ঢাকা, বুধবার, ৫ পৌষ ১৪২৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

স্বপ্ন পূরণ হলো না ১১ নেপালি শিক্ষার্থীর!

নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৩ ৮:৩৮:৫৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-১৪ ১১:১২:৩৬ এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট : মানবসেবার স্বপ্ন নিয়ে ‘হিমালয় কন্যারা’ নেপাল থেকে ডাক্তারি পড়তে এসেছিলেন বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় শহর ‘প্রকৃতি কন্যা’ সিলেটে। শহরের প্রথম বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস কোর্সের ফাইনাল প্রুফও শেষ করেছেন।

মাস দুয়েক পরে কোর্সের সার্টিফিকেটও হাতে পেয়ে যেতেন। এরপর নেপালে ফিরে গিয়ে মানবসেবায় নিয়োজিত করতেন নিজেদের। তবে এই শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট পাওয়া আর হচ্ছে না। একটি দুর্ঘটনায় আজ তারা সবাই ইহলোক ছেড়েছেন।

গত সোমবার দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে ইউএস-বাংলা এয়ারওয়েজের দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের যাত্রীর মধ্যে ছিলেন রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থী। তারা সবাই কলেজের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

তবে, তাদের মধ্যে শামিরা বেনজারখার ও প্রিঞ্চি ধনি গুরুতর আহত হয়ে নেপালের কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে প্রকাশিত জীবিতদের নামের তালিকা থেকে জানা গেছে। অন্যরা হচ্ছেন- সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্ণিমা  লোহানি, শ্রোতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠ, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল ও আশ্রা শখিয়া।

১১ শিক্ষার্থীকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান তাদের ক্যাম্পাস। শোকাহত পুরো সিলেটও। কলেজেও চলছে তিন দিনের শোক পালন। মঙ্গলবার সকাল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা সবাই কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন। বন্ধ ছিল ক্লাস-পরীক্ষাও। তাছাড়া অর্ধনমিত রাখা হয়েছে কলেজের পতাকাও।

নিজ দেশের শিক্ষার্থীদের হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজের নেপালি অন্য শিক্ষার্থীরাও। কলেজের নেপালি শিক্ষার্থী ইতিশ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, রোববার বেলা ২টায় তারা একসঙ্গে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ তারা নেই। এটি ভাবতে পারছেন না তিনি।’



পান্ডে নামের তাদের আরেক সহপাঠী জানান, এসব নেপালি শিক্ষার্থীকে তিনি নিজে গাড়ি তুলে দিয়ে এসেছেন। তারও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, কাজ থাকায় তার যাওয়া হয়নি। তিনি জানান, এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের পাশাপাশি নেপালে অবস্থানরত তাদের স্বজনরাও অনেকটা ভেঙে পড়েছেন।

কলেজের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা জানান, নেপালি শিক্ষার্থীরা খুব কম সময়ে বাংলা ভাষা বুঝতে ও বলতে পারতেন। ফলে কম সময়ে তারা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতেন। তারা খুব মিশুক ছিলেন। ছোটদের অনেক স্নেহ এবং বড়দের সম্মান করতেন। বিশেষ করে গত রোববার শেষ পরীক্ষা পরে অনেক উৎফুল্ল দেখা গেছে তাদের।

কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আবেদ  হোসেন জানান, ‘চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষে ফলাফল প্রকাশের জন্য দুই মাসের মতো সময় লাগে। সাধারণত ফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত কোনো অ্যাসাইনমেন্ট থাকে না। তাই ওই সময়ে সবাই নিজেদের বাড়িতে চলে যায়। গত রোববার রাতে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসে করে সিলেট থেকে ঢাকা যান ওই ১৩ শিক্ষার্থী। কলেজের গাড়ি করে তাদের বাসে তুলে দেয়।’

কলেজ সূত্র জানায়, বর্তমানে ২৫০ জন নেপালি শিক্ষার্থী কলেজে অধ্যয়নরত। সদ্য চূড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া ১৯তম ব্যাচের ১৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জনই ছিলেন নেপালি। এর মধ্যে পরীক্ষার পরবর্তী ছুটিতে এই ১৩ জন শিক্ষার্থী নিজেদের দেশে যাচ্ছিলেন। সোমবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা।

নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটিতে যাত্রীদের মধ্যে ৩২ জনই বাংলাদেশের ছিলেন। ওই ফ্লাইটের মোট ৬৭ জন যাত্রীর মধ্যে ৩৩ জন নেপালের, একজন করে মালদ্বীপ ও চীনের নাগরিক ছিলেন। এছাড়া চারজন পাইলট ও ক্রু ছিলেন বিমানে।



রাইজিংবিডি/ সিলেট/১৩ মার্চ ২০১৮/নোমান/মুশফিক

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC