ঢাকা, শুক্রবার, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৬ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

লিন্ডাভিস্তা কলোনি || রোবের্তো বোলানিও

দিলওয়ার হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১০-১৪ ৫:৪৭:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১০-১৬ ৪:৫৬:৫৮ পিএম

|| ভাষান্তর : দিলওয়ার হাসান ||


১৯৬৮ সালে যখন আমরা প্রথম মেক্সিকোতে যাই আমার মায়ের এক বন্ধু প্রথম  ক’দিনের জন্যে বাসা ভাড়া নিয়ে দিয়েছিল। তারপর কলোনি লিন্দাভিস্তায় একটা ফ্ল্যাট ভাড়া করি। রাস্তাটার নাম ভুলে গেছি; কখনো-কখনো মনে হয়- আরোরা, হয়ত গুলিয়ে ফেলছি। আবার এটাও অসম্ভব মনে হয় যে, কাল্লি অরোরাতে ছিলাম, যদিও নামটা অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না: বেশ কিছু শহরে ও নামে রাস্তা আছে। কাল্লি অরোরা ব্লানেসে, তবে রাস্তাটার দৈর্ঘ্য বিশ গজের বেশি হবে না, রাস্তা না-বলে গলি বলাই ভালো। কলোনি লিন্ডাভিস্তাতে এ-রকম একটা রাস্তা ছিল, যদি ওটার নাম কাল্লি অরোরা হয়, ছিল সংকীর্ণ কিন্তু দীর্ঘ, চার ব্লক হবে। মেক্সিকোতে আমাদের দীর্ঘ অবস্থানের প্রথম বছর আমরা ওখানে থাকতাম।
যার ফ্ল্যাটটা ভাড়া নিয়েছিলাম তার নাম ছিল ইয়ুলালিয়া মার্টিনেজ। বিধবা। তার তিন মেয়ে এক ছেলে। সে ফ্ল্যাটের দোতলায় থাকত। তখন ওই ফ্ল্যাটটাকে আমার স্বাভাবিক বলেই মনে হতো; কিন্তু এখন ভাবলে মনে হয় ওটা ছিল অস্বাভাবিকতা আর গুরুতর কিছু ভুলে ভরা একটা জায়গা, কারণ তিনতলায় উঠতে হতো বাইরের একটা সিঁড়ি বেয়ে আর চার তলার জন্যে লাগত ধাতুর মই। দুটি তলার মধ্যেকার পার্থক্যও লক্ষ্য করার মতো। দোতলার সিলিং অনেক উঁচু- একটা মর্যাদা এর আছে, স্থাপত্যবিদের নকশা অনুযায়ী বানানো। যদিও দেখতে একটুখানি খারাপ।

ফ্ল্যাটের মালকিনের চার ছেলেমেয়ে। তাদের জন্যে পৃথক-পৃথক ফ্ল্যাট তৈরি করা আছে। বিয়ের পর তারা তাদের মায়ের কাছাকাছি থাকতে পারবে। আমরা যখন ওই বাড়িতে উঠেছিলাম আমাদের ঠিক ওপরে একটা মাত্র ফ্ল্যাট ছিল। ডোনা ইয়ুলালিয়ার তিন মেয়ের তখনো বিয়ে হয়নি, নিচ তলায় মায়ের সঙ্গে থাকত। ছেলে পেপে ছিল ও বাড়ির একমাত্র বিবাহিত লোক। স্ত্রী লুপিতাকে নিয়ে আমাদের ঠিক ওপরে থাকত। সেই সময় আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী।
ডোনা ইয়ুলালিয়া সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলতে পারব না। দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন এক নারী, খুবই সৌভাগ্যবতী; তবে খুব ভালো মানুষ না-ও হতে পারে। তার তিন মেয়েকে খুব বেশি একটা চিনতাম না। ওদেরকে খুব বেশি একটা দেখা যেত না, অন্তত আমি তো তাদের দেখতাম না খুব একটা। তারা নাটক টাটক দেখত আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্পগুজব করত, অন্যদের কুৎসা-নিন্দা গাইত। মুদি দোকানে যাওয়ার পথটাতেও দেখা যেত তাদের, যেখানে এক ইন্ডিয়ান মহিলা ওমলেট সহযোগে খাওয়ার জন্যে লেবু দিয়ে রান্না করা ভুট্টা বিক্রি করত।

