ঢাকা, বুধবার, ৫ পৌষ ১৪২৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

ছোটগল্প || একজন মানুষের দাম

শাহাব আহমেদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৯-১১ ৪:২০:০৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৯-১১ ৪:২০:০৪ পিএম

|| শাহাব আহমেদ ||

সে ছিল পেশাদার নৌকার মাঝি। যখন আমাদের এলাকায় নদী ও খাল ছিল, তখন সে ‘কেড়াইয়া’ নৌকা বাইতো। চালওয়ালা ছোট নৌকা। গৃহবধূরা নাইয়র যেত ওর নৌকায় চড়ে। অথবা রোগী যেত পাঁচ মাইল দূরে উপেন্দ্রবাবুর ডাক্তারখানায়। স্থানীয় সম্পন্ন গৃহস্থ ও বাবুরহাটের ব্যাপারী, ইউনুছ মিয়া বিশাল নাগের হাটের বিল পার হয়ে ‘খোদাইবাড়ী’ তার দোস্তের বাড়ি বেড়াতে যেত পরিবার নিয়ে। সাথে উপহার নিত পিতলের ‘ডাবর’ আর পান।

নাগের হাটের বিলে দূরের আকাশ নত হয়ে মুখ দেখতো স্বচ্ছ জলে। আমন সবুজের পেটের পাশ দিয়ে নৌকা বেয়ে যেত আলী হোসেন। মাঝে মাঝে গান গাইতো গলা ছেড়ে। তবে গানের গলা ওর ছিল না ।

গলা না থেকেও যারা গান গাইতে ইতস্তত বোধ করে না, তারা অন্য ধরনের মানুষ। গান তাদের গলায় নয়, অন্তরে। একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতি।

একবার সে গিয়েছিল নাগের হাটে ইউনুছ মিয়াকে ঢাকার লঞ্চে তুলে দিতে। লঞ্চ ছেড়ে দিয়েছিল, সে দ্রুত বৈঠা বেয়ে ঠিকই তার যাত্রী তুলে দিতে পেরেছিল কিন্তু লঞ্চের সাথে বাড়ি খেয়ে নৌকা চড়কির মতো ঘুরতে শুরু করেছিল। সে তাল সামলাতে না পেরে পানিতে পড়ে গিয়েছিল। শুশুকের পিঠের মতো কালো খালি পিঠ। সাঁতার ভালো জানতো। নৌকায় উঠতে সময় লাগে নি।

আমি ছিলাম সেই নৌকায়। বয়স অল্প ছিল, ঘটনাটি আবছা মনে পড়ে। আলী হোসেন তখন যুবক। যে বয়সে এখনকার যুবকেরা কলেজ, ভার্সিটিতে যায় বা গাঁজা, সিডাক্সিন খায় বা পাড়ার মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে বা মাস্তানী করে, সেই বয়স। অশিক্ষিত বলতে যা বুঝায়, একেবারে হাড়ে মাংসে নিখাদ একজন তাই।

অনেকদিন আগের কথা মনে হলেও, এগুলো আসলে বেশি দিন আগের কথা নয়। এখন পিতলের ডাবর আর পান উপহার নিয়ে বেড়াতে গেলে লোকে হাসবে। মাঝির পেশাটা উঠে যেতে সময় লাগে নি বেশিদিন। ‘কেড়াইয়া’ নৌকা এখন প্রায় মিউজিয়ামের জিনিস আমাদের এলাকায়, লঞ্চও। পানি নেই। এখন গাড়ি চলে, আগের মাঝিরা রিকশা চালায়। যেখানে কনকসার দিঘলী খাল ছিল সারা বছর নাব্য, সেখানে এখন ঘিঞ্জি বস্তি। ঘর, তারপর পায়খানা, তারপর ঘর।

নাকে রুমাল দিয়ে হাঁটতে হয়, কিন্তু সেটা উটকো ঝামেলা, রুমাল ছাড়াই হাঁটি। মাতৃভূমির সব গন্ধই ‘আমের বোলের’ গন্ধ হতে হবে এমন কোন কথা নেই। অপ্রীতিকর গন্ধও দেশ-জাতিরই গন্ধ।

হিজল ফুল দেখার প্রশ্নই ওঠে না। পানি ছাড়া হিজল গাছ গজায় না। পোখ্ পাখালি ইদানীং তেমন নেই। যেখানে মানুষের চামড়া ঘেঁষে মানুষ, সেখানে পাখীর জন্য ঝোপঝাড় গাছপালার কথা ভাবা বিলাসিতা। আর এখন গ্রামে অন্ধকারও নেই , অমাবশ্যা বলে যে রাতগুলো ছিল তা এখন ভূতের ডিকশনারিতে ঠাঁই নিয়েছে। রাতে এখন বাতি জ্বলে, পেচারা ঔষধ খেয়ে ঘুমায়।

আলী হোসেন বেশ কিছুদিন গ্রামেই রিকশা চালায়। কিন্তু পরিশ্রম যতটা করে, মুখে খাদ্য ততটা জোটে না। সে ঢাকায় চলে যায়। সেখানে ভ্যান চালায় দীর্ঘদিন। পরিশ্রমই সার, জুড়ে আসে না। তারপর মাছ বেচতে শুরু করে। রাস্তা ঘাট হওয়ায় এবং গাড়ি চলাচল শুরু হওয়ায় পদ্মা নদীর তীর থেকে মাছ কিনে এনে ঢাকায় বিক্রি করে। গরিব মানুষের কাছে আসা সব সংবাদই দুঃসংবাদ এটা ভাবা ঠিক নয়। সে একবার পঞ্চগড়ের খবর পায়। ঝাউটিয়ার শেখেরা পদ্মা নদীর বারবার ভাঙনে বিরক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত পঞ্চগড়ে চলে গিয়েছিল। তখনও জমির দাম সেখানে অনেক সস্তা ছিল। একরের পর একর জমি কিনে নতুন করে জীবন শুরু করে সেখানে। এরা পরিশ্রমী কৃষক সব সময়ই। হাতে তাদের সোনা ফলে । কিন্তু পদ্মার সাথে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছিল না এখানে। খুব ভালো করেছে পঞ্চগড়ে। অর্থনৈতিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। পঞ্চগড় হোসেন মিয়ার ময়না দ্বীপ নয়। যাওয়া সেখানে সহজ। আস্তে আস্তে তাদের আত্মীয় স্বজনরাও চলে গেছে সেখানে। শুধু কৃষিকাজ নয়, দোকানপাট খুলে ব্যবসা বাণিজ্যসহ কি না করছে তারা।

ছোট একটা ঝাউটিয়া গ্রাম তৈরি করেছে পদ্মা থেকে অনেক দূরে। কিন্তু পদ্মা তীরের মানুষের একটাই রোগ- পদ্মাবিলাস। ভদ্রলোকেরা যাকে বলে নস্টালজিয়া। আলী হোসেন তাদের নস্টালজিয়াতে তেল ঢালতে শুরু করে, পদ্মা নদীর মাছের তেল।

নদীর মাছ কিনে বরফ চাপা দিয়ে বাসে চড়ে নিয়ে যায় পঞ্চগড়ে। যাওয়া আসার খরচ বাদ দিয়েও ঢাকার চেয়ে কিছুটা বেশি লাভ হয় ওর। পুঁজি কম। তারপরেও শুধু মাছ বেঁচার টাকায় তার সংসার চলে না। পরিশ্রমের আধাপেটা জীবন। স্রষ্টার সবচেয়ে মৌলিক সৃষ্টি যা।

‘ভাই কেমুন আছেন?’

প্রতি মাসে বারদুই সে ফোন করে খোঁজ খবর নেয়। আমি আলী হোসেনের চেয়ে বয়সে ছোট। যখন তুই বলা যেত তখন আমাকে তুই-ই বলতো। এখন আপনি বলে। মাস, দুই মাস পরে বাসায় এসে উপস্থিত হয়। বলে ‘ভাবী চা খামু।’

আমার বৌ চা দেয়, খেতে দেয় ঘরে যা আছে। অন্য সময়ে হয়তো শুধুই চা বিস্কুট দিয়ে আপ্যায়ন করে। আলী হোসেনের উটকো লজ্জা নেই, ঘরের মানুষের মতোই খায়। ও আমাদেরই গ্রামে থাকতো পাশের বাড়িতে। পদ্মা ভূমি দস্যু হবার আগে বাড়ি ওদের নিজেদেরই ছিল। পরে পদ্মার উদরস্থ হয়ে অন্যদের হয়েছে। ছোটবেলা ওর বাপ আমাদের বাড়িতে ফাই ফরমাশ খাটতো। আগে যারা এমন গরিব ছিল, তাদের অনেকেই এখন বড়লোক হয়েছে। কিন্তু আলী হোসেন ও তার পরিবার দেশের আগের চেহারাটাই ধরে রেখেছে। ওরা হাভাতে দেশপ্রেমিকের দল, একটুও বদলায় নাই।

জাকাত ফেৎরার টাকা ওকেই দেই । এছাড়াও ঈদে একটা লুঙ্গী, বৌর জন্য একটা শাড়ি কিনে দেই। কি যে খুশী হয়! ছেলে ও মেয়ে যখন ছোট ছিল ওদেরও কিছু দিতাম। মেয়েটার বিয়ে হয়েছে, ছেলেটা রিকশা চালায়। বলে, ‘মাইজ্জা ভাই, জানি আপনেরে অনেক জ্বালাই, আপনে বিরক্তও হন, কিন্তু যামু কই? একদিন না খাইয়া থাকতে পারি, তার বেশি তো পারি না। ট্যাকা যে নাই, পেট তা মানে না। আমি আইলসা না, কাম করি, কিন্তু জুইড়া আহে না। আল্লা তায়ালা কপালডায় ফুদ্রি কইরা দিছে, কি করুম?’

নিঃসন্দেহে আল্লার সিদ্ধান্তের উপরে কারো হাত নাই। কপালে যাদের ছিদ্র তাদের চুরি ডাকাতি রাজনীতি করে তা বন্ধ করতে হয়, কিন্তু সবাই তা পারে না।

‘দুইডা গালি দেন নয় দুইডা থাপ্পড় দেন কিন্তু লাত্থি দিয়া বাইর কইরা দিয়েন না’ বলে আলী হাসে। তার এই একটা গুণ, যেখানে হাসা বেমানান সেখানেও হাসে । আমার মুখে হাসি আসেই না, কিন্তু ওর মুখে আঠার মতো হাসি লেড়ে থাকে, না খেয়ে থেকেও।

সপ্তাহখানেক আগেই এসেছিল। আমরা বের হয়ে যাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। ঢাকা ক্লাবে ডিনারের দাওয়াত। আমার এক বন্ধু খুব ভালো করছে। নতুন একটা ব্যবসায়ের উদ্বোধন হয়েছে, তারই একটা পার্টি। আমার বৌ গহনাপত্র ও দামী শাড়ি পরে তৈরি, ঠিক এমন সময়ে সে আসে। সন্ধ্যা ৬ টার কাছাকাছি।

‘ভাবী চা দেন, চা খামু।’

আমার বৌ বুয়াকে চা দেয়ার কথা বলে ওকে জানায়, ‘বসো, আমরা বাইরে যাচ্ছি, রাতের খাবার খেয়ে যেও।’

আমি সচরাচরের মতো ২ হাজার টাকা বের করে দেই। হাতে নিয়ে বলে, ‘এক হাজার টেকা বেশি দেন, একটু ঠেকা আছে।’

অন্য সময় হলে প্রশ্ন করতাম, কিন্তু তাড়া ছিল। আরও এক হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলি, ‘তোর ভাবী কি বলেছে শুনেছিস? বুয়া আছে, খেয়ে যাস।’

ও বলে, ‘ভাই, আপনেরে অনেক জ্বালাই। তয় মনে অইতাছে বেশিদিন আর জ্বালামু না।’

হাসে। একে কি বলে? ক্রীতদাসের হাসি নয়, বোকার হাসি। আমাদের দেশ বাগদাদ নয়, আমাদের ক্রীতদাস নেই।

‘তুই এই কথা কেন বলছিস রে আলী হোসেন?’

‘কেন কইতাছি, তা জানি না, তবে মনডায় খালি তাই কইতাছে।’

‘এগুলো অলক্ষুণে কথা। এসব কথা ভাবতেও নাই, বলতেও নাই।’

এর পরেই আলী হোসেন মাছ নিয়ে পঞ্চগড়ে গিয়েছিল। ভালো লাভ হয়েছে। মনটায় ফুরফুরে আনন্দ। বাসে বসে বসে উশখুশ লাগছিল। সে ছিল একেবারে পিছনের সিটে। নিয়মিত যাতায়াত করার কারণে ড্রাইভার পরিচিত। সে সিট ছেড়ে এগিয়ে যায়। একটা সিগারেট ধরিয়ে ড্রাইভারের সাথে কথা বলতে থাকে। বাস চলছে দ্রুত। আলী হোসেনের জীবনটা এত দ্রুত চলে না। চলে অনেক ধীরে। না খেয়ে থাকার দিনগুলো বেশ লম্বা। তবে তাও অতিক্রম হয়। সে ড্রাইভারকে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে দেয়। সিগারেট খায় আর কথা বলে। সুখ দুঃখের কথা। কিন্তু হঠাৎ দেখতে পায় বিপরীতমুখী একটি ট্রাকে একজোড়া পাখা, বিশাল আজরাইলের পাখা! কথা বন্ধ হয়ে যায়। আলী হোসেনের নিজেরও পাখা গজায়, আজরাইলের নয়, ইকারুশের, মুক্তির পাখা।

সে বাসের সামনে থেকে উড়ে গিয়ে প্রচণ্ড গতিতে আছাড় খায় বাসের পেছনে। একমাত্র সেই দাঁড়ানো ছিল। এমন কি ড্রাইভারও আহত হয়ে বেঁচে থাকে। ওর জীবনটা যে খুব ধীর গতির, তা মিথ্যা প্রমাণিত হয় কত সহজে। বলেছিলাম অলক্ষুণে কথা বলতে নেই, কিন্তু কে শোনে?

