ঢাকা, সোমবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

গ্যাস সিলিন্ডার নাকি মৃত্যু ফাঁদ!

সৌরভ পাটোয়ারী : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১৯ ২:২৩:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-১৯ ৪:৪৯:৩৬ পিএম

ফেনী সংবাদদাতা: কোন নিয়মনীতি ছাড়াই ফেনী শহরের যত্রতত্র চলছে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা। এসব দোকানীদের কাছে সতর্কতা বলতে কিছুই নেই। ইচ্ছে হলেই যে কেউ এই ব্যবসা ফেঁদে বসছেন।

ফলে অনেকেই আতঙ্কে ভূগছেন এই সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের নিয়ে। অনেকেই অভিযোগ করছেন সিলিন্ডার বিক্রির কোন অনুমতি বা লাইসেন্সও এসব ব্যবসায়ীদের নেই। এমনকী মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারে গ্যাস বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

প্রকাশ্যে যেখানে-সেখানে বিক্রি হলেও এসব বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেও এ ব্যাপারে টু-শব্দটি করতে দেখা যাচ্ছেনা। এ ব্যাপারে প্রশাসন থেকে সতর্কতামূলক প্রচারণাও নেই। ফলে অঘটন ঘটে যাওয়া একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।

এক হিসেবে ফেনীতে প্রতিমাসে আবাসিক-অনাবাসিক মিলিয়ে অন্তত ২০ হাজার গ্রাহক সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন। এবং দিন দিনই বাড়ছে এর ব্যবহার। এক শ্রেণির পরিবেশক তাদের বিক্রি টার্গেট পুরণে এবং অধিক মুনাফার আশায় যত্রতত্র এ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এ ব্যবসা চালাচ্ছেন। ফেনীতে ২৫-৩০ জন পরিবেশক এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য সরবরাহ করছেন।

অনেকেই এই ঝুঁকি রোধে ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সতর্কভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বেচাকেনার প্রয়োজন অনুভব করছেন। এ ব্যাপারে আইনেরও কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, একাডেমি সড়ক, ট্রাঙ্ক রোডসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে, মার্কেটের সামনে, হার্ডওয়্যার দোকানে, সড়কের উপর, দোকানের সামনে, খোলা আকাশের নিচে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে বিক্রি করা হচ্ছে।

এছাড়াও গ্রামের মুদি-মনোহরীর দোকানঘরেও চলছে এর বেচাকেনা। চা-দোকান থেকে শুরু করে মুদি দোকান, ফার্মেসি, স্টেশনারি দোকান, এমনকী মোবাইল ফোন রিচার্জের দোকানেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।

আবাসিকে ১২ কেজি ওজনের এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অনাবাসিকে ৩৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার হকে দেখা যায়। এসব সিলিন্ডার কয়েকদফা রিফিলের পর এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারপরও চলে এর ব্যবহার।

গ্রাহকরা জানান, ২/৩ বছর ব্যবহারের পর সিলিন্ডারগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়লেও কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা তাতে রং করে ফের বাজারজাত করেন। ফলে বাড়ছে অগ্নিকান্ড ও মৃত্যুর ঝুঁকি।

সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীর ট্রাংক রোডে একটি হার্ডওয়ার দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ আগুনে এক দোকান কর্মচারীর মৃত্যু ও কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ছাড়া দাগনভূঞার জায়লস্কর, সোনাগাজী ও পরশুরামসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে ছোট-বড় একাধিক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

না প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতা জানান, বেশ কয়েকটি নামী-দামী কোম্পানির সিলিন্ডারও বছরের পর বছর রিফিলের ফলে এখন ঝুঁকিপূর্ণ।

ফেনী জেলা লিকুয়িড প্রেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবেশক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ফটিক জানান, নিয়ম মোতাবেক একটি সিলিন্ডার ৫ বছরের অধিক সময় ব্যবহার না করতে বলা হলেও ফেনীর হাট-বাজারে ১০ থেকে ১৫ বছর আগের সিলিন্ডারও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী পরিত্যক্ত সিলিন্ডার মেরামত ও রং করে নতুনভাবে বাজারজাত করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে করে দিন দিন জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে।

ফেনী জেলা লিকুয়িড প্রেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সানা উল্ল্যাহ ফয়সাল জানান, ফেনীতে বিভিন্ন কোম্পানির ১৮ জন ডিলার রয়েছেন। এর বাইরে অনেক খুচরা ব্যবসায়ীও রয়েছেন। প্রতিমাসে ১৮ হাজারেরও বেশি বোতলজাত গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ না থাকায় দূর্ঘটনা ঘটছে।

ফেনী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ কবির হোসেন জানান, ফেনীতে বিস্ফোরণ ও ফায়ার সার্ভিস অনুমোদিত বোতলজাত গ্যাসের ডিলার রয়েছে মাত্র ৮/১০ জন। এর বাইরে অবৈধভাবে যত্রতত্র এই ব্যবসা প্রায় পাঁচশতাধিক দোকানী। এতে করে অগ্নিকান্ডসহ মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েছে। এসব বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে।




রাইজিংবিডি/ফেনী/১৯ জুন ২০১৮/সৌরভ পাটোয়ারী/টিপু

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC