ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

সবসময় আমার ইচ্ছা ছিল ৯২ বছর বাঁচব: মুর্তজা বশীর

মোহাম্মদ আসাদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৮-১৭ ৮:১৩:০৭ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-১২ ৪:৫১:৩৪ পিএম

মুর্তজা বশীর। বাবা জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মা মরগুবা খাতুন। স্বাভাবিকভাবেই এদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতির অন্দরমহলে কেটেছে তাঁর শৈশব। কমিউনিস্ট আন্দোলন, আর্ট কলেজে ভর্তি একটি নিয়মের মধ্যে হলেও ক্যানভাসে তিনি কোনো একটি বিষয় নিয়ে আটকে থাকেননি। ইতালিতে শিল্পকলায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। ফিরে এসে থিতু হয়েছেন মাতৃভূমিতে। অধ্যাপনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা অনুষদে। ক্যানভাসে তিনি এঁকেছেন দেয়াল সিরিজ, এপিটাফ, প্রজাপ্রতির পাখা, কালিমা তাইবা। লিখেছেন গল্প, কবিতা, উপন্যাস, অনুবাদ, শিল্পকলা, প্রাচীন মুদ্রা নিয়ে বই। তাঁর লেখা বই ‘মুদ্রা ও শিলালিপির আলোকে বাংলার হাবসী সুলতান ও তৎকালীন সমাজ’ ইতিহাসের ভিন্ন চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। হুমায়ুন কবীরের উপন্যাস ‘নদী ও নারী’র চিত্রনাট্য রচনা করে তিনিই ছিলেন এই সিনেমার সহকারী পরিচালক। সংগ্রহ করেছেন প্রচীন মুদ্রা, কাগুজে নোট ও ষ্ট্যাম্প। কাজ করেছেন পোড়ামাটির টেরাকোটা নিয়ে। শিল্পী সত্তার বাইরেও তাঁর অনন্য পরিচয় তিনি ভাষা সংগ্রমী। ১৯৭১-এর উত্তাল সময়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। স্বাধীনতার দাবিতে আয়োজিত বাংলাদেশ চারু শিল্পীদের ‘স্বাধীনতা’ মিছিলের তিনি অন্যতম সংগঠক।  বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনের দ্বিতীয় প্রজন্মের এই চিত্রশিল্পীর আজ জন্মদিন। শিল্পীর ৮৬ তম জন্মবার্ষিকীতে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মোহাম্মদ আসাদ।

মোহাম্মদ আসাদ: আর্ট ইনস্টিটিউটের আপনি সম্ভবত দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র। এর শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
মুর্তজা বশীর: ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউটের পুরো নাম ছিল গভর্নমেন্ট অব ইনস্টিটিউট আর্ট। পুরান ঢাকার সদরঘাটের কাছে আগে মুকুল সিনেমা হল ছিল। পাকিস্তান আমলে তার নাম হলো আজাদ। তার পাশেই ছিল ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। এই কলেজের নিচতলায় দুটি রুম নিয়ে আর্ট ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু। প্রথম ব্যাচে ছাত্র ছিল আমিনুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে কলকাতা থেকে এসে ভর্তি হন বিজন চৌধুরী। আর যারা ছিল তারা কেউ শিল্পী হিসেবে টিকে থাকতে পারেনি। ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় ব্যাচে যুক্ত হলাম আমি, আবদুর রাজ্জাক, কাইয়ুম চৌধুরী, রশীদ চৌধুরী। আমি ছাড়া এই ব্যাচের সবাই প্রয়াত।

মোহাম্মদ আসাদ: আপনারা আর্ট মুভমেন্ট শুরু করলেন কীভাবে?
মুর্তজা বশীর: স্বল্প পরিসরে এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন। প্রথম আর্ট মুভমেন্ট বলতে যা বুঝায় এর সঙ্গে  জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা- এই কাজটি কিন্তু শুরু হয় ১৯৫০ সালে। প্রথম ঢাকা আর্ট গ্রুপের প্রদর্শনী হয় লিটন হলে। এই প্রদর্শনী দেখতে স্কুলের ছেলেমেয়েরা ঘোড়াগাড়ি করে এসেছিল। লাইন দিয়ে প্রবেশ করে তারা প্রদর্শনী দেখেছে। আমরা তখন প্রথম বর্ষের ছাত্র। লিথোগ্রাফ কালো কালি দিয়ে করা ছাপচিত্র। উডকাটও ছাপচিত্র। এটা কাঠের ওপর খোদাই করে করতে হয়। লিথোগ্রাফ করে পাথরে। উডএনগ্রেভিং এটাও ছাপচিত্র। এচিংও ছাপচিত্র। যারা দেখছে তাদের কাছে ভিজুয়ালি ছাপচিত্রগুলো একই রকম লাগছে। এটা সাধারণ দর্শকদের কথা বলছি। ওরা আমাদের জিজ্ঞেস করছে লিথোগ্রাফ কী? আমরা কিন্তু বিরক্ত না হয়ে বোঝাবার চেষ্টা করেছি লিথোগ্রাফ সম্পর্কে। উডকাট কী বুঝিয়ে বলেছি। এভাবে বিষয়গুলো সাধারণের কাছে সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

ঢাকায় সেবার বেশ একটা সারা পরে গিয়েছিল। ঢাকার এই ধরনের প্রদর্শনী এটাই প্রথম। এরপর ১৯৫২ সালে যে আর্ট গ্রুপের প্রদর্শনী হয় সেখানেও কিন্তু সাধারণের কাছে শিল্পকর্ম নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এ কারণে আর্ট গ্রুপের প্রদর্শনী কুমিল্লা, চট্টগ্রামেও হয়েছে। এই আর্ট মুভমেন্ট ৫৪ সালের পরে আর আগায়নি। ১৯৫৬ সালে আমরা যখন প্রদর্শনী করছি- কেউ এসে ক্যাটালগ চাইছে। বলছি, না ক্যাটালগ নেই। ছবি সম্পর্কে কিছু জানতে চাইছে, বলতে আগ্রহী হচ্ছি না। কারণ সে বায়ার না। কিন্তু যখনই কোনো বিদেশি এলো, খুব কেতাদুরস্ত হয়ে তার কাছে পৌঁছে যাই। আমরা কিন্তু তাকে ডাকিনি। হাতে ক্যাটালগ ধরিয়ে দিয়ে পিছে পিছে হেঁটে বলছি- এটা আমার আঁকা ছবি। এভাবে আর্টিস্ট সেলসম্যান হয়ে গেল। যে যত ভালো সেলসম্যান হবে, সে তত ছবি বিক্রি করতে পারবে। এখন আর্ট মুভমেন্ট বলে কিছু নাই। এখন প্রদর্শনীর সফলতা বোঝায় কত টাকা বিক্রি হলো তার ওপর।

মোহাম্মদ আসাদ: শিল্পকলা সাধারণের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রের কোনো উদ্যোগ ছিল?
মুর্তজা বশীর: শিল্পকলাকে সাধারণের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিল্পকলা একাডেমি একটা উদ্যোগ নিয়েছিল। সেটা হলো ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা। প্রতিটি জেলা শহরে একটি বাস নিয়ে যাওয়া হবে। এটি ভালো কাজ ছিল। সবার তো আর ঢাকা এসে ছবি দেখা সম্ভব হয় না। এই ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীর কারণে সারা দেশে আর্টের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল। সেটা কী কারণে বন্ধ হলো আমার জানা নেই। পেইন্টার্স ইউনিট নামে আমি, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, কাইয়ুম চৌধুরী একটা সংগঠন করেছিলাম ৫৬ সালে। সেটার একটা প্রদর্শনী হয়েছিল জাতীয় প্রেস ক্লাবে। আমি ইতালি চলে যাওয়ায় সেটা আর আগায়নি।


মোহাম্মদ আসাদ: সাধারণ মানুষকে শিল্পকলার প্রতি আগ্রহী করার জন্য কী করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
মুর্তজা বশীর: আমাদের এখানে তেমন গ্যালারি নাই, পেইন্টিংয়ের আলাদা মিউজিয়াম নাই। ইউরোপে রবিবার (ছুটির দিনে) জাদুঘর বিনামূল্যে দেখা যায়। আমি দেখেছি সেদিন দল বেঁধে মানুষ জাদুঘরে যাচ্ছে। সেখানে ফিডার হাতে ছোট বাচ্চাও আছে। প্যারিসে আমি দেখেছি মিউজিয়ামে মানুষ লাইন ধরে যাচ্ছে। ধরো, একটা ছোট বাচ্চা ছবি দেখে বলছে এটা কী? আমি দেখেছি ওর মা-বাবা বিরক্ত না হয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে। শৈশব থেকেই ওরা শিল্পের কাছাকাছি থাকে। ইউরোপেও প্রচুর গ্যালারি রয়েছে। সেখানে প্রদর্শনী হয়। ইউরোপে দুই ধরনের গ্যালারি আছে। এক ধরনের গ্যালারিতে নিয়মিত বিভিন্ন শিল্পীর প্রদর্শনী বা গ্রুপ শো হয়। আরেক ধরনের গ্যালারি আছে শিল্পীকে চার-পাঁচ বছরের জন্য বুক করে ফেলে। সে শিল্পীকে মাসে মাসে টাকা দেয়, আর শিল্পী সমস্ত কাজ ঐ গ্যালারিতে দেয়। অন্য কোথাও সে তখন ছবি দিতে পারে না। এই শিল্পীকে যেমন প্রোমোট করে তেমনি তার সমস্ত প্রচারের দায়িত্ব ঐ গ্যালারিই নিয়ে থাকে। এটা আমাদের এখানে নাই। ইউরোপে সবই কমার্শিয়াল গ্যালারি।

মোহাম্মদ আসাদ: আমাদের দেশে শিল্পকর্মে বাজার বৃদ্ধির জন্য কী করা উচিত বলে মনে করেন?
মুর্তজা বশীর: বাংলাদেশ হওয়ার পরে একটা নিউ ইন্ডাস্ট্রি রাইজ করল। প্রচুর বিত্তবান হলো গার্মেন্টস সেক্টরে। এই গার্মেন্টস মালিকরা বিদেশ যাচ্ছে, অবসরে মিউজিয়াম টিউজিয়ামে যাচ্ছে। অথবা কোনো অফিসে দেখে তাদের আর্টের প্রতি একটা ভালোবাসা জন্মেছে। তারা দেখল রিয়াল এস্টেট বিজনেসের চেয়ে আর্টের বিজনেস অনেক লাভজনক। আজকে যেটা পাঁচ হাজার দিয়ে কিনবে, পরবর্তীতে সেটার দাম ৫০ হাজার। বর্তমানে যারা ছবির বায়ার তারা বেশিরভাগই গার্মেন্টস সেক্টরের মালিক। তাছাড়া এরই মধ্যে কিছু কালেক্টরও গ্রো করেছে। যারা ভালোবেসেই ছবি কালেকশন করে। এখন কিন্তু শিল্প আন্দোলন নাই। এখন হলো কি, আমার অভিজ্ঞতার কথাই বলি। আমি ১৯৭৬ সালে যখন আমার ‘এপিটাফ অব দ্য মার্টারেড’ এক্সিবিশন করছি। এই এক্সিবিশনে এক তরুণ আমাকে বলল, ক্যাটালগ আছে? আমি তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে বুঝলাম সে ছবি কিনবে না। আমি তখন বললাম, না ক্যাটালগ নাই। সে স্মার্টলি একটা ক্যাটালগ দেখিয়ে বলল, এই যে দেখছি। আমি বললাম, ও আছে নাকি! আচ্ছা দেখছি। এই একটাই আছে, আপনি দেখে আবার ফেরত দেবেন।

এরপর এলো একজন ভদ্রমহিলা। পোশাক দেখে মনে হলো রিচ। সে আমাকে ডাকে নাই। আমি অযাচিতভাবে তার কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দিলাম। গায়ে পরে তার সাথে আলাপ করছি। তাকে কনভেন্স করার চেষ্টা করছি, যাতে সে ছবি কেনে। আর্টিস্ট সেলসম্যান হয়ে গেলাম। এখন আমার যে এক্সিবিশন হয় সেগুলোতে আমি তো যাই না। শুধু ওপেনিংয়ে থাকি। এখন ধরো, মোটামুটি আমার ছবি বিক্রি হয়। হয়তো কিছুটা নামের জন্য, অনেকে ভাবে বয়স ৮৫ বছর হয়ে গেছে, কখন জানি মরে যায়! মরে যাওয়ার পর ছবি হয়তো অনেক দাম হয়ে যাবে। ১৯৭৬ সালে জয়নুল আবেদিন মারা যাওয়ার আগে হাসপাতালে যখন ছিল তখন আমি এক্সিবিশন করছি। আমি সেখান থেকে ডেইলি তাকে হসপিটালে দেখতে আসতাম। (একটি ছবি দেখিয়ে) এই যে ছবিটা দেখছ, সেই সময়ে এটা কামরুল হাসানের তোলা। সেই সময় আমার ছবি বিক্রি হতো পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকায়। জয়নুল আবেদিনের ছবিও বিক্রি হতো পাঁচ থেকে দশ হাজারে। আজকে আমার ছবি হলো পাঁচ লাখ। জয়নুল আবেদিনের ছবি হলো ৫০ লাখ টাকা। এই হলো ডিফারেন্স। আমি মারা গেলে আমার ছবির দাম হবে। আমার কথা হলো,  এখানে সরকারের কিছু একটা করার আছে। সরকার ইচ্ছে করলে আর্টটাকে প্রোমোট করতে পারে। তাতে কিন্তু সরকারের কোষাগার থেকে এক টাকাও যাচ্ছে না। এটা কীভাবে? বন্ড কিনলে যেমন ইনকাম ট্যাক্স ফ্রি হয়, কেউ আর্ট কিনলে ট্যাক্স ফ্রি করে দিতে হবে।

মোহাম্মদ আসাদ: ঘরে ছবি রাখা নিয়ে অনেকে সমস্যা মনে করে কেন?
মুর্তজা বশীর: আমার পিতাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম ১৯৬০ সালে। আমি তখন লাহোর থেকে করাচি গেছি। বাবা তখন করাচিতে উর্দু ডেভলপমেন্ট বোর্ডের প্রধান সম্পাদক। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, অনেকে বলে আপনি মুসলমান হয়ে ছবি আঁকেন কেন? ছবি আঁকা কি নিষেধ, আল্লাহ নিষেধ করেছেন? বাবা বললেন, তুমি আমার ছবি আঁকতে পার কিন্তু সে ছবি দেখে যদি তোমার মধ্যে ভাবের সৃষ্টি হয় তাহলে শিরক হবে। বাবার মৃত্যুর আগে তাঁর চার-পাঁচটা ড্রইং করেছি, পেইন্টিং করিনি। সেগুলো করিছি দূর থেকে দেখে। দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেছি তিনি পড়ছেন। ১৯৬৯ সালে ১৩ জুলাই বাবা মারা যান। মৃত্যুর সাতদিন আগে আসকান পরে, টুপি পরে এসে বললেন- আমার একটা ছবি আঁক। একজন প্রফেশনাল মডেলের মতো ছবি আঁকলাম। বললাম ডানে তাকান, বাঁয়ে তাকান। আমি তাঁর ড্রইং করলাম। তাঁর সম্মতিতেই ড্রইং করলাম। তিনি আমাকে ইতালিতে পড়িয়েছেন। এখন দেখ সৌদি আরবের রাজার ছবি কয়েনসের মধ্যে দিয়েছে। টাকার মধ্যে তাদের ছবি আছে।

মোহাম্মদ আসাদ: ৮৬তম জন্মদিনে এসে নিজেকে নিয়ে কী ভাবছেন?
মুর্তজা বশীর: জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। এমনও হতে পারে কলকে আমি মারা যেতে পারি। এমনও হতে পারে এক বছর পর অথবা তিন-চার বছর পর মারা যেতে পারি। তবে সবসময় আমার ইচ্ছা ছিল ৯২ বছর বাঁচব। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করত ৯২ কেন? এটা তো ৯১, ৯৩-ও হতে পারে। একেবারে ৯২ কেন? আমি বলতাম, পিকাসোকে আমি অতিক্রম করতে পারব না। অনন্ত বয়স দিয়ে পিকাসোকে অতিক্রম করতে চাই। আমি প্রতিদিন ভাবি ছবি আঁকব। ছবি আঁকাটা কিন্তু আমর জীবিকা। এটা আমার শখ নয়। এখন ছবি না আঁকলে আমার সংসার চলবে কী করে? আমার ওষুধের টাকা ছোট মেয়ে পাঠায় চট্টগ্রাম থেকে। চাল, মাছ-মাংস কিনে দেয় বড় মেয়ে। তারপরও তো পাউরুটি, ডিম অনেক কিছুই লাগে। ফ্ল্যাটের এসোসিয়েশনের বিল, ইলেক্ট্রিক বিল- অনেক খরচ আছে। এসব আমার ছবি বিক্রি করেই যোগাতে হয়। আমি ফরমায়েসি ছবি আঁকি না। বইয়ের প্রচ্ছদ বা ইলাস্ট্রেশন এসব করি না। পুরোটাই চলি ছবি বিক্রির ওপর। আমি ছবি আঁকছি না। এর মনে এই নয় আমি ছবি আঁকব না। সবকিছু তৈরি করে, কি আঁকব সেটা মাথায় নিয়েছি। এখন অনেকটাই সুস্থ আছি। এমন সুস্থ থাকলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই আঁকার কাজ শুরু করব।

আলোকচিত্র: মোহাম্মদ আসাদ

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ আগস্ট ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC