ঢাকা, বুধবার, ১৩ বৈশাখ ১৪২৪, ২৬ এপ্রিল ২০১৭
Risingbd
Risingbd
সর্বশেষ:

সবাই জানত কোটিপতি সমাজসেবক, আসলে তিনি...

রেজাউল করিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-১৭ ১:৩৯:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-২২ ৩:৩৯:২৩ পিএম
র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে আটক মোজাহার (মাঝে চেক শার্ট) ও তার সহযোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : মোহাম্মদ মোজাহার। গ্রামের বাড়িতে সবাই তাকে কোটিপতি সমাজসেবক বলেই চিনেন। বসবাস করেন চট্টগ্রাম মহানগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বিলাসবহুল বাড়িতে।

মায়ানমার থেকে পাচার করে প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবার চালানের মূল মালিক হিসেবে র‌্যাব এই মোজাহারকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে মোজাহার জানিয়েছে, তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। তার এক ছেলে পড়ছে ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং আর এক ছেলে পড়ছে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স করা এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন কোটিপতি এক ব্যবসায়ীর ছেলের সঙ্গে। সবচেয়ে ছোট মেয়েটি চট্টগ্রামের একটি নামি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে পাস করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছে।

চট্টগ্রাম শহরে রয়েছে তার ছয় তলা বাড়ি। নিজেকে নামি বড় ব্যবসায়ী হিসেবেই সমাজে পরিচয় দেন মোজাহার। সবাই তাকে বাইরে থেকে নিতান্ত ভালো মানুষ হিসেবেই চিনেন। কিন্তু ভালো মানুষের মুখোশের আড়ালে বড় ইয়াবা ব্যবসায়ীর পরিচয় উন্মোচিত হলেন মোজাহারের।

চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ সোমবার রাইজিংবিডিকে বলেন, গত রোববারের অভিযানে আমরা ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বড় ইয়াবা চালান আটক করার পাশাপাশি এই সিন্ডিকেটের প্রধানকেও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এটি এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

র‌্যাব অধিনায়ক জানান, সিন্ডিকেট প্রধান মোজাহার, সিন্ডিকেট সদস্য জলিল প্রকাশ লবণ জলিল ও আব্দুর নূর  তিনজন মিলে গত চার মাসে ৭৬ লাখ ইয়াবা মায়ানমার থেকে দেশে নিয়ে আসে।   সর্বশেষ ২০ লাখ পিস ইয়াবার চালানটিও তারাই দেশে এনেছিল।  শুক্কুর, লাল মিয়া ও মগ সেন্সু নামে মিয়ানমারের তিন নাগরিক তাদের ইয়াবাগুলো সরবরাহ করেছিল।

তিনি জানান, গত ডিসেম্বর মাসে ১৬ লাখ এবং পরবর্তী তিন মাসে ২০ লাখ করে মোট ৬০ লাখ পিস ইয়াবা আনোয়ারার গহিরা উপকূলে খালাস করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় আরো ২০ লাখ ইয়াবার চালানটি সংগ্রহের জন্য গত ৭ এপ্রিল রাত ১০টায় মোহছেন আউলিয়া নামে একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে কর্ণফুলী নদী পথে যাত্রা করে ইয়াবা পাচারকারী একটি দল। তাদের সঙ্গে ছিল মিয়ানমারের নাগরিক মগ সেন্সু। তারা কর্ণফুলী নদী দিয়ে কুতুবদিয়া, কক্সবাজার, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন, ছেঁড়াদ্বীপের পশ্চিমে মায়ানমার সীমান্তে সেদেশের একটি তেলের জাহাজের কাছে যায়।  জাহাজটি থেকে ইয়াবা সিন্ডিকেটের প্রধান মোজাহারের ট্রলার মোহছেন আউলিয়ায় ২০ লাখ ইয়াবার চালানটি তুলে নেওয়া হয়।

এরপর ট্রলারটি টেকনাফের ছেঁড়াদ্বীপ হয়ে দক্ষিণ হাতিয়া দ্বীপের কাছে মোক্তারিয়া এলাকায় যায়। এরপর র‌্যাবের রাডারে সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে মধ্য সমুদ্র থেকে র‌্যাব ৭-এর একটি দল অভিযান চালিয়ে ট্রলারটি আটক করে তল্লাশি চালায়। এ সময়  ২০ লাখ পিস ইয়াবার সন্ধান পাওয়া যায়। জাহাজ থেকে আটক করা হয় আটজনকে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ২০ লাখ পিস ইয়াবার মূল মালিক মোজাহারকে আটক করে র‌্যাব।

আটক হওয়া অন্যরা হলো মোজাহারের ম্যানেজার মকতুল হোসেন (৫০) এবং সহযোগী  নূর (৩৭), মো. হেলাল (২১), মো. আবদুল খালেদ (৬০), মো. জানে আলম (৩২), মো. লোকমান (৫৯), এনায়েত উল্লাহ (৭২) ও নুরুল মোস্তাফা (২৬)। এদের মধ্যে মকতুল কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা। অন্যরা আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ও হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা।




রাইজিংবিডি/চট্টগ্রাম/১৭ মার্চ ২০১৭/রেজাউল/রুহুল

Walton Laptop