ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ বৈশাখ ১৪২৪, ২৮ এপ্রিল ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

নাব্যতা সংকটে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী

একে আজাদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৩-১৭ ৪:৩৬:০০ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৩-৩১ ১০:৪৫:১৩ এএম
সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর গ্রোয়েন বাঁধ এলাকার চিত্র

এ কে  আজাদ, বগুড়া :  নদ-নদীর নাব্যতা সংকটে উত্তরাঞ্চলে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।  এখন মাইলের পর মাইল অসংখ্য বালুচর।

ফলে মালপত্র পরিবহনে ভোগান্তিতে পড়ছে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া বেকার হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের শত শত  জেলে ও মাঝি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলের খরস্রোত ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা এখন শুকিয়ে মৃতপ্রায়। এ দুটি নদীর পানি বর্তমানে সর্বনিন্ম স্তরে নেমে এসেছে।

নদীগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য চর। ফলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার প্রায় ২০টি নৌঘাট এখন বন্ধ। বালাসীঘাটের প্রবেশপথ ব্রহ্মপুত্র নদের কালাসোনা টার্নিং পয়েন্ট নৌ চ্যানেল ভরাট হয়ে পড়েছে। এতে করে বালাসী-তিস্তামুখঘাট থেকে বিভিন্ন আন্তঃনগর ও আন্তঃইউনিয়ন নৌপথে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রায় একই অবস্থা যমুনা নদীতেও। শুষ্ক মৌসুমের কারণে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর জনবহুল কালিতলাঘাট থেকে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘাটের আশপাশের আরো প্রায় ১০টি ঘাটের  নৌপথ বন্ধ।

বর্তমানে ফুলছড়ি-বালাসী, তিস্তামুখঘাট-বাহাদুরাবাদঘাট, গজারিয়া-গলনা, সিংড়িয়া-ঝানঝাইর, শুনভরি-কালাসোনা এবং আন্তঃজেলা নৌরুট ফুলছড়িঘাট-গুঠাইল, সৈয়দপুর-রাজীবপুর, তিস্তামুখঘাট-আমতলী এবং তিস্তামুখঘাট-কাজিপুর, সরিষাবাড়ি-কাজিপুর, মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া,  মেঘাই-রঘুনাথপুর, কাজিপুর-মনসুরনগর, মেঘাই-রূপসা, কাজিপুর-সিরাজগঞ্জ নৌপথে কোনো নৌকা চলাচল করছে না।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকার সার ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়া জানান, তিনি সরিষাবাড়ি থেকে নৌকায় সারিয়াকান্দি বাজারে সার নিয়ে আসতেন। এখন বালুচরে ঘোড়ার গাড়িতে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত খরচ বেড়েছে ৫০ টাকা।

সারিয়াকান্দির চরদলিকা গ্রামের কৃষক শামছুল আলম জানান, ফসল ভালো হলেও ভালো দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। কারণ এ অঞ্চলের নৌপথ সচল নেই। পণ্য পারাপারে পানিপথের জন্য ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। এতে করে পরিবহন খরচ বেড়ে গেলেও বেশি দামে আর বিক্রি করা সম্ভব হয় না। এতে করে লোকসান গুণতে হচ্ছে। এজন্য নদীগুলোর দ্রুত ড্রেজিং করার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয়রা জানান, একসময় প্রমত্তা যমুনা নদী দিয়ে ভারতের কলকাতা থেকে আসাম রাজ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপথ চালু ছিল। সেটি বন্ধ হয়েছে অনেক আগে। ১০ বছর আগেও অভ্যন্তরীণ নৌপথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল।

সেখানে সামান্য খরচে পণ্যবোঝাই জাহাজ চলাচল করত নিয়মিত। কিন্তু উজানের ঢলের পানির সঙ্গে আসা পলি-বালিতে যমুনার গভীর তলদেশ দিন দিন ভরাট হয়ে যাওয়ায় যমুনার আগের সেই নাব্যতা আর নেই।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ফারাক্কা বাঁধের ফলে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির সঙ্গে পলি ভেসে আসায় এ অঞ্চলের নদ-নদীগুলো পলিযুক্ত হয়ে পড়েছে। সমস্যাটা বড় হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।



রাইজিংবিডি//বগুড়া/১৭ মার্চ ২০১৭/এ কে আজাদ/রিশিত

Walton Laptop