পেপে আর তার বউ লুপিতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বভাবের। আমার এখন যা বয়স বাবা-মার বয়স তখন তার চেয়ে তিন-চার বছর কম ছিল। তারা এক কথায় সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারত। পেপের ব্যাপারে আমার আগ্রহ ছিল। পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা আমার বয়সী ছিল তারা সবাই তাকে ‘পাইলট’ বলে ডাকত, কারণ সে মেক্সিকো বিমান বাহিনীর বিমান চালাত। লুপিতা ছিল নিপাট গৃহবধূ। বিয়ের আগে সে সরকারি অফিসে সচিব কিংবা কেরানির কাজ করত। তারা দুইজন ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ আর অতিথিপরায়ণ অথবা ওরকমটা হওয়ার চেষ্টা করত। বাবা-মা মাঝেমধ্যে ওদের বাড়িতে যেত, গানটান শুনত কিংবা একটুখানি পানটান করত। বাবা-মা পেপে আর ওর বউয়ের চেয়ে বয়সে বড় ছিল; কিন্তু তারা ছিল চিলির লোক। সে সময় চিলির মানুষ নিজেদেরকে সবচেয়ে আধুনিক ভাবত, নিদেন পক্ষে লাতিন আমেরিকাতে। আমার পূর্বপুরুষদের তারুণ্যের উদ্দীপনা বয়সের ব্যবধান কমিয়ে আনত।

বারকয়েক আমিও ওদের ফ্ল্যাটে গেছি। ওদের লিভিংরুমটা তুলনামূলকভাবে আধুনিক। পেপের একটা টেপ রেকোর্ডার ছিল। সম্ভবত সাম্প্রতিক কালে কিনেছিল। ডাইনিংরুমের দেয়ালে পেপে, লুপিতা আর পেপে যে বিমানটা চালায় তার ছবি। ওটার ব্যাপারে আমার বেশ আগ্রহ ছিল; কিন্তু তার কাজের ব্যাপারে কিছু বলতে চাইত না পেপে, যেন সামরিক তথ্য সংরক্ষণে সদা সতর্ক। উত্তর আমেরিকার টিভিতে যাকে বলে শ্রেণীবদ্ধ তথ্য। মেক্সিকো বিমান বাহিনীর গোপন তথ্য প্রকাশ করার ব্যাপারে পেপের কিছু অতিরিক্ত দায়-দায়িত্ব বোধ ছিল বলে মনে হয়।
ডিনার টেবিলে শোনা কথাবার্তা বা এমনিতেই শুনতে পাওয়া আলাপচারিতা থেকে এই প্রতিবেশীদের জীবন কেমন ছিল সে সম্পর্কে আমার একটা ধারণা জন্মায়। ওদের বিয়ে হয়েছে পাঁচ বছর; কিন্তু এখনও ছেলেপুলে হয়নি। প্রায়ই তারা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে দৌঁড়ায়। তাদের মতে লুপিতা সন্তান ধারণে সম্পূর্ণ সক্ষম। পরীক্ষা নিরীক্ষায় দেখা গেছে পেপেরও কোনো সমস্যা নেই। ডাক্তাররা বলেছে, ওদের সমস্যা মানসিক। বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরও নাতি-নাতনির মুখ দেখতে না-পেয়ে পেপের মা উদ্বিগ্ন। লুপিতা একদিন আমার মায়ের কাছে স্বীকার করেছে যে, ওই বাড়ি আর মায়ের এত কাছে বসবাসই তাদের সন্তান না-হওয়ার কারণ। তারা যদি অন্য জায়গায় থাকত তাহলে লুপিতা এতদিনে অন্তঃস্বত্তা হতে পারত।
আমার মনে হয় লুপিতা ঠিকই বলেছে।
অন্য একটা ব্যাপার: পেপে আর লুপিতা খাটো। পেপের চেয়ে আমি লম্বা ছিলাম আর বয়স ছিল সতের। অনুমান করি পেপের উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চির বেশি হবে না, লুপিতা ফুট ২ হতে পারে। পেপে ছিল কালো, চুলগুলো ঘন কালো, চেহারায় চিন্তাশীলতা, যেন মনের ভেতর সব সময় কিছু একটা চলছে। বিমান বাহিনীর পোশাক পরে প্রতিদিন সকালে সে কাজে যেত। ছুটির দিনগুলো ছাড়া সে ধোপদুরস্ত পোশাক পরত। ছুটির দিনে পরত সুতির গেঞ্জি আর জিন্সের প্যান্ট। শেভ করত না।

লুপিতা ছিল ফরসা। সুন্দর কোকড়া চুল ছিল তার। চুল কোকড়া করেছিল হেয়ারড্রেসারের কাছে গিয়ে, নিজেও করত মাঝে মধ্যে নিজের সরঞ্জাম দিয়ে, পেপে আমেরিকা থেকে এনে দিয়েছিল। কাউকে হ্যালো বলার সময় হাসত। কখনো কখনো আমার ঘর থেকে তাদের সঙ্গমকালীন শব্দ পেতাম। এটা সেই সময়ের কথা যে সময় লেখালিখি বিষয়ে খুব সিরিয়াস ছিলাম। অনেক রাত অবধি জেগে থাকতাম। জীবন তখন খুবই নিরস লাগত। সত্যি কথা বলতে কী সবকিছু নিয়েই নিরাশ ও অসন্তুষ্ট ছিলাম। রাত দুটো-তিনটে পর্যন্ত লিখতাম। তখনই ওপর থেকে শিৎকার আর গোঙানির শব্দ ভেসে আসত হঠাৎ।
প্রথম-প্রথম সবকিছু স্বাভাবিক মনে হতো। ওরা যদি সন্তান আনতে চায় তাহলে তো যৌনসঙ্গম করতেই হবে। তখনই আমার মনে হতো এত রাত করে তারা কাজটা শুরু করে কেন? শিৎকারের আগে কোনো কথাবার্তার শব্দ কেন পাই না? বলা নিষ্প্রয়োজন যে, যৌনতা সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল খুবই সীমিত- যেটুকু জানতাম তার সবটাই ছিল সিনেমা দেখে আর পর্ণ ম্যাগাজিন পড়ে। তবে বুঝতে পারতাম ওপরের ঘরে অদ্ভুত কিছু একটা ঘটে চলেছে। পেপে আর লুপিতার যৌন জীবন সুন্দর করার কথা আমার কল্পনায় আসত, তা করতে চাইতাম অচিন্তনীয় কিছু ভঙ্গিমা আনার মাধ্যমে, যেন ধর্ষকামী কোনো দৃশ্যের অবতারণা হচ্ছে ওপরে যা দেখা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সেই কার্যকলাপ থেকে এমন কিছু ঘটছে না যা ব্যথা ও আনন্দ জাগাতে পারে; কিন্তু পেপে আর লুপিতা নিজেদের ভেতর যে নাটকীয় গতির সঞ্চার করছে, যা তাদেরকে ধীরে-ধীরে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তুলছে।
বাইরে থেকে এগুলো বোঝার উপায় ছিল না। আর সত্যি কথা বলতে কী শিগগিরই আমি আত্মতৃপ্ত উপসংহারে পৌঁছুতে সক্ষম হয়েছিলাম যে, কেউ ওগুলো খেয়াল করেনি। আমার মা যেকোনো ভাবেই হোক লুপিতার বন্ধু ছিল, মনে করত এখান থেকে অন্য কোথাও গেলে ওই দম্পতির সমস্যার সমাধান হবে। ওই ব্যাপারে আমার বাবার কোনো মতামত ছিল না। মেক্সিকোতে আমরা তখন নতুন এসেছিলাম বলে সব নতুন জিনিস গ্রহণে ব্যস্ত ছিলাম যা আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছিল আর প্রতিবেশীদের গোপন জীবন আমাদের হতবাক করে দিচ্ছিল। পেছন দিকে তাকালে এখন আমি বাবা-মা, বোন আর নিজেকে দেখতে পাই, আর দেখতে পাই সেই দলটাকে যা আমরা গড়ে তুলেছিলাম- প্রচণ্ডভাবে নিরানন্দ ছিল।

আমাদের বাড়ি থেকে ৬ ব্লক পরে খুব বড় একটা সুপারমার্কেট ছিল। প্রতি শনিবার আমরা সারা সপ্তাহের বাজার করতে ওখানে যেতাম। মনে আছে আমাকে ওপাস ডে’ই স্কুলে ভর্তি করা হয়েছিল। যদিও বাবা-মার সপক্ষে আমার উল্লেখ করা উচিত যে, ওপাস ডে’ইর কথা তারা জানতই না। আমার নিজেরই এক বছরের বেশি সময় লাগে এটা বুঝতে যে- কী নারকীয় আর নিষ্ঠুর জায়গা ছিল ওটা! নীতিকথার শিক্ষক ছিল স্বঘোষিত নাৎসি, বিরক্তিকর ব্যাপার। লোকটা ছিল ছোটখাটো একজন মানুষ, শরীরের গড়ন গ্রামের লোকদের মতো। বাড়ি ছিল শিয়াপাস। বৃত্তি নিয়ে পড়তে গিয়েছিল ইতালিতে- বেঁটে আর মোটাসোটা লোক। দুবার না ভেবেই সত্যিকার নাৎসিরা ওকে তাদের দলে নিত। সে হেসে আন্তোনিওর বীরোচিত সদিচ্ছায় আস্থাশীল ছিল। বহু বছর পরে স্পেনে হোসে আন্তোনিওর নামে প্রতিষ্ঠিত একটা অ্যাভিনিউতে বাস করার সুযোগ হয়েছিল আমার। কিন্তু, শুরুতে আমার বাবা-মার মতোই আমার ধারণা ছিল না ওই স্কুলে কী ঘটত।
পেপে আর লুপিতাই কেবল দুটি মানুষ যাদের বিষয়ে আমার আগ্রহ ছিল। আর পেপের এক বন্ধু। একমাত্র বন্ধু। সুন্দর কেশরাজির অধিকারী যুবক। সে যে বছর অ্যাকাডেমিতে ছিল, ওই বছর সে ওখানকার শ্রেষ্ঠ পাইলটের মর্যাদা লাভ করে। সে একটা বিমান চালনার সময় দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে আহত হয়, আর কোনো দিনও বিমান চালনা সম্ভব হয়নি তার দ্বারা। প্রায় প্রতি সপ্তাহতেই সে বন্ধুর বাড়িতে আসত। পেপের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেই সে ওর মা আর বোনেদের কাছে যেত, যারা ওকে খুবই পছন্দ করত। সাক্ষাৎ পর্ব শেষ করে সে পেপের ফ্ল্যাটে আসত, সময় কাটাত, পান করত, টিভি দেখত। লুপিতা তার জন্যে রান্নাবান্না করত। সপ্তাহের অন্য দিনও আসত সে। ইউনিফর্ম পরত, এখন সেই ইউনিফর্ম দেখতে অসুবিধা হয় আমার। ওই পোশাকের রং ছিল নীল, ভুলও হতে পারে, এখনও চোখ বুজলে স্মৃতিচিহ্নের মতো মানসপটে পেপে আর তার সেই সুদর্শন বন্ধুর চেহারা ভেসে ওঠে- তাদের পরনে সবুজ পোশাক, হালকা সবুজ- সাহসী দুই পাইলট; তাদের পাশেই লুপিতা, সে পরেছে সাদা ব্লাউজ আর নীল স্কার্ট।

পেপের ওই সুদর্শন বন্ধু রাতের খাবার খেয়ে তবে যেত। ওপরে যখন বাজনা শুরু হতো আমার বাবা-মা শুতে যেত। ও বাড়িতে তখন আমিই শুধু জেগে থাকতাম, কারণ সে-সময়ই আমার লেখালিখির কাজ শুরু হতো। ওই সঙ্গীতের সুর আমাকে সঙ্গ দিত। রাত দুটোর দিকে কথাবার্তা সব থেমে যেত, থেমে যেত সঙ্গীতের সুর, আর তখন বিরাজ করত এক অদ্ভুত নৈঃশব্দ। ওই নৈঃশব্দ গোটা বাড়িটাকে গ্রাস করে ফেলত: শুদু পেপেদের অ্যাপার্টমেন্টটাকেই নয়, ওর মা যে বাড়িতে থাকত আর আমাদের বাড়িটাকেও। তখন আমি কেবল বাতাসের শব্দ শুনতে পেতাম, মেক্সিকো সিটির রাতের বাতাস, আর সিঁড়িতে ওই সুদর্শন যুবকের পায়ের শব্দ শোনা যেত। নিচে নেমে যেত সে, সঙ্গে পেপের পায়ের আওয়াজ, সিঁড়িতে, নীচ তলায়। তারপর গেট খোলার শব্দ, পায়ের আওয়াজ মিলিয়ে যেত কাল্লি অরোরার রাস্তায়। তখন লেখা থামাতাম (কী লিখতাম মনে করতে পারব না, উদ্ভট একটা কিছু, সম্ভবত, তবে অনেক দীর্ঘ ছিল যা আমাকে নিবিষ্ট করে রাখত) আর শব্দ শুনতে চাইতাম যা পেপেদের বাড়ি থেকে ভেসে আসত না, যেন সুদর্শন যুবক চলে যাওয়ার পরও সবকিছু সেখানে আছে- সে রেখে গেছে, পেপে আর লুপিতাকে সহ যারা হঠাৎ করেই বরফের মতো জমে গেছে।

 

লেখক পরিচিতি:

চিলিতে জন্মগ্রহণকারী লাতিন আমেরিকার খ্যাতনামা লেখক রোবের্তো বোলানিও (১৯৫৩-২০০৩) বেশি পরিচিত তার গল্পগ্রন্থ ‘লাস্ট ইভনিংস অন আর্থ’, খুদে উপন্যাস ‘ডিসট্যান্ট স্টার’, ‘বাই নাইট ইন চিলি’ আর সর্বোপরি তার গুরুগম্ভীর, দুঃখদায়কভাবে ভরা অথচ হাস্যরসে মেশানো বিশাল উপন্যাস ‘দ্য স্যাভেজ ডিটেকটিভস’ আর অপর বৃহদাকার উপন্যাস ‘২৬৬৬’-এর জন্যে।
সমালোচকদের ভাষায় বোলানিও লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের টি.এস. এলিয়ট কিংবা ভার্জিনিয়া উলফে পরিণত হয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্মের লেখকদের ওপর তার প্রভাব প্রচণ্ড। এটা সম্ভব হয়েছে এক দিকে তার সাহসিকতাপূর্ণ ও মূল্যবান মতামত, অন্যদিকে তার রচনার ভিন্ন শৈলী আর অসাধারণ কল্পনাশক্তির কারণে। তিনি ছিলেন নীরব কবি, সরগরম গল্পকথক আর বোর্হেসের অতি জটিল ভাবনা চিন্তা আর বিটনিক যাযাবর প্রবৃত্তির যোগ্য উত্তরসূরী। জাদুবাস্তববাদীদের নিয়ম-নির্দেশনা ভেঙে দিয়ে নিজেই সৃষ্টি করেছিলেন এক স্বতন্ত্র শৈলী- প্রচণ্ড কল্পনাশক্তির বলে তরতাজা একটি সাহিত্যের দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন অকালপ্রয়াত এই লেখক। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ তাকে এই প্রজন্মের সবেচেয় গুরুত্বপূর্ণ লেখক বলে অভিহিত করেছে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ অক্টোবর ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC