটছড়ায় নিজেকে বড় সাহসের সঙ্গে বাঁধা। সাহসের কথা এ কারণে বলছি যে, একজন সৃজনীপ্রতিভার মানুষের সঙ্গে দিবারাত্রি ওঠবস করা আক্ষরিক অর্থে সম্ভব নয়! সত্যিকার অর্থেই সম্ভব নয়। হয়তো আমার নিজের মনোভুবনে সৃষ্টিশীলতার কিছু বীজ ছিল বলেই আমি টিকে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে। অতীতে বারবারই আমাদের বাসাটিকে নড়বড়ে করে দেবার জন্যে ঝড় উঠেছে। নইলে আমার মতো মানুষেরা প্রায় কেউই পা থেকে মাথা পর্যন্ত মূলত একজন কবির সঙ্গে ঘরসংসার করতে পারে না!

এই বয়সে এসে এখন নির্দ্বিধায় বলা যায়, মানবজীবনের প্রেম, একমাত্র প্রেমই ধরে রাখতে পারে একটা দাম্পত্যজীবন। এমনকি একটা ভাঙাচোরা দাম্পত্যজীবনকেও চালিত করতে পারে প্রেম; শুদ্ধ, বিশুদ্ধ প্রেম এবং তার আনুষঙ্গিক সবকিছু! বিশ্বাস- হ্যাঁ, বিশ্বাসও একটা বড় জিনিস। কিন্তু বিশ্বাসের ওপরে, সন্দেহের ওপরে, মান সম্মান আভিজাত্য-হানি এবং অর্থনৈতিক-হানিরও ওপরে বিরাজ করে প্রেম। সে প্রেম কখনও আসে স্নেহ হিসেবে, কখনো আসে অনুকম্পা হিসেবে, কখনো-বা আসে রুদ্র বৈশাখের মতো ঝড়বৃষ্টি তুলে, কখনো-বা শুদ্ধ প্রেম হিসেবে! যখন শুদ্ধ প্রেম হিসেবে তা জীবনে দেখা যায় তখন জীবন হয়ে ওঠে বড় ক্ষমাশীল, বড় সুন্দর!

আমাদের দু’জনের জীবন কি এরকম ছিলো? জানিনে। কারণ তাঁর সুস্থ জীবনের প্রায় শেষ পর্যন্তই প্রতিটি ভোরই আমাদের শুরু হতো ঝগড়া দিয়ে এবং শেষ হতো রাতের বেলা চানাচুরের বয়েম দু’জনের মাঝখানে কোলের ভেতরে রেখে বিছানায় শুয়ে শুয়ে রেডিও ভূমির গান শুনে শুনে; ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি বেলা শুনছো’!

সৈয়দ শামসুল হকের অকস্মাৎ অসুস্থতার পর যখন তাঁকে লন্ডনে নিয়ে গেলাম, প্রায় একা তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে সবকিছু সামাল দেবার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি আমি। কারণ, বিদেশের মতো জায়গায় এর কোনো বিকল্প ছিল না। আত্মীয়-বন্ধুবান্ধব যাঁর যতটুকু করার কথা, সাধ্যমতো সবকিছু করেছিলেন। তবু নির্জনতার পাথারে শুধু তিনি আর আমি। কেবল কালক্ষেপণ এবং আগামীর দিকে তাকিয়ে থাকা। তার ভেতরে ক্রমাগত তাঁকে উৎসাহ দিয়ে যাওয়া বুকের ভেতরে অশ্রুর  ঢল চেপে; এবং হাসিমুখে তাঁকে বলা যে, তাড়াতাড়ি আরও তাড়াতাড়ি, আরও দ্রুত, আরও, আরও...। কেননা চিকিৎসকও তাঁকে এই কথাই বলেছিলেন। বলেছিলেন দ্রুততার সঙ্গে তাঁকে সবকিছু সারতে হবে। কিন্তু এ কথা বলবার পরও তাঁর ভেতরে একটা অদ্ভুত আলস্য বা নির্বিকার আবস্থা দেখেছিলাম। তিনি আমার ছোট বোন লন্ডনপ্রবাসী ফাতেমার লাইব্রেরিতে থাকা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পুরো ভলিউম তাক থেকে নামিয়ে পড়তে আরম্ভ করেছিলেন, যেন তাঁর কোনো তাড়া নেই। দোকানে গিয়ে কিনে এনেছিলেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘দ্য মুভেবল ফিস্ট’; পড়েছিলেন সেটাও। তারপর তাক থেকে নামিয়ে পড়েছিলেন সত্যজিৎ রায় সম্পাদিত ‘সন্দেশ’। আর ফাঁকে ফাঁকে তাঁর হ্যামলেট নিয়ে চিন্তাভাবনা।

হাসপাতালে গিয়ে বইয়ের দোকান থেকে আমাকেও বই কিনে উপহার দিয়ে নিজের হাতে আমার নাম লিখেছিলেন। আমি খুবই উদ্বিগ্ন ছিলাম। কেননা যেকোনো সময় ঘাতক ব্যাধি তাঁর কোটি টাকা দামের করোটির ভেতরে আশ্রয় নিতে পারে, গোপনে, চতুরতার সঙ্গে। তখন? তবে মুখ ফুটে এ কথা তাঁকে বলতে পারিনি! আমার বুক ভেঙে যাচ্ছিল। ভেতরে-ভেতরে আমার খুব তাড়াহুড়োও চলছিল। তাঁর মাথার ভেতরে এতসব লেখা, সেগুলোর কী হবে? নতুন একটা উপন্যাস- একেবারে নতুন ধরনের প্রেক্ষাপটে, যা এর আগে বাংলা সাহিত্যে কেউ লেখেননি- তাঁর মাথার ভেতরে নাড়াচাড়া শুরু করল। একদিন নিজের ওপরেই রাগ করে বলে উঠলেন, আঃ, এখনো কেন আমার মাথার ভেতরে এইসব এসে জড়ো হয়? এখনো কেন আমার মনে হয়, এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে অভূতপূর্ব একটি সংযোজন হবে? এখন যখন তিনি নেই- প্রায়ই আক্ষেপ হয় এই ভেবে যে, তাঁর কাছ থেকে সেদিন কেন ওই উপন্যাসটির পটভূমি জানতে চাইলাম না!

তাঁর হঠাৎ তিরোধানের পর আমি ও আমার পরিবারের মানুষজন অবাক বিস্ময়ে দেখেছি, কবি ও সব্যসাচীর প্রতি দেশের মানুষের অপরিমেয় অনুরাগ ও ভালোবাসা। তাঁকে শহীদ মিনারে নেওয়ার দিন সকালে রাস্তার দুপাশে সাধারণ মানুষ ও গুণগ্রাহীদের নীরবে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য আমাদের অশ্রুময় চোখকে আরও অশ্রুপ্লাবিত করেছে। তাঁর নশ্বর দেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি থেকে মন্ত্রীবর্গ ও সচিব; কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী-নাট্যকার, চলচ্চিত্রের মানুষজন, মিডিয়া এবং সাংবাদিক থেকে গার্মেন্টসকর্মী, শ্রমিক সংঘ, সাধারণ নাগরিক সবাই উপস্থিত হয়েছিলেন। ফুলেল শ্রদ্ধার্ঘ্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন এক রিকশাচালকও। এই অভূতপূর্ব দৃশ্য আমরা সবাই অশ্রুসজল চোখে দেখেছি। এত সামান্য হলেও দুঃখভার লাঘব হয়েছে আমাদের।

ধন্য এই কবি ও সব্যসাচীর জীবন। একটি দারিদ্র্যপীড়িত দেশের অধিবাসী হয়েও তাঁর কৃতকর্মের প্রতি মানুষের যে আবেগ ও ভালোবাসার স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ, তা বিশ্বের যেকোনো উন্নত দেশের কবি-সাহিত্যিক বা শিল্পীর জন্য ঈর্ষাবহ। কবির জন্মগ্রাম কুড়িগ্রামের মানুষ তাঁকে যেভাবে সাদরে বরণ করে নিয়েছেন, তাঁর শেষ ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কুড়িগ্রাম কলেজের উন্মুক্ত প্রান্তরে তাঁকে সমাহিত করেছেন, সে জন্য তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কুড়িগ্রাম কলেজের মাঠের ওপরে আকাশে যখন কবির নশ্বর দেহ হেলিকপ্টারে ঘুরপাক খাচ্ছিল এবং নিচে চোখ ফেলে আমরা যখন হাজার হাজার মানুষকে ঊর্ধ্বমুখে উন্মুখ হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখলাম, অশ্রুসজল হয়ে উঠছিল আমাদের চোখ। সৈয়দ শামসুল হকের জীবন ধন্য যে তিনি জন্মেছিলেন এমন এক দেশে, যেখানে ১৬ কোটি মানুষের প্রায় অধিকাংশই তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। দেশের প্রতিটি সংবাদপত্র, মিডিয়া, ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কবির জীবনব্যাপী নানা কর্মকাণ্ডের যে বিপুল ক্যানভাস, তা সবার সামনে বারবার ধরেছেন। মনে পড়ে, কবির অসুস্থতার সেই দিনগুলোতে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও যুক্তরাজ্যের নানা জায়গা থেকে সর্বক্ষণই টেলিফোন আসত, যা সামাল দেবার ক্ষমতা আমদের ছিল না। ক্রন্দিত মানুষের গলার স্বর সৈয়দ হককে কতই-না আলোড়িত করেছে দিনের পর দিন!

যাপিত জীবনে তিনি কতবার করেই না নিগৃহীত হয়েছেন তাঁর সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী বন্ধুদের হাতে। কতই না ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। এবং এ জন্য তাঁর পরিবারের কাছেও কত-না অবমাননার শিকার হয়েছেন। আমাদের চোখের আড়ালে কতই-না নীরব রক্তক্ষরণ হয়েছে তাঁর। নির্জনতার মিছিলে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত একাকী হেঁটে গেছেন। কিন্তু এ পৃথিবী ছাড়ার আগে তাঁর সব ক্ষোভ, সব দুঃখ মুছে গেছে। তিনি যেমন দেখে গেছেন তাঁর ইংরেজ বন্ধু সাহিত্যিক-সাংবাদিক জেরেমি সি ব্রুকের ভালোবাসা, তেমনি স্বচক্ষে দেখে গেছেন তাঁর প্রতি প্রত্যেক বাঙালির ভালোবাসা। কত মানুষ কতভাবেই না ভালোবেসেছেন তাঁকে! দিল্লির এক বাঙালি লেখক সৈয়দ হকের কাছে টেক্সট পাঠিয়েছিলেন এই লিখে: ‘দাদা, আমি ঈশ্বরের কাছে রোজ প্রার্থনা করি এই বলে যে, আমার যতটুকু আয়ু ঈশ্বর বরাদ্দ করেছেন, তার ভেতর থেকে কিছু আয়ু আপনাকে দেবার জন্য। আপনি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকুন, দাদা।’

এখন যখন স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে, ভিজে উঠছে আমাদের চোখ। আমাদের চোখ ভেসে যাচ্ছে জলে। সময়ের অগ্রগামী এই কবিকে বড় আদরে গ্রহণ করেছে তরুণ প্রজন্ম।

চোখ ভেসে যায়- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমাদের চোখ ভিজে ওঠে। কর্কটের ছোবলে যখন আমরা দিশেহারা, হঠাৎ আর্থিক অনটনে হতভম্ব, বিপর্যস্ত, বাস্তবের নিষ্ঠুর কশাঘাতে রক্তাক্ত, ছিন্নবিচ্ছিন্ন ও হতবাক; তখন মায়াময়ী, স্নেহময়ী জননী হয়ে, ভগিনী হয়ে তাঁর দুটি হাত তিনি বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই দুঃসময়ে তিনি যেভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন আমাদের প্রতি, তা নিশ্চিতই এক জীবনে শোধ করা যাবে না।

কেবলই চোখ ভিজে যায় আমাদের, অশ্রুর বন্যায় চোখ ভেসে যায় এ কথা ভেবে যে, একজন কবিকে দেশ এভাবে ভালোবাসতে পারে! এ জন্য দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি আপ্লুত আমরা।

সৈয়দ শামসুল হকের বিপুল সৃষ্টিকর্মের যথাসাধ্য প্রকাশ এবং তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণই এখন আমার প্রধান কাজ। তাঁর প্রয়াণের পর দশটি নতুন বইসহ বেশ কিছু বইয়ের নবপ্রকাশ সম্পন্ন হয়েছে। মঞ্চস্থ হয়েছে অসুস্থাবস্থায় লেখা তাঁর রূপান্তর নাটক ‘হ্যামলেট’। সম্প্রতি কলকাতা গিয়ে দেখে এলাম তাঁর উপন্যাস নিয়ে সেখানকার তরুণদের করা নাটক ‘বুকঝিম এক ভালোবাসা’। ঢাকায় এসে ভারতের নাট্যদল মঞ্চস্থ করে গেল দীর্ঘদিন মঞ্চে না থাকা নাটক ‘নূরলদীনের সারাজীবন’। তাঁকে নিয়ে ইতিমধ্যে দশটি বই সংকলন এবং বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে এখনও হচ্ছে। ঢাকা ও কুড়িগ্রামে চলছে তাঁর স্মৃতিরক্ষার নানা আয়োজন।

চোখ ভিজে যায়, চোখ ভেসে যায়, মানুষেরই তো চোখ- তাই এই সজল চোখ নিয়ে এখন করে চলেছি প্রকাশিতব্য সৈয়দ শামসুল হক স্মারকগ্রন্থের কাজ- এখন তাঁকে নিয়ে এইমতো জীবন আমার।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ জুন ২০১৭/তারা

Walton
 
   
Marcel