আমি গত দুদিন কোমরের ব্যথায় কাবু। সায়াটিকার ব্যথা, নড়তেও অসুবিধা হয়। বিছানায় শুয়ে আছি। আমার বৌ এবং চাচাতো বোন গিয়েছে আলী হোসেনের জানাজা ও সৎকার করতে। আলী হোসেন বেঁচে থেকেও সংসারের জন্য ছিল ঝামেলা, মরে গিয়ে সে তা মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে না।  গ্রামের লোকজন লাশ জব্দ করেছে, মাটি দিতে দেবে না। এদিক সেদিক ধার দেনা তার আকাশচুম্বি। ঋণ শোধ না করলে, সে মাটি পাবে না, ওদের সাফ জবাব। বৌ ফোন করেছে। আমি বিছানায় শুয়ে ফোনে কথা বলছি।

‘তা কত টাকা ঋণ, অংকটা জানতে পেরেছ?’

‘ওরা বলছে অনেক টাকা, হিসাব করছে, এখনই জানা যাবে।’

ফোন ধরে আছি, কোমরের ব্যথাটা নড়লেই বাড়ে। তাই আমি সটান আলী হোসেনের মতো নিথর শুয়ে কথা বলছি । ফোনের অন্যদিকে আমার স্ত্রী, আলী হোসেনের লাশের পাশে। গ্রামের লোকগুলো আসলে ভালোই, আমি ভাবি। বেঁচে থাকতে হতদরিদ্র আলী হোসেনকে টাকা ধার দিয়ে উপকার করেছে। কিন্তু করেছে কোন আক্কেলে? ওর তো মর্টগেজ দেয়ার মতো কিছু ছিল না। বিশ্বাস করেই টাকা দিয়েছে। সুতরাং আলী হোসেনের লাশের উপরে তাদের হক আছে। কিন্তু মরা মানুষ টাকা শোধ করে কেমনে? ছোটবেলা কাবুলীওয়ালাদের গল্প শুনেছি। ওরা নাকি দেনাদারের কবরে দোররা মারতো। তাতে টাকা আদায় হতো কিনা সে অংশটুকু গল্পে খেয়াল করি নি। বাঙালির যতদূর জানি ধর্ম ছাড়া কাবুলীদের সাথে আর কোনো মিল নেই। কাবুলীরা কাবুলের, বাঙালিরা বাংলার।

আলী হোসেনের বৌর ওকে দিয়ে আর কোনো কাজ নেই। বরং মাটি দিতে খরচ আছে। ওর ছেলে রিকশা চালায়। মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে কোনো মতে বাঁচে। পিতা জীবিত বা মৃত এই দুই অবস্থার মধ্যে খুব যে পার্থক্য আছে তা শুধু মধ্যবিত্তের আবেগে। উপরের শ্রেণিতে মৃত পিতা মানে বিশাল উত্তরাধিকারের প্রপাতপ্রবাহ, নীচের শ্রেণিতে  অতিরিক্ত মুখের অবসান।

‘অতিরিক্ত মুখ, রাইফেলের চেয়েও খারাপ’ শুনেছি রাশিয়ানরা তাই বলে। আমার মাথায় অযথাই চিন্তাগুলো ঘুরপাক খায়। ‘শুনছো, ত্রিশ হাজার, মাত্র ত্রিশ হাজার টাকার ঋণ।’

স্ত্রীর কণ্ঠ অতিক্রম করে নৈঃশব্দের কণ্ঠ ফিসফিস করে: ‘শোনো, আলী হোসেনের মতো প্রাণীর জীবনের দাম এত নয়,

লাশের দামের তো প্রশ্নই আসে না। ত্রিশ হাজার টাকা খুবই বেশি। সেই টাকার বিনিময়ে ওরা যদি লাশ রেখে দিতে চায়, লাশটা তাদেরই দিয়ে দাও। পৃথিবীতে বাঁচার ঋণ শোধ হবে, মাটি দেবার খরচও বাঁচবে।’

আমি নৈঃশব্দের গালে চড় মারতে যাই। দেখি ঢাকা শহরের বিলাসী বিল্ডিংয়ে অপরাহ্নে একটা মশা উড়ে যাচ্ছে।

 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC