ঢাকা, সোমবার, ৯ বৈশাখ ১৪২৬, ২২ এপ্রিল ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘আন্তর্জাতিক রাইট এজেন্টদের জন্য প্যাভেলিয়ন দরকার’

স্বরলিপি : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০১-২৯ ৪:৩৬:৩৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০২-১৯ ১:৪২:০৫ পিএম

কামরুল হাসান শায়ক দেশের আধুনিক প্রকাশনা শিল্পের অন্যতম ব্যক্তিত্ব। প্রকাশনা শিল্প এগিয়ে নিতে, বাংলা বই বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন। প্রকাশনা নিয়ে রয়েছে তার ব্যতিক্রম যুগ-উপযোগী ভাবনা। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহ-সভাপতি হিসেবেও তার রয়েছে সফল ভূমিকা। একুশে গ্রন্থমেলা সামনে রেখে তার এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ হলো। কথোপকথনে ছিলেন স্বরলিপি।

স্বরলিপি: আপনি দীর্ঘদিন প্রকাশনা পেশার সঙ্গে যুক্ত। দুয়ারে একুশে গ্রন্থমেলা। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এই গ্রন্থমেলায় প্রকাশকদের কতটুকু ভূমিকা থাকে?
কামরুল হাসান শায়ক:
পরপর আমি তিনবছর সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক ছিলাম। এখন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বাংলা একাডেমি দুটি প্রকাশনা সমিতিকে সঙ্গে নিয়ে; তাদের সহযোগিতায় বইমেলার আয়োজন করে। আমরা যারা প্রকাশক আছি, আমরা বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের চিন্তা-ভাবনাগুলো বিনিময় করি। উভয়ের চিন্তা-ভাবনা সমন্বয় করে প্রত্যেক ক্ষেত্রে ঐক্যমতে পৌঁছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বিশেষ করে মেলা কমিটি হয়, এই কমিটিতে আমরা যারা থাকি, সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, প্রতিবছরই মেলা সমৃদ্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন প্রাণের এই মেলাকে সমৃদ্ধ জায়গায় পৌঁছে দিতে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি, তিনি অনেকটাই সফল। বর্তমানে ডিজি মহোদয়; কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজীও আমাদের খুব কাছের মানুষ। প্রকাশকদের অভাব-অভিযোগের বিষয়গুলো তিনি কিন্তু  আমাদের কাতারে থেকে দীর্ঘসময় শুনেছেন। এখন তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে পুরো বিষয়টি তার জানা। তবে তিনি মাত্র দায়িত্ব নিয়েছেন; তারপরও আমরা মনে করি, গত বছরের চেয়ে এবার মেলা আরও সমৃদ্ধ হবে। মূল কারণ হচ্ছে, এবার তিনি যে কাজটি করেছেন মেলার লে-আউট স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝরকে দিয়ে করিয়েছেন। এবারের বইমেলায় স্টল বিন্যাসের জায়গায় যথেষ্ট পরিবর্তন দেখা যাবে। এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে, যেন পাঠক মেলাজুড়ে বিচরণ করতে পারেন।

স্বরলিপি: বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালকের কাছে  প্রকাশক হিসেবে আপনার প্রত্যাশা কী?
কামরুল হাসান শায়ক :
নতুন মহাপরিচালকের কাছে নতুন নতুন চিন্তা, পলিসি এগুলো আশা করবো। আজকে বইমেলা বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণ ভেঙে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসেছে। এটা যেমন একটা অর্জন, তেমনি এর প্রয়োজনও ছিল। একইভাবে আমি বলবো, ভাষা আন্দোলনের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বইমেলা বাঙালি জাতিসত্তার একটি সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব। মহীরূহে পরিণত হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এই মেলার চেতনাবোধ এখন মনে হয় সময় এসেছে জাতীয় পর্যায় থেকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়ার। এবং ছড়িয়ে দিতে হলে আমি যেটা মনে করি, আমার জায়গা থেকে একটি চমৎকার আইডিয়া ভাবছি- আমাদের বাংলা একাডেমিতে অনুবাদের একটা শাখা করতে হবে। পাশাপাশি ভাষা ইনস্টিটিউটেও অনুবাদের ওপর শাখা থাকতে পারে। এই ক্ষেত্রটার ওপর আমাদের জোড় দিতে হবে। আমরা যদি বাংলা সাহিত্যকে অনুবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষায় রূপান্তর করতে পারি, আমরা যদি রাইটার এজেন্সির মাধ্যমে পৃথিবীতে মার্কেটিং নেটওয়ার্কগুলোকে কাজে লাগিয়ে বাংলা সাহিত্যকে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে খুব ভালো হবে। পাশাপাশি একুশের বইমেলায় সাতদিনের বা দশদিনের মাঝামাঝি; ধরা যাক, ফেব্রুয়ারির দশ তারিখ থেকে বিশ তারিখ, পৃথিবীর রাইট এজেন্টদের জন্য বিশেষ একটা আয়োজন রাখতে হবে। এখানে যে রাইট এজেন্সিগুলো আসবে অর্থাৎ আমরা যদি তাদের সঠিকভাবে অর্গানাইজ করতে পারি, বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এদের যদি আনতে পারি, আমাদের বইগুলোর রাইট কিনতে যদি তারা সম্মত হয় তাহলে খুব ভালো হবে। এই রাইট এজেন্সিগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে বইগুলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে পারে। আমি আশা করি, নতুন মহাপরিচালক এই কাজটি করবেন। আমার এই চিন্তা ইতিমধ্যেই তার সঙ্গে শেয়ার করেছি। তিনি এই বিষয়ে আরও আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছেন।  বাংলাদেশের লেখক, বাংলা ভাষা, বাংলা সাহিত্যকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচয় করিয়ে দিতে পারি এই উদ্যোগের মাধ্যমে। বিষয়টি যদি আমরা একুশে গ্রন্থমেলার সঙ্গে যুক্ত করতে পরি তাহলে এটি আমাদের অনেক বড় একটি অর্জন হতে পারে। এগুলো সময়ের দাবি। দাবি পূরণে আমাদের কাউকে না কাউকে উদ্যোগ নিতে হয়, হবে। দাবি পাশ কাটিয়ে গেলে আমরা পিছিয়ে পড়বো।

স্বরলিপি: আপনারা মানে প্রকাশকরা কেন একুশে গ্রন্থমেলার দায়িত্ব সরাসরি নিচ্ছেন না? আপনাদের আয়োজনেও তো বৃহৎ পরিসরে বইমেলা হতে পারে।
কামরুল হাসান শায়ক :
বৃহৎ পরিসরে বইমেলা আয়োজন করার জন্য অনেকবার আমরা আগ্রহ প্রকাশ করেছি, প্রস্তাব দিয়েছি; এটা সময়সাপেক্ষ। আমরা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে প্রস্তাব দিয়ে আসছি। অন্যদিক বাংলা একাডেমি দীর্ঘদিন ধরে মেলার আয়োজন করে আসছে। আমাদের বুদ্ধিজীবী মহলের অনেকেই যেমন- আনিসুজ্জামান স্যারও বলেছেন, এই মেলাটি এখন প্রকাশকদের ছেড়ে দিলে সবচেয়ে ভালো হয়। পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় বইমেলা কিন্তু প্রকাশকরাই অর্গানাইজ করে। আমাদের যদি একুশে গ্রন্থমেলার দায়িত্ব দেয়া হয়, আমরা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছি। সানন্দে প্রস্তুত আমরা।

স্বরলিপি: আপনারা আন্তর্জাতিক বইমেলা করতে চেয়েছিলেন সেটা পরে আর হলো না কেন?
কামরুল হাসান শায়ক :
আন্তর্জাতিক বইমেলা আমরা করতে চেয়েছিলাম এবং করতে গিয়ে যেটা হয়েছে- বেসরকারি যে সংস্থাগুলো এই বইমেলা করতে চায়, সেটা করতে হলে লজিস্টিক সাপোর্টগুলো খুব প্রয়োজন। আপনি জানেন যে, মোস্তাফা জব্বারকে আহ্বায়ক এবং আমাকে সদস্য সচিব করে ‘আন্তর্জাতিক বইমেলা উদযাপন কমিটি’ করা হয়েছিল। আমরা অনেক দূর কাজটি এগিয়েছিলাম। সেসময় গ্রন্থকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত যারা ছিলেন তাদের কাছে আমরা সহযোগিতা চেয়েছিলাম। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি কিন্তু দেখা গেল পরবর্তীতে এই মেলার সবকিছুর কর্তৃত্ব তারা নিতে চেয়েছিলেন। আমরা পৃথিবীজুড়ে নেটওয়ার্কিং করবো, পাবলিশার গিল্ডকে যুক্ত করবো, এশিয়া প্যাসিফিক পাবলিশারের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং করবো; শুধু তাই নয়, একটি আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন করার সমস্ত কিছু আমরা করবো অথচ সবকিছুর দাবিদার তারা হবেন- এটা কীভাবে হতে পারে?

স্বরলিপি:  শুধু দাবিদার হওয়াকে কেন্দ্র করে এতো বড় একটি আয়োজন ভেস্তে গেল!
কামরুল হাসান শায়ক :
অন্তর্নিহিত কারণ কিন্তু এটাই। যখন আমরা দেখলাম সবকিছু শেষ মুহূর্তে তারাই করতে চান, তখন আমরা তাদের হাতে সব ছেড়ে দেই। ছেড়ে দেয়ার পর সেটা আর এগোয়নি। আমি বলছি যে, আমাদের হাতে যে দায়িত্ব ছিলো আমরা অনেকদূর এগিয়েছিলাম। যোগাযোগে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়েছিলাম। এরপর মন্ত্রণালয়ে যখন আমরা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে পুরো বিষয়টি উপস্থাপন করলাম, সবাই খুব উৎসাহিত হলো। কিন্তু দেখা গেল যে, গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক এবং সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে সেই সময়ে যারা ছিলেন তারা বিষয়টিকে টেকওভার করতে চাইছেন। এরপর আমরা দায়িত্ব হ্যান্ডওভার করেছি।

স্বরলিপি:  পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. দেশের স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। আপনাদের বিভিন্ন সিরিজ আছে- রম্য সিরিজ, কমিক সিরিজ, কিশোর ক্লাসিকস, গ্রাফিক নভেলও আপনারা করেছেন। সে তুলনায় সাহিত্যের মূল যে জায়গা- গল্প, উপন্যাস, কবিতা একটু কম মনে হয়। এটা কেন?
কামরুল হাসান শায়ক :
  না ,না, আমাদের তো প্রচুর গল্প, উপন্যাস ও কবিতার বই রয়েছে। আমরা আমাদের পরিকল্পনামাফিক বইগুলো প্রকাশ করছি। ২০০০ সাল থেকে আমরা যখন সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শুরু করি, তখন থেকেই রিসার্স ওয়ার্ক আমরা করে আসছি। সেটা হচ্ছে, আমরা চিন্তা করেছি পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স-এর একটা পাঠক শ্রেণি তৈরি করব। সেই পাঠক শ্রেণি হবে শিশুকাল থেকে শুরু করে কিশোরকাল, তারপর সে বড় হবে। আমরা এজন্যই শুরু করেছিলাম শিশুদের বই দিয়ে। তারপর কিশোরদের বই প্রকাশ করেছি। গত চার-পাঁচ বছর ধরে পুরোদমে বড়দের বই প্রকাশ করছি। এর অর্থ আমি আমার পাঠক শ্রেণি সেইভাবে তৈরি করেছি। এই পাঠকশ্রেণি পাঞ্জেরী থেকে যে কোনো বই সংগ্রহ করবে আস্থার সঙ্গে। তাদের আস্থার জায়গা তৈরি করেছি আমরা। পাঞ্জেরী অনেক চিন্তা-ভাবনা করে বই প্রকাশ করে। এ কারণে আমাদেরও আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। আমরা কখনও চিন্তা করি না- পাঞ্জেরীর স্টল কোথায় পড়লো? আমরা দেখেছি, যে কোনো জায়গায় আমাদের স্টল পড়ুক না কেন, পাঠক মেলায় ঢুকে খোঁজ করে। পুস্তক কেন্দ্রের কর্মকর্তারা যারা থাকেন, তারা আমাকে জানিয়েছেন, তথ্যকেন্দ্রের সর্বোচ্চ তথ্য দিতে হয় যে, পাঞ্জেরীর প্যাভেলিয়নটা কোথায়? আমাদের পাঠক কিন্তু নির্দিষ্ট কিন্তু পাঞ্জেরীর পাঠক কোনো নির্দিষ্ট লেখকের পাঠক নয়। আমরা ব্র্যান্ডিং করেছি পাঞ্জেরীর। 

স্বরলিপি :  বইমেলা নিয়ে নিশ্চিতভাবেই আপনাদের পরিকল্পনা থাকে। এবার মেলায় আপনাদের প্রকাশনা থেকে কী ধরনের বই প্রকাশ হবে?
কামরুল হাসান শায়ক : 
ব্যতিক্রম বইগুলো নিয়ে বলি। আমরা স্যার জগদীশচন্দ্র বসুকে বিজ্ঞানী হিসেবে জানি। তিনি যে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সায়েন্স ফিকশন লেখক এটা কি আমরা জানি? আমরা তার লেখা সায়েন্স ফিকশন নিয়ে পাঠকের সামনে হাজির হবো। বইটির নাম ‘পলাতক তুফান’। দ্বিতীয় চমক হচ্ছে, আমরা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহকে ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে জানি। তিনি যে চমৎকার গল্প লিখতেন সেটা আমরা জানতাম না। তার ছেলে মুর্তজা বশীরের সহযোগিতায় আমরা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র সেরা গল্পগুলো পেয়েছি। বইটির ভূমিকা লিখেছেন মুর্তজা বশীর। আমরা সম্প্রতি লক্ষ্য করেছি, গ্রাফিক নভেল বা কমিক বুকস বেশ আলোচিত হয়েছে। যেমন শাহরিয়ারের ‘বেসিক আলী’। পাশাপাশি আর একটি বিষয় আমরা লক্ষ্য করেছি, একুশে গ্রন্থমেলায় ভূতের বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ থাকে। এই আগ্রহকে পুঁজি করে অনেকে ভূতের গল্প, উপন্যাস লিখছেন বা লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। অনেকে ভালোও লিখছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে সেগুলো আদৌ গল্প হয়ে উঠছে না। ওই ধারার একটা বিরুদ্ধস্রোত হিসেবে আমি একটি মডেল উপস্থাপন করতে চাই। পাঞ্জেরী এবার পাঠকের সামনে উপস্থাপন করবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্লাসিক ভূতের গল্প। আমরা বইটির নাম দিয়েছি ‘শ্রেষ্ঠ অতিপ্রাকৃত গল্প: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূতের গল্পও এবার পাঞ্জেরীর পাঠক পাবেন। এটির নাম দিয়েছি ‘শ্রেষ্ঠ অতিপ্রাকৃত গল্প: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়’। এই গল্পগুলো পাঠকের হাতে গেলে তারা তুলনা করতে পারবেন, ভূতের গল্প কেমন হওয়া উচিত। তারা এখান থেকে ভূতের কালজয়ীগল্পগুলো কেমন হয় ধারণা পাবেন। এবং আমাদের লেখকদের জন্যও একটা ভয় তৈরি হবে যে- ফাঁকিবাজী, উদ্ভট কিছু লেখা যাবে না।

স্বরলিপি :  প্রকাশনা এদেশে এখনও শিল্প হিসেবে দাঁড়াতে পেরেছে- আপনি কী মনে করেন?
কামরুল হাসান শায়ক :
  আমি মনে করি, প্রকাশনা এখন অবশ্যই শিল্পের জায়গায় পৌঁছে গেছে। এক সময় এটা শিল্পের জায়গায় ছিলো না। বাংলাদেশের প্রকাশনা ছিলো শপকিপিংয়ের জায়গার মতো। একটি দোকানে বসে প্রকাশক পাণ্ডুলিপি আনতো। সে কম্পিউটার কম্পোজ করতো, অন্য  কোথাও পেস্টিং করতো, ছাপাতো আরেক প্রকাশনী থেকে। এরপর বাইন্ডিং করতো আরেক কারখানায়। সেই জায়গায় কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি নেই। বইয়ের দু’টো চরিত্র। একটি হলো- সে শিল্প, আরেকটি হলো সে পণ্য। পণ্যের জায়গা থেকে যখনই কোনো কিছুকে শিল্প ঘোষণা করা হয়, তখন যিনি উৎপাদন করেন তার এ টু জেড সব থাকতে হয়। এখন কিন্তু অনেক প্রকাশনীরই আউটসোর্সিং করতে হয় না। তারা উৎপাদনের জায়গায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফলে এই অবস্থায় বলা যায়- আমরা শিল্পের জায়গায় পৌঁছে গেছি। প্রকাশনাকে এখন শিল্প ঘোষণা অবশ্যই করা যায়।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ জানুয়ারি ২০১৯/তারা

Walton Laptop
     
Walton AC
Marcel Fridge