ঢাকা, বুধবার, ৬ আষাঢ় ১৪২৫, ২০ জুন ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

‘মা নেপালে পৌঁছেই তোমাকে ফোন দেব’

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৩ ১০:৪৮:০১ এএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-১৩ ২:০৪:০৪ পিএম

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা : ‘আলিফ নেপালে পৌঁছে মাকে ফোন দেওয়ার কথা বলেছিল, সে জানিয়েছিল- ‘মা নেপালে পৌঁছেই তোমাকে ফোন দেব, কিন্তু সে আর ফোন দিতে পারেনি।’

বলেন নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার বিমানের যাত্রী আলিফুজ্জামান আলিফ (৩০ এর বড় ভাই মো. আশিকুর রহমান হামিম। আজ মঙ্গলবার সকালে আলিফদের বাড়িতে গেলে হামিম এ কথা বলেন।

হামিম জানান, এটিই ছিল সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় যশোর থেকে বিমানে ঢাকায় যাওয়ার পথে মায়ের সঙ্গে তার শেষ কথা।

আলিফুজ্জামান আলিফ খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি গ্রামের বারোপূর্ণের মোড় সংলগ্ন জিরোপয়েন্ট মসজিদের বিপরীতে (আইচগাতি স্কুল রোড) মোল্লা মো. আক্তারুজ্জামানের পুত্র। তিনি খুলনার বিএল কলেজ থেকে এবার মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড খুলনা জেলা শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত।

আজ সকাল পৌনে ৮টার দিকে আলিফদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় একটি শোকাহত পরিবেশ। স্বজন ও প্রতিবেশিদের ভিড়। তৃতীয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন অবিবাহিত আলিফ। ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে আলিফের ছোট বাবা (চাচা) মো. বাবর আলীর দিকে। আদরের ভাইপোর শোকে মূহ্যমান তিনি। একাধারে কেঁদেই চলেছেন, আর আলিফের সঙ্গে তার বিভিন্ন স্মৃতির কথা আওড়াচ্ছেন। বলছেন, ‘আমাকে আর কে চাচা বলে ডাকবে, আমার বুকের মানিক তুই কেন নেপালে গেলি- ইত্যাদি।

আলিফের খালাতো বোন রাহিমা আক্তার শান্ত বলেন, ‘সংবাদ শোনার পর মঙ্গলবার সকাল ৮টার ফ্লাইটে তার খালু শাহাবুর রহমান নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তিনি পৌঁছানোর পরই তারা সঠিক তথ্য জানতে পারবেন।’

রাহিমা জানান, বিমান দুর্ঘটনার খবর শোনার পর আলিফের অসুস্থ বাবা আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আর মাও বাকরুদ্ধ। কেউই কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলিফ স্থানীয় বেলফুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং খুলনার আহসান উল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়। এরপর ২০০৭ সালে সে কাজের সন্ধানে সৌদিতে যায়। সেখানে ২০১০ সালে ফিরে ফের খুলনা সিটি কলেজে ভর্তি হয়ে ডিগ্রি পরীক্ষা দেয়। সর্বশেষ সে খুলনার বিএল কলেজ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এখনও কয়েকটি পরীক্ষা বাকি রয়েছে।

আলিফের বড় ভাই হামিম বলেন, ‘আলিফ রাজনীতি এবং ঠিকাদারি করতো। তার কোন শত্রু ছিল না। তার ভবিষ্যত ইচ্ছা ছিল সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করা।’

হামিম জানান, আলিফের বন্ধুরা নেপালে চলমান বাণিজ্য মেলায় স্টল দিয়েছে। সেখানে বেড়াতে যাওয়ার জন্যই আলিফ ৪ দিনের সফরে নেপাল যায়।

আলিফের নিকটাত্মীয় মো. সাব্বির খান দ্বীপ জানান, আলিফ নেপাল ভ্রমণের জন্য সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়। সে যশোর থেকে প্রথম ফ্লাইটে বেসরকারি এয়ারওয়েজ নভো এয়ারে ঢাকায় যায়। সে দুপুর পৌনে ১টার দিকে ইউএস-বাংলার বিমানে (ফ্লাইট বিএস ২১১) ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয় নেপালের উদ্দেশ্যে। সে বিমানের সর্বশেষ আসনে ছিল। নেপালের স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডুতে নামার সময় পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারালে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।

এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে আলিফদের আইচগাতির বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশিসহ উৎসুক জনতার ভিড় জমে গেছে।



রাইজিংবিডি/খুলনা/১৩ মার্চ ২০১৮/মুহাম্মদ নূরুজ্জামান/টিপু

Walton Laptop