ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

ভোলার চামড়া ব্যবসায়ীরা লোকসান আতঙ্কে

ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৯-১১ ১০:৪৭:৫১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৯-১১ ১১:০৭:০২ পিএম

ভোলা প্রতিনিধি : ‘লাভের আশায় গত বছর চামড়া কিনেছি. কিন্তু লাভ তো দূরের কথা চালান ওঠেনি। এ বছরও চামড়া কিনে লোকসানের মুখে। দুই বছরে ১৪ লাখ টাকার চামড়া কিনে ক্ষতির মুখে রয়েছি।’  

ক্ষোভের সঙ্গে এ কথা বলছিলেন চামড়ার আড়ৎদার ইসমাইল হোসেন। তিনি জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর ব্যবসায়ে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। একদিকে লবণের দাম বেশি, অন্যদিকে পাইকারি আড়তে দাম কম থাকায় চামড়া নিয়ে সংকটে পড়েছেন ভোলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। কোরবানির পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও চামড়া বিক্রি করেননি ব্যবসায়ীরা, এভাবে চলতে থাকলে অবশেষে চামড়া পচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

খুচরায় চামড়া কিনে এমন সংকটে শুধু ইসমাইল হোসেন নয়, তার মতো একই অবস্থা ইউসুফ, নুরউদ্দিন, আজিজল হক, টুয়েল, কামাল হোসেন ও নুরুকশাইসহ অন্য ব্যবসায়ীদেরও। 

এ মৌসুমে যেমন চামড়ার পাইকারি বাজার মন্দা, তেমনি লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কম, আবার ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনলেও বাকিতে নিতে চান, তাই ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করছেন না। 

ভোলা জেলা সদরসহ সাত উপজেলার শতাধিক চামড়া ব্যবসায়ী ও অর্ধশতাধিক আড়ৎ থাকলেও এ বছর তারা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। শুরুতে খুচরা বাজার থেকে বেশি দাম দিয়ে চামড়া কিনে সেই দাম পাবেন কি না- তা নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর যেখানে চামড়ার দাম ছিল প্রতি পিস ৩০০/৩৫০ টাকা, সেই চামড়া এ বছর খুচরা বাজারে কিনতে হয়েছে ৫০০ টাকা দরে। লবণ ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে চামড়ার দাম পড়েছে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু পাইকারি বাজারে দাম ৭০০/৮০০ টাকার মতো। এতে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর প্রতি বস্তা লবণের মূল্য ছিল ১২০০ টাকা।  বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ টাকা দরে। সেখানে খুচরা পর্যায়ে চামড়ার দাম বেড়েছে, সেখানে বেড়েছে লবণের দামও। তাই লাভ তো দূরের কথা লোকসান গুনতে হবে অনেক ব্যবসায়ীর। 

ভোলা শহরের কালীনাথ রায়ের বাজারের চামড়া আড়ৎ ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা লবণ দিয়ে চামড়া প্রস্তত করছেন। বেশিরভাগ আড়তে চামড়া সাজানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা চামড়া প্রস্তত করে মজুত করে রেখেছেন। ঈদের পর কেটে গেছে ৮/৯ দিন। গত বছর এমন সময় চামড়ার কেনা-বেচা জমে উঠলেও এ বছর লোকসানের চিন্তায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি করেননি।

এ ব্যাপারে ভোলার চামড়া আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ বলেন, গত বছর লোকসান হওয়ায় এ বছর মাত্র ৩৫০টি চামড়া কিনেছেন।  পাইকারি আড়তে এখন দাম কম। তাই বিক্রি না করে আড়তেই চামড়া রাখা হয়েছে। বাজারে দাম বাড়লে বিক্রি করবেন, নাহলে কয়েক দিন পর লোকসান দিয়ে বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ চামড়া ব্যবসায়ীর একই অবস্থা। চামড়া বিক্রি না করে বেশি দামের আশায় মজুদ করে দিয়েছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে।



রাইজিংবিডি/১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭/ফয়সল বিন ইসলাম নয়ন/বকুল

Walton
 
   
Marcel