ঢাকা, বুধবার, ১৪ আষাঢ় ১৪২৪, ২৮ জুন ২০১৭
Risingbd
ঈদ মোবারক
সর্বশেষ:

সন্তানসহ গৃহবধূ নিখোঁজ, উধাও ‘শিকল পাগলও’

আশরাফুল আলম লিটন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৪-১৮ ৩:১১:১৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৪-৩০ ৭:১২:৫১ পিএম

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : গত এক মাসেও খোঁজ মেলেনি শিশু সন্তানসহ নিখোঁজ গৃহবধূ দুর্গা বিশ্বাসের।

ওই গৃহবধূ নিখোঁজের পেছনে ‘শিকল বাবার’ (শিকল পাগল) হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন দুর্গার স্বামী গৌরাঙ্গ বিশ্বাস।

তিনি মনে করেন শিকল পাগলকে খুঁজে বের করতে পারলেই তার স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া যাবে। স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজের ঘটনায় গৌরাঙ্গ বিশ্বাস গত ২০ মার্চ মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের মৃত অমূল্য বিশ্বাসের ছেলে দলিল লেখক গৌরাঙ্গের সঙ্গে চার বছর আগে দুর্গার বিয়ে হয়। দুর্গা ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর গ্রামের কালীপদ সরকারের মেয়ে। তাদের ঘরে রয়েছে এক বছরের কন্যা সন্তান। বাবা মার সঙ্গে স্ত্রীর অমিল থাকায় দুর্গাকে নিয়ে একই বাড়িতে আলাদা থাকতেন গৌরাঙ্গ। তবে গত কয়েক মাস ধরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস মঙ্গলবার রাইজিংবিডিকে জানান, গত ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রী সন্তানদের দেখতে পাননি গৌরাঙ্গ। স্ত্রীর মোবাইল ফোনসহ ঘরের ভেতর সকল জিনিসপত্র ঠিকঠাক রয়েছে। শুধু আলমারির ড্রয়ারে রাখা ১২ হাজার টাকা সেখানে নেই। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও স্ত্রী বাড়িতে না আসায় তিনি শ্বশুরবাড়িসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেন। কিন্তু কোথাও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরের দিনও তাদের অপেক্ষা শেষে হতাশ হয়ে তিনি সদর থানায় একটি জিডি করেন।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় কয়েকজন তার স্ত্রীকে কয়েকদিন আগে পার্শ্ববর্তী জয়নগর গ্রামে শিকল পাগলের আস্তানায় যেতে দেখেছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ মার্চ তিনি তার স্ত্রী সন্তানের ছবি নিয়ে শিকল পাগলের আস্তানায় যান। ছবি দেখেই শিকল পাগল তাকে বলেন,  ‘তুই দলিল লেখার কাজ করিস। বাবা মা থেকে আলাদা থাকিস। কয়েকমাস ধরে স্ত্রীর সঙ্গে তোর মনোমালিন্য হচ্ছে।” এমন কথা শুনে তিনি অবাক হয়ে যান। তখন তিনি মনে করেন শিকল পাগল আসলেই অনেক কামেল লোক। পরে তিনি শিকল পাগলকে অনেক অনুরোধ করেন তার স্ত্রীর সন্ধান করে দিতে। শিকল পাগল অনেক আঁকাবুকি করে বলেন,  ‘তোর স্ত্রীর অবস্থান এখন সিলেটে।’

সেই কথা শুনে তিনি ওই রাতেই সিলেট চলে যান। সিলেট গিয়ে তিনি তার স্ত্রীর খোঁজ পাননি। তারপর থেকে শিকল পাগলের মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে। পরের দিন বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি শিকল পাগলের আস্তানা। পাওয়া যায়নি শিকল পাগলকেও।

গৌরাঙ্গ আরো জানায়, তার মনে প্রশ্ন উঠেছে শিকল পাগল কিভাবে তার পরিবারের খুঁটিনাটি সব কথা জানলো। তার ধারণা স্ত্রী দুর্গার কাছ থেকেই সব জানতে পেরেছে শিকল পাগল। সমস্যা সমাধানের কথা বলে দুর্গাকে ভুল বুঝিয়ে কোনো নারী পাঁচারকারীর কাছে সন্তানসহ বিক্রি করে দিয়েছে। কেননা তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন শিকল পাগলের বিরুদ্ধে এর আগেও এই ধরনের ঘটনার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিকল পাগল মূলত একজন প্রতারক। তার বাড়ি মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার ভাওইপাড়া এলাকায়। বাবা মৃত নেপাল মুন্সী। শিকল পাগলের আসল নাম রহমান। ডাক নাম মঙ্গল। বর্তমানে বাড়িতে থাকেন বৃদ্ধ মা আর ছোট ভাই আব্দুল খালেক।

শিকল পাগলের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী খাদিজা বেগম জানান, মঙ্গল বাড়িতে থাকে না। তবে শোনেছেন গায়ে শিকল পরে বিভিন্ন স্থানে আস্তান গেড়ে থাকে। মানুষের চিকিৎসা করে।

তিনি জানান, তার হিসাবে মঙ্গল কমপক্ষে ১৫টি বিয়ে করেছে। বেশ কয়েকজ সন্তানও আছে। তবে স্ত্রী সন্তানরা কেও ওই বাড়িতে থাকে না।

দুর্গার বাবা কালীপদ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও মেয়ের নিখোঁজের কারণ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি। তবে তিনি জানান দুর্গার সঙ্গে গৌরাঙ্গের একটু মনোমালিন্য ছিল। কিন্তু এর সঙ্গে নিখোঁজের সম্পর্ক আছে কি না তাও বলতে পারেননি তিনি।

গৌরাঙ্গের দায়ের করা জিডির তদন্ত করছেন সদর থানার এসআই ইদ্রিস আলী।

তিনি জানান, দুর্গার নিখোঁজের খবর সব থানায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তার মোবাইল ফোনের কললিস্ট অনুসন্ধান করে জানা গেছে দুর্গা যেদিন নিখোঁজ হন (১৯ মার্চ) সেদিন দুদফায় সে শিকল পাগলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছে। সবকিছু অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।



রাইজিংবিডি/ মানিকগঞ্জ/ ১৮ এপ্রিল ২০১৭/ আশরাফুল আলম লিটন/রুহুল

Walton Laptop