ঢাকা, বুধবার, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ১৪ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

অনুবাদ ছাড়া বিশ্বসাহিত্য জানা অসম্ভব: বিতস্তা ঘোষাল

সাইফ বরকতুল্লাহ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-১১-০৮ ৬:২১:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-১১-০৮ ৬:৫৭:২৫ পিএম

বিতস্তা ঘোষাল লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২২। তার লেখা কবিতার অনুবাদ হয়েছে হিন্দি, ইংরেজি, ওড়িয়া ও মারাঠী ভাষায়। কলকাতা বাংলা একাদেমী সম্মান ও একান্তর কথাসাহিত্যিক পুরস্কারপ্রাপ্ত এই লেখিকা সম্প্রতি রিকশার উৎস সন্ধানে বই লিখেছেন। এসব নিয়েই সম্প্রতি তার মুখোমুখি হয়েছিলেন তরুণ কথাসাহিত্যিক সাইফ বরকতুল্লাহ

সাইফ: ‘অনুবাদ’ পত্রিকার সঙ্গে কীভাবে জড়ালেন? কতদিন ধরে যুক্ত আছেন?
বিতস্তা ঘোষাল : আমার বাবা শ্রী বৈশম্পায়ন ঘোষাল ২৩ বছর বয়সে ভারত দর্শনে বেরিয়েছিলেন পরিব্রাজক হয়ে। সেই সময় কেরালার এক প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলাকে, যাকে দেখে নেহায়েতই কাঠুরে রমণী মনে হয়েছিল, তার কাছে একটি স্থানীয় ইংরেজি স্কুলের ঠিকানা জানতে চান। তিনি ইশারায় ঠিকানাটা বুঝিয়ে দেন। তারপরে সেই স্কুলে পৌঁছে দেখেন সেই কাঠুরে মহিলা  সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি বাবাকে বলেছিলেন, শুধু ইংরেজি পড়তে বা লিখতে জানলেই বিশ্ব জানা যায় না। তারপর তিনি দুই বাংলার অনেক সাহিত্যিকদের লেখার কথা বলে জানতে চান- বাবা দক্ষিণের কোন কোন সাহিত্যিকদের লেখা পড়েছেন বা তাদের নাম জানেন। বাবা লজ্জায় মাথা নিচু করেছিলেন সেদিন। তারপর যখন ভারত ভ্রমণ শেষ করে বাড়ি ফিরলেন তখন সিদ্ধান্ত নিলেন বিশ্বসাহিত্য ও দেশীয় সাহিত্যকে বাঙালি পাঠকের কাছে তুলে ধরবেন অনুবাদের মাধ্যমে। এই চিন্তা থেকেই তৈরি হল সম্পূর্ণ  অনুবাদ সাহিত্যের একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘অনুবাদ’। ১৯৭৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পত্রিকাটির উদ্বোধন করেন শ্রী অন্নদাশংকর রায়। বাবা ১৯৯০ সাল থেকে নিজেকে বাইরের জগত থেকে আধ্যাত্মিক জগতে মনোযোগী হন। আমি তখন ১৫ বছরের কিশোরী। সেভাবে এটা নিয়ে জানতাম না। তারপর স্কুল, কলেজ ইউনিভার্সিটি শেষ করে কলেজে পড়াতে শুরু করলাম। সালটা ২০০৪। সেই সময় একদিন কলেজস্ট্রিট গিয়ে মনে হলো বাবার অফিসে যাই। ছোটবেলায় যেতাম, সেই স্মৃতিটা ছিল। গিয়ে দেখলাম অফিস বন্ধ। অথচ বাবা জানেন পত্রিকা বেরুচ্ছে। আবার একদিন গেলাম। সেদিন দেখলাম বাবার রক্তজল করা পরিশ্রমে তৈরি ‘অনুবাদ’ পত্রিকা অযত্নে পরে রয়েছে ঘরের ভেতর। বেরুচ্ছে, কিন্তু বাইরে আর তার কোনো অস্তিত্ব নেই। কারণ কোথাও সেটা পাওয়া যাচ্ছে না। ভীষণ মন খারাপ হলো। ফিরে এসে ঠিক করলাম এবার থেকে আমি পত্রিকার দায়িত্ব নেব। সেই অফিস যাওয়া শুরু করলাম। তারপর চাকরি ছেড়ে ২০০৯ থেকে পুরোদমে পত্রিকা ও প্রকাশনায় যুক্ত হয়ে গেলাম।     

সাইফ : অনুবাদের কাজ ‍শুরু করলেন কীভাবে? এ বিষয়ে আপনার ভাবনা জানতে চাচ্ছি।
বিতস্তা ঘোষাল : কোনোদিন ভাবিনি অনুবাদক হবো। কাজেই প্রস্তুতিও ছিল না। পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যখন বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করলাম তখন কোনো কোনো লেখকের লেখা এতটাই ভালো লেগে গেল যে অনুবাদ করতে শুরু করলাম। সেটা ক্লিক করে গেল। তবে আমি খুব বেশি অনুবাদ করি না। ততটাই করি যতটা আমার ভালো লাগে বা যেগুলোর সঙ্গে আমি নিজেকে একাত্ম অনুভব করি।

সাইফ : অনুবাদ তো ভাবের সঙ্গেও যুক্ত, কেবল ভাষার পরিবর্তন নয়। সেক্ষেত্রে ভাবের অনুবাদ একটা মৌলিক সমস্যা। আপনি এই সমস্যা দূর করতে কী করেন?
বিতস্তা ঘোষাল : ঠিক কথা। অনুবাদ মৌলিক সাহিত্য নয়। কিন্তু পাশাপাশি এটা সত্য যে, নিছক ভাষাটা জানলেই অনুবাদ করা যায় না। তার জন্য চাই মূল লেখকের সমতুল্য মেধা, প্রকাশভঙ্গি ও দর্শন। তবেই অনুবাদ সফল হয়। কাজেই মৌলিক না হলেও অনুবাদকের ভূমিকা এখানে মূল লেখকের সমকক্ষ। এটা যেন দুই পাথরের সংযোগের মত, পরস্পরের ঘর্ষণেই আগুন জ্বলে। একটা ভিজে থাকলে বা দুর্বল হলে অন্যটা যতই শক্তিশালী হোক না কেন মূল্যহীন।

সাইফ : আপনার কি মনে হয় যে, অনুবাদের সাফল্যের জন্য একজন লেখককে নির্বাচন করা ঠিক কিংবা ভালো অনুবাদের জন্য এটা একটা দিক?
বিতস্তা ঘোষাল : না, আমার এমন কিছু মনে হয় না। আমি যেটা আমার প্রাণ ছুঁয়ে যায় তেমন লেখাই কেবল অনুবাদ করি। যেমন যখন পাঞ্জাবি লেখক কর্তার সিং দুজ্ঞল নিয়ে কাজ করেছি তখন তারগুলোই করলাম। আবার মালয়লম লেখিকা কমলা দাস নিয়ে যখন কাজ করলাম তখন শুধু তারই করলাম। বব ডিলানের ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু একবার সেগুলো নিয়ে কাজ হয়ে গেলে আমি আর তাদের লেখার অনুবাদ করতে চাই না। তার একটা কারণ আমি নিজে যেহেতু মৌলিক লেখা বেশি পছন্দ করি, বা বেশি লিখি তাই দেখেছি বেশি অনুবাদ নিজের লেখাকে প্রভাবিত করে।   

সাইফ : অনুবাদ করতে গিয়ে অনুবাদক একটি সাহিত্য জানছেন। তার সঙ্গে একটি ভাষা, দেশ, সংস্কৃতি, লেখক সম্পর্কে জানছেন। এক্ষেত্রে অনুবাদকের তৃপ্তিটা আসলে কোথায়, সাহিত্য অনুবাদে, না ওই দেশ সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীরভাবে জানায়?
বিতস্তা ঘোষাল : এটা একেক জনের কাছে একেক রকম। আমি সাহিত্যর পাশাপাশি দেশ সংস্কৃতি সবটা দেখার আকর্ষণ অনুভব করি। কারণ আমি বিশ্বাস করি সাহিত্য হচ্ছে একটা সমাজের দর্পণ। 

সাইফ : প্রায়ই শোনা যায় অনুবাদ কোনো সাহিত্য নয়। আবার ভালো অনুবাদ পাওয়া যায় না। তাহলে অনুবাদকে সাহিত্য হয়ে ওঠার অন্তরায় কোথায়?
বিতস্তা ঘোষাল : এ বিষয়ে নানা মত আছে। আমি বিশ্বাস করি অনুবাদ একটা মহৎ প্রচেষ্টা। আর অনুবাদ ছাড়া পৃথিবীর সব সাহিত্য বা সংস্কৃতি জানা সম্ভব নয়।

সাইফ : বাংলা ভাষাভাষী লেখক, পাঠকের কাছে অনুবাদ সাহিত্য জনপ্রিয় হচ্ছে। আমরা বিদেশি অনেক জনপ্রিয় লেখকের বই ঢাকা ও কলকাতায় পাচ্ছি। আমাদের বাংলা ভাষাও কিন্তু ব্যাপকভাবে বিদেশে ছড়িয়ে দেয়া দরকার। এক্ষেত্রে অনুবাদের একটা ভূমিকা আছে। এ নিয়ে কোনো কাজ করছেন কি না?
বিতস্তা ঘোষাল :  বিষয়টি নিয়ে আমিও চিন্তিত। যে পরিমাণ লেখা আমরা অনুবাদ করছি সেই পরিমাণ বাংলা লেখা অনুবাদ হচ্ছে না। আমার ধারণা বাঙালি একটু উন্নাসিকতায় ভোগে। অন্যের সাহিত্য অনুবাদ করে যতটা আনন্দ পায় নিজের ভাষার কোনো লেখাকে অন্য ভাষায় রূপ দেওয়ার সময় একটা কোনো সংশয়ে ভোগে। কিন্তু কাজটা হওয়া দরকার। আমি নিজের লেখা অন্য ভাষায় এমনকি ইংরেজিতে অনুবাদ করাতে গিয়েই নানা সমস্যায় পড়েছি। তবু কিছু মানুষ নিশ্চয়ই অনুবাদ করছেন। তবে সংখ্যাটা এতটাই কম যে চোখে পরে না।

সাইফ : আপনি বিশ্বসাহিত্য নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। বিশ্বসাহিত্যের অনেক জনপ্রিয় ও শীর্ষস্থানীয় লেখকের সঙ্গে মিশেছেন। আপনার কাজ আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
বিতস্তা ঘোষাল : এই রে! নিজের কাজের মূল্যায়ন নিজে কীভাবে করব? সেটা তো পাঠক আর প্রকাশকরা কিংবা আর একটু মজা করে বলি, পুরস্কারদাতাদের হাতে। তারা সকলে যদি মনে করেন বিতস্তার এই কাজটা এই লেখাটা ভালো- তবেই আমার তৃপ্তি।

সাইফ : আপনি বিভিন্ন দেশের সাহিত্যের অনুবাদ করছেন, খোঁজখবর রাখছেন। বিদেশি সাহিত্যের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের কোনো পার্থক্য খুঁজে পান?
বিতস্তা ঘোষাল :  অনেক। বিশ্বসাহিত্য আজ যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে বা ভাবছে সেগুলো বাংলা সাহিত্যে আজ থেকে বহু বছর আগেই উঠে এসেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার আমাদের কাজগুলো অনুবাদ না হওয়ায় বিশ্ব সেগুলো সম্পর্কে অন্ধকারেই রয়ে গেছে। আর এখন বাংলা সাহিত্য আমার মতে একটা স্টাগনেন্ট স্তরে আটকে আছে। অনেক বিখ্যাত সাহিত্যিক বিদেশি গল্পকে নিজের বলে চালাতে গিয়ে ঠিকমত প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। আর একটা বিষয় হলো পড়ার ব্যাপ্তি কমছে। তাই সাহিত্যেও একটা অপূর্ণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এটা নিশ্চয়ই সাময়িক সমস্যা। দ্রুত বাংলা সাহিত্য আবার কালজয়ী হবে এই বিশ্বাস আমার আছে।

সাইফ : বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক বিপ্লব ঘটে গেছে। দেখা যাচ্ছে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা করছেন। সেখানে কিন্তু বাংলা সাহিত্যের একটা উন্মেষ হচ্ছে। এ বিষয়টা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
বিতস্তা ঘোষাল :  এটার ভালেঅ-মন্দ দুটো দিক আছে। একদিকে বহু মানুষ দ্রুত পড়ে ফেলছে লেখা এগুলোর মাধ্যমে। ফলে অনেকেই এখন লিখছেন বা লেখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অভিজ্ঞতায় দেখেছি এগুলোর আয়ু কম। তবে বাংলা সাহিত্যের প্রসার যদি এভাবে হয় হোক। আর কিছু না হোক বাংলা ভাষাটার বিস্তার তো হচ্ছেই। সেটাই বা এই সময়ে যখন ইংরেজি ভাষা ছাড়া মাতৃভাষাকে অস্বীকার করার একটা প্রবণতা তীব্র হচ্ছে, তখন কম কী!

সাইফ : বৈশম্পায়ন ঘোষাল এর সঙ্গে কাজের কোনো স্মৃতি ?
বিতস্তা ঘোষাল :  আমি যখন পত্রিকা বা লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হই বাবা তখন পুরো আধ্যাত্মিক সাধনায় মগ্ন। এসব বিষয় নিয়ে তার কোনো উৎসাহ ছিল না। কিন্তু আমার পত্রিকা বা লেখা বা বই প্রকাশিত হলে সবার প্রথম তাকে দিয়ে আসতাম। উনি একনজর দেখে বলতেন, আরো পড়তে হবে, আরো নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হবে। নইলে একটা কিছুও কেউ মনে রাখবে না। এটা আমার জীবনে একটা বিশাল প্রাপ্তি। আমি চেষ্টা করি যতটা সম্ভব যেকোনো লেখার চরিত্রগুলোর মধ্যে ঢুকে যেতে। যাতে সকলে সেটার সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করতে পারে, নিদেনপক্ষে ভাবতে পারে।

সাইফ : আপনি একাধারে গল্প, কবিতা, সম্পাদনা, প্রকাশনা-অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা মনে হয়?
বিতস্তা ঘোষাল : না, আমি আসলে ভীষণ কাজ আর বইপাগল মানুষ। আর যেহেতু এগুলো সবগুলোই পড়া আর লেখা সংক্রান্ত তাই আমি খুব মজা পাই এগুলো সামলাতে। আসলে আমি জানি এগুলোর বাইরে আমি সব কাজের অনুপযুক্ত। কাজেই এগুলো আমার অক্সিজেন।

সাইফ : ‘নোনা বালি’ গল্পের ছন্দা কিংবা, ‘উচ্চতা’ গল্পের বিয়াসের চরিত্রটা যদি দেখি, দেখা যায় একদম মধ্যবিত্ত কিংবা সমাজের চারপাশের চিত্রই যেন বোঝা যায়, বলা যায় আপনার গল্পগুলোতো জীবনেরই আখ্যান তুলে ধরেন।
বিতস্তা ঘোষাল :  একদম। আমি আমার চারপাশে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো নিয়ে লিখতেই স্বচ্ছন্দ্যবোধ করি। আসলে মাটির কাছাকাছি থাকা চরিত্রগুলো আমাকে খুব নাড়া দেয়। সেগুলোই তাই আমার লেখার বিষয়।

সাইফ : আপনার কবিতায় যদি দেখি একদম সাধারণ জীবনযাপনের একটা প্রভাব, যেমন আপনি লিখেছেন ‘বৃষ্টি হতে চাই’-কবিতায়, রাস্তা জুড়ে গাড়ির মিছিল/থমকে আছে সিগন্যাল/ভিজে গায়ে সেই মেয়েটা।’ আপনার লেখালেখির বিষয়বস্তু সাধারণ হলেও চারপাশে কিন্তু এরকমই ঘটছে, আপনার ভাবনা কী?
বিতস্তা ঘোষাল :  দেখার জগতের বাইরে যে লেখা তৈরি হয় আমি সেই মাপের বা উচ্চতার লেখক নই। ফলে চারপাশের দৃশ্যমান জগত নিয়েই লিখি। তা গল্প উপন্যাস বা কবিতা যাই হোক না কেন।

সাইফ: সম্প্রতি আপনি রিকশা নিয়ে সনাতনী রিকশার উৎস সন্ধানে বলে একটা বই লিখেছেন। এটা কীভাবে লিখলেন।
বিতস্তা ঘোষাল :  এই লেখাটা আসলে ঠিক লেখা নয়। এটা একটা গবেষণা। আমি বিশ্বের রিকশা, তার ইতিহাস, ভূগোল, সামাজিক অর্থনৈতিক সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এতে। একটা প্রধান সমস্যা ছিল, এটা নিয়ে কোনো বই ছিল না, যা আমি রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগাতে পারি। তবে শেষঅবধি কাজটা করেছি। আশা রাখি ভবিষ্যতে কেউ এই বিষয় নিয়ে কাজ করতে চাইলে তাকে আর এমন পাগলের মত পরিশ্রম করতে হবে না।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ নভেম্বর ২০১৮/তারা

Walton Laptop
 
     
Marcel