ঢাকা, বুধবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২২ মে ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

যশোরে বৈধ গাড়িচালকের সংখ্যা ৬৫,৬৯১

বিএম ফারুক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৮-০৬ ১:০৩:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৮-২৩ ৪:৪৪:১৮ পিএম

যশোর প্রতিনিধি: ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন যশোরে এমন বৈধ গাড়িচালকের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৬৯১ জন। গত সাড়ে ২৭ বছর ধরে চালকের সংখ্যা এই পরিমাণে এসে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত করা এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি-বিআরটিএ যশোর সার্কেলের।

এরমধ্যে বাস ও ট্রাক চালক (ভারী লাইসেন্স) রয়েছেন ২১ হাজার ৯৪৬জন। মটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস চালক (হালকা যান) রয়েছেন ৪৩ হাজার ৭৪৫জন।

২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত কেবল ছয় মাসে লাইসেন্সধারী হয়েছেন ৫ হাজার ৫৩৬। এরমধ্যে পেশাদার ১ হাজার ৫২৪ ও অপেশাদার ৪ হাজার ১২। ২০১৭ সালে ছিল পেশাদার ৩ হাজার ১৯৫ ও অপেশাদার ৯ হাজার ২৩৬।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালে পেশাদার ৩ হাজার ৩৭ ও অপেশাদার ৭ হাজার ১৩৬। ২০১৫ সালে পেশাদার ২ হাজার ৩২৭ ও অপেশাদার ৪ হাজার। ২০১৪ সালে পেশাদার ৮৮০ ও অপেশাদার ২ হাজার ৩৫২। ২০১৩ সালে পেশাদার ৮৪০ ও অপেশাদার ১ হাজার ৭২০। ২০১২ সালে পেশাদার ৭৩২ ও অপেশাদার ১ হাজার ৫৫২। ২০১১ সালে পেশাদার ৪৯৩ ও অপেশাদার ৯৮৬। ২০১০ সালে পেশাদার ৪শ’ ৯ ও অপেশাদার ৮শ’ ৫৪। ২০০৯ সালে পেশাদার ৩শ’ ৫২ ও অপেশাদার ৭২৯। ২০০৮ সালে পেশাদার ৪শ’ ৩২ ও অপেশাদার ৮শ’ ৬৪। ২০০৭ সালে পেশাদার ৯শ’ ৪ ও অপেশাদার ১ হাজার ৮শ’ ৩১। ২০০৬ সালে পেশাদার ৭শ’ ৫৪ ও অপেশাদার ১ হাজার ৫শ’ ৫৫। ২০০৫ সালে পেশাদার ৭শ’ ৩৬ ও অপেশাদার ১ হাজার ৪শ’ ৭২। ২০০৪ সালে পেশাদার ১শ’ ৭৪ ও অপেশাদার ৭শ’ । ২০০৩ সালে পেশাদার ১শ’ ৬০ ও অপেশাদার ৩শ’ ৫৬। ২০০২ সালে পেশাদার ৬শ’ ৯৮ ও অপেশাদার ৩শ’ ৫৭। ২০০১ সালে পেশাদার ৮শ’ ৪ ও অপেশাদার ৮শ’ ৫১। ২০০০ সালে পেশাদার ৯শ’ ৭৪ ও অপেশাদার ৯শ’ ২৫। ১৯৯৯ সালে পেশাদার ৩শ’ ৪৬ ও অপেশাদার ৩শ’ ৪। ১৯৯৮ সালে পেশাদার ৩শ’ ৮৪ ও অপেশাদার ৩শ’ ৫৩। ১৯৯৭ সালে পেশাদার ৪শ’ ৫২ ও অপেশাদার ৪শ’ ৭৬। ১৯৯৬ সালে পেশাদার ৩শ’ ৬১ ও অপেশাদার ৩শ’ ৪২। ১৯৯৫ সালে পেশাদার ১শ’ ৫৭ ও অপেশাদার ১শ’ ২২। ১৯৯৪ সালে পেশাদার ২শ’ ৩৯ ও অপেশাদার ১শ’ ৮৮। ১৯৯৩ সালে পেশাদার ৩শ’ ৪৬ ও অপেশাদার ২শ’ ৭০। ১৯৯২ সালে পেশাদার ১শ’ ৩২ ও অপেশাদার ১শ’ ২৯। ১৯৯১ সালে পেশাদার ৯৭ ও অপেশাদার ৬৮ এবং ১৯৯০ সালে পেশাদার ৭ ও অপেশাদার চালক ছিলেন মাত্র ৫ জন।

সময়ের আবর্তে মানুষের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার আগ্রহ যেমন বেড়েছে ঠিক তেমনি লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে সকল চালককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তারপরও সম্প্রতি যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি একটি সভায় দাবি করেছেন সারাদেশে অর্ধেক চালকের লাইসেন্স নেই। যদি প্রকৃতপক্ষে সেটি হয় তা হলে আনুপাতিক হারে যশোরেও লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যা অর্ধ লক্ষাধিক থাকার কথা।

আসলে এত বিপুল সংখ্যক চালক লাইসেন্সের বাইরে আছেন কি না তা নিরুপণ করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যশোরে এমন কোনো দপ্তর নেই যেখানে লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যা লিপিবদ্ধ করা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতি, বাংলাদেশ মটর ওয়ার্কার্স এসোসিয়েশনসহ যানবাহন সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনে যোগাযোগ করে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তথ্য নেই বিআরটিএ অফিসেও। কর্মকর্তারা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন চালকের সংখ্যা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন কাজ। তা ছাড়া, এ ধরনের নির্দেশনা বিআরটিএ’র প্রতি নেই। ধারণা থেকে সংশ্লিষ্টরা যা জানিয়েছেন সে অনুযায়ী আট থেকে ১০ হাজার চালক লাইসেন্স বিহীন থাকতে পারে।

শ্রমিক নেতৃবৃন্দের দাবি, মানুষের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, অনেকেই লাইসেন্স করে গাড়ি চালাতে আগ্রহী। কিন্তু বিআরটিএ-তে কিছু জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে পেশাদার চালকদের জন্যে। যে কারণে  কেউ কেউ লাইসেন্স করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। নেতৃবৃন্দ বিআরটিএ-কে আরো বেশি বেশি চালকবান্ধব হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে বিআরটিএ যশোর সার্কেলের সহকারী পরিচালক কাজী মোরছালীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘একটা সময়তো চালকরা লাইসেন্স করতো না বললেই চলতো। সেই অবস্থাতো এখন নেই। এখন অনেক বেশি মানুষ ড্রাইভিং লাইসেন্স নিচ্ছেন। যারা এখনও পর্যন্ত নেননি তারাও পর্যায়ক্রমে নিয়ে নেবেন।’   

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/যশোর/৬ আগস্ট ২০১৮/বি এম ফারুক/টিপু

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge