ঢাকা, সোমবার, ৩ পৌষ ১৪২৫, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

সিএমপি কমিশনারের ব্রিফিং : অনিক হত্যায় কেউ ছাড় পাবে না

রেজাউল করিম : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৬-২৬ ৪:০৬:৪৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৬-২৬ ৫:৪১:৫৬ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার চট্টেশ্বরী রোড এলাকায় অনিক হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা বড়ভাই ছোটভাই কেউই ছাড় পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান।

কলকাতা এবং কুমিল্লা থেকে অনিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত চার আসামিকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার দুপুরে দামপাড়া পুলিশ লাইন মাল্টিপারপাস শেডে প্রেস ব্রিফিংয়ে সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান এ মন্তব্য করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিএমপি কমিশনার বলেন, সামান্য মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় গায়ে হাওয়া লাগাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অনিককে হত্যা করা হয়। এই মামলার প্রধান আসামি কলকাতা পালিয়ে গিয়েও রক্ষা পায়নি। কলকাতা পুলিশের সহায়তায় প্রধান আসামি তুষারসহ দুজনকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চট্টগ্রামে ফিরিয়ে আনার পর তুষারকে জিজ্ঞাসাবাদে তার স্বীকারোক্তি মতে তার বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এই মামলার আরও দুই আসামিকে সোমবার গভীর রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদেরকেও চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে। অপর আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ড আমাদের কাছে মেইন কনসার্ন। কোনো হত্যাকারী রাজনৈতিক পরিচয়ে আমাদের কাছে ছাড় পাবে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত কোনো বড়ভাই ছোটভাইও ছাড় পাবে না। চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেসব হত্যাকাণ্ডের সব আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলে পুলিশ কমিশনার জানান।

সংবাদ মম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) কুসুম দেওয়ান, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) শ্যামল কুমার নাথ, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসাইন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তারকৃত অনিক হত্যার দুই আসামিকে হাজির করা হয়।



উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন রাতে চট্টেশ্বরী এলাকায় গাড়ির হর্ন বাজানোর মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবু জাফর অনিককে (২৬) প্রকাশ্যে গুলি করে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। মহিউদ্দিন তুষাষের নেতৃত্বে ১০-১২টি মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা অনিককে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এর পর মূল আসামি তুষারকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা শুরু করলে তুষার তার এক সহযোগীসহ কলকাতায় পালিয়ে যায়। কলকাতায় পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি চট্টগ্রাম নগর পুলিশ জানতে পেরে কলকাতা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরে গত শুক্রবার রাতে কলকাতা পুলিশ কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকা থেকে অনিক হত্যার প্রধান আসামি তুষার ও তার অপর সহযোগিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সোমবার বেনাপোলে দুই আসামিকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এর পর কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আসামিদের গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল প্রধান আসামি তুষারের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, অনিক হত্যাকাণ্ডে নগরীর চকবাজার থানায় তুষারকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যামামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামিরা হলো- মহিউদ্দীন তুষার (৩০), মিন্টু (৩২), ইমরান শাওন (২৬), ইমন (১৬), শোভন (২৪), রকি (২২), অপরাজিত (২২), অভি (২১), বাচা (২২),  এখলাস (২২), দুর্জয় (২১) এবং অজয় (২১)।



রাইজিংবিডি/চট্টগ্রাম/২৬ জুন ২০১৮/রেজাউল/মুশফিক

